প্রথমবার্তা, রিপোর্ট:   বর্তমান বিশ্বে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে একটি দিন কাটানোর কথা কল্পনাও করা যায়না। সারাবিশ্ব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৯ সালের মধ্যেই সারা বিশ্বে প্রায় ২শ ৭০ কোটি মানুষ স্মার্টফোন ডিভাইস ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪শত ৬৮ কোটি মানুষ, যা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ।জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্স প্রকাশিত বৈশ্বিক তথ্যানুযায়ী, সারাবিশ্বে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মোট পরিসংখ্যান ইতোমধ্যে পাঁচ বিলিয়নের মাইলফলকে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত হয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৯৭.২৩ শতাংশ।

 

 

 

 

 

 

 

 

অবশ্যই মোবাইল ফোন, বিশেষত স্মার্টফোনগুলোতে পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাত্ক্ষণিক যোগাযোগ, নেটওয়ার্ক তৈরি, বিনোদন, ক্যামেরা, জিপিএস, শিক্ষা, ডাটা সংরক্ষণ, গোপনীয়তা, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদির অবিশ্বাস্য সুবিধা রয়েছে। তবে মানুষজন নানা ধরনের অ্যাপনির্ভর স্মার্টফোনগুলোতে দিন দিন প্রচণ্ড পরিমাণে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।আসুন, জেনে নেই কিভাবে আপনার স্মার্টফোন আপনাকে নীরবে ঘাতকের ভূমিকায় রয়েছে-

 

 

 

 

 

 

 চোখের ওপর চাপ

টাইপ অথবা কিছু পড়ার সময় লোকজন প্রায়ই স্মার্টফোনের ছোট পর্দার ফন্টের দিকে দীর্ঘসময় ধরে তাকিয়ে থাকে, যা চোখের জন্য ক্ষতিকারক। যদি এরকম নিয়মিতভাবে করতে থাকে, তবে এর কারণে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, চোখের ওপর চাপ, মাথা ঘোরানো ইত্যাদি হতে পারে।চোখের ওপর ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে মুখ থেকে ন্যূনতম ১৬ ইঞ্চি দূরত্বে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় প্রতি ২০ মিনিটের পর কিছুটা বিরতি নেয়ার চেষ্টা করুন এবং মোবাইল স্ক্রিন থেকে আপনার দৃষ্টি কোনো দূরের স্থানে স্থানান্তর করুন। চোখে কোনো ধরনের চাপ অনুভব করলে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি

আপনি হয়তো জানেন যে, মোবাইল ফোনে ক্ষতিকর ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন রয়েছে।  ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রো ওয়েভ রেডিয়েশনের প্রভাবের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ব্রেইন টিউমার বা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য ব্রেইন টিউমার বা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘসময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 ঘাড় ও পিঠে ব্যথা
<বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা তাদের স্ক্রিনে টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করতে থাকে। এসময় দীর্ঘক্ষণ একইরকমভাবে বসে বা শুয়ে থাকার কারণে ঘাড় ও পিঠের পেশীতে টান পড়তে পারে। ঘাড় ও পিঠে ব্যথার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় আপনার শরীর ও মেরুদণ্ড সঠিকভাবে রাখুন।