প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :যারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্তি ওজনের কারণে চিন্তায় রয়েছেন, আবার নিয়মিত জিমে যাওয়ারও সুযোগ পান না, তারা কী করবেন? সেক্ষেত্রে তাদের নিয়মিত অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি তো করতেই হবে, সেই সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এই ৬টি খাবার। এমনটা করলে মেদ তো ঝরবেই, সেই সঙ্গে আরও অনেক উপকারও মিলবে। আসুন জেনে নেওয়া যাক এক্ষেত্রে কোন কোন খাবারগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে…

১. ব্রকলি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনির্ভাসিটির গবেষকদের করা এক স্টাডিতে দেখা গেছে ব্রকলির মতো ডায়াটারি ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি বেশি করে খেলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই উপাদানটি মানব শরীরে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম ক্ষমতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে শরীরে মেদ জমার সুযোগই পায় না। প্রসঙ্গত, রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগের মতো সমস্যাকে দূরে রাখতেও ফাইবার বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২. পেঁপে
এই ফলটির অন্দরে রয়েছে পেপেইন নামক একটি উপাদান, যা ফ্যাট সেলদের গলিয়ে মেদ ঝরাতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান এবং অতিরিক্ত পানিকে বের করে দিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে খালি পেটে যদি অল্প করে পেঁপে খাওয়া যায়, তাহলে আরো দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। কারণ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকে। ফলে শরীরে ক্যালরির প্রবেশ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা হ্রাস পায়।

৩. ওটস মিল
এক চামচ ওটস মিলের সঙ্গে তিন চামচ পানি, এই রেশিয়োতে বানিয়ে নিয়মিত সকালবেলা খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই খাবারটিতেও রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার, যা হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। ফলে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, বরং কমতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, ওটস মিলে লেসিথিন নামক একটি উপাদান থাকে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. অ্যালোভেরা এবং লেবু
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধি এই দুটি উপদানকে একসঙ্গে গ্রহণ করা হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মারাত্মক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে। তাই তো প্রতিদিন খালি পেটে লেবুর রস এবং অ্যালোভারা জেল খেলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল এই দুটি উপাদানকে মিশিয়ে মিশ্রনটি বানাবেন কীভাবে? এক্ষেত্রে এক চামচ অ্যালোভেরা জেল, এক গ্লাস জলে মেশানোর পর তাতে একটা লেবু চিপে দিতে হবে। তারপর ভাল করে সবকটি উপাদান মিশিয়ে পান করতে হবে।

৫. সবজির রস
আদা, গাজর অথবা করলার রস প্রতিদিন খালি পেটে খাওয়া শুরু করলে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ এই সবজিগুলির অন্দরে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান হজম ক্ষমতার উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর যেমনটা এতক্ষণে জেনেই গেছেন যে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটলে শরীরে মেদ জমার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৬. আপেল
অতিরিক্তি ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত একটা করে আপেল খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। কারণ এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ফাইবার। তাই তো খালি পেটে একটা করে আপেল খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারে বারে খাওয়ার প্রবণতা কমে। আর কম পরিমাণে খাবার খাওয়ার কারণে ওজনও কমে দ্রুত।

৭. দারুচিনি
ওজন কমাতে দারুচিনি সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। এটি শরীরের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। নিয়মিত দারুচিনি খেলে খিদে কমে যায় এবং মেদ গলতে শুরু করে। পেটের রোগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, যক্ষ্ণা এবং ক্যান্সারেও দারুচিনি উপকারি। ১ থেকে ৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো বিপাকে দ্রুত ভূমিকা রাখে, যা শরীরে সামগ্রিকভাবে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

৮. আদা
ওজন কমাতে আদার জুড়ি মেলা ভার। গবেষণায় জানা গেছে, ডায়বেটিসের সমস্যাতে আদা খুব কাজে লাগে। পেট পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও এটি উপকারি। আদা পাচনতন্ত্রে জমে থাকা খাবার পরিষ্কার করে দেয়। ফলে চর্বি কম জমায় ওজন বাড়ে না।

৯. লাল মরিচ
লাল মরিচে ক্যাপসিক্যাম নামে যৌগ থাকে, যা ওজন কমানোর পাশাপাশি ক্ষুধাও নিয়ন্ত্রণ করে। গবেষণায় জানা গেছে, লাল লঙ্কা মেটাবলিজম বাড়ায়, যার ফলে বেশি ক্যালরি বার্ন হয়।

১০. জিরা
বদহজম, পেট ফোলা এবং খাবারে অরুচি হলে জিরা খান। পাইলস হলে মিছরির মধ্যে জিরা মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন। জিরা আমাদের শরীরে অনাক্রম্যতা বৃদ্ধি করে। তাই এটি নিয়মিত খেলে ওজন কমে।

১১. নারকেল তেল
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মহিলা ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ করে নারকেল তেল খান তাদের তলপেটের চর্বি কমে। মেটাবলিজম বাড়ায়। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

১২. সামুদ্রিক মাছ
খাবারের তালিকায় সামুদ্রিক মাছ বিশেষ করে স্যামন বা টুনা মাছ মেদ কমানোর জন্য খুবই উপযোগী। এসব সামুদ্রিক মাছে থাকে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। এ এসিড মেদ বৃদ্ধিতে দায়ী চর্বিকে পোড়াতে এবং শরীরে ভালো চর্বির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। সামুদ্রিক মাছ থেকে যে ফ্যাট পাওয়া যায়, তার নাম ‘পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’। তাই বাদাম ও জলপাই তেলের মতো সামুদ্রিক মাছের ফ্যাটও ওজন কমাতে ভূমিকা রাখে।

১৩. সবুজ চা
সবুজ চা ওজন কমানোর জন্য খুব সহায়ক। এর প্রতিটি দানায় রয়েছে মানুষের শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক পলিফেনল ও কোরোজেনিক এসিড। এটি হজম ক্ষমতা বাড়ায় যা শরীরের ওজন কমানোর প্রধান শর্ত।

১৪. কুসুমহীন ডিম
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতায় ডিম খেলে তা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন বি ১২, যা দ্রুত চর্বি কমাতে সহায়তা করে। যারা নিয়মিত ডায়েট করেন, তারা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি করে ডিম রাখতে পারেন। তবে ডিমের কুসুম এড়িয়ে চলা ভালো।

১৫. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল হচ্ছে ৮৫ শতাংশ অয়েলিক এসিড, যা পরিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ অলিভ অয়েল খাওয়ার অভ্যাস করলে তা শরীরে মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

১৬. যব
যবে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা দ্রুত ওজন কমায়। যারা খুব বেশি ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগছেন, তারা প্রতিদিনের নাস্তায় যব রাখতে পারেন।

১৭. আখরোট
আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাট আলফা-লিনোলেনিক এসিড যা দেহের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

১৮. ইসবগুল
ইসবগুলে রয়েছে মিউসিলেজ ও হলোসাইড প্ল্যানটিওসসহ বিভিন্ন ধরনের এমাইনো এসিড। এসব এসিড আমাশয় দূর করে। রোজ রাতে শোয়ার আগে ইসবগুল খেলে ওজন অনেকটাই কমে যায়।

১৯. এলাচ
এতে রয়েছে টর্পিন, টর্পিনিনোল, সিনিওল, টর্পিনিল এসিটেট নামক রাসায়নিক যা শরীরের ওজন কমাতে কাজ করে।

২০. মৌরি
মৌরি খেলে পাচনতন্ত্র আরও ভালো হয় এবং খিদেও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া মৌরি লিভার পরিষ্কার রাখে।

২১. সিদ্ধ আলু
ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় আলু বেশ সহায়ক। তাছাড়া স্বাস্থ্যের জন্যও এটি বেশ উপকারী। একেকটি খাবার খাওয়ার স্বাদ এবং তা খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূত হওয়ার মধ্যে তারতম্য রয়েছে। এরমধ্যে সিদ্ধ আলু খেলে অল্পতেই পেট ভরে যায় এবং অনেকটা সময় ক্ষুধা লাগে না। তাই বেশি খাওয়ার প্রয়োজনও হয় না। আলুতে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ এবং আঁশ থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ওজন কমাতে সহায়ক।

২২. অ্যাভোকাডো
স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর অ্যাভোকাডো।  রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘মোনোআনস্যাচারেইটেড অলিক অ্যাসিড’ যা পাওয়া যায় জলপাই তেলে।
এ কারণে সালাদ তৈরিতে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করা উপযুক্ত। এতে পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায় প্রায় ১৫ গুণ।

২৩. অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
কার্বোহাইড্রেইড সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে খানিকটা অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে নিলে জলদি পেট ভরে যায় বলে খাওয়ার পরিমাণও কমে আসে। তাছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ে যারা সমস্যায় ভোগেন তাদের জন্যও এই ভিনিগার বেশ উপকারী। কারণ খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি বেশ কার্যকর।