প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  জীবন চালাতে মানুষ কত কিছুই না করে! প্রযুক্তি উন্নয়ন আর আধুনিকতা নতুন নতুন পেশার জন্ম দিয়েছে। আবার প্রাচীন আমলের অনেক পেশাই এখনও প্রতাপের সঙ্গে টিকে রয়েছে।

 

এদের মধ্যে এমন কিছু পেশা রয়েছে যা আমাদের কাছে অনেক বিদঘুটে এবং অদ্ভুত মনে হয়। পাশের দেশ ভারতেই এমন কিছু অদ্ভুত পেশা এখনও টিকে রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পেশার দেখা আমাদের দেশেও মাঝে মাঝে মেলে। এগুলো বেশ অপ্রচলিত পেশা। কিন্তু এখনও টিকে রয়েছে। জেনে নিন তাদের কথা।

 

১. কান সাফাইকারী
এখনও রমনা পার্ক বা বিভিন্ন পার্কে গেলে এদের দেখা পেতে পারেন। সেখানে আয়েশ করে লোকেরা বেঞ্চিতে বসে থাকেন। আর একজন কান সাফাইকারী তার ছোট ব্যাগের মধ্য থেতে ছোট ছোট যন্ত্রপাতি বের করে কান পরিষ্কার করে দেন।

 

যার কান সাফাই হচ্ছে তিনি বেশ আরাম পান। তবে এই পেশাদারদের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। ভারতেও এ পেশায় অনেকজনকে পাওয়া যায়। তারা অবশ্যই একাজে দক্ষ।

 

২. মৃহদেহের ফটোগ্রাফার
আপনি হয়তো জানেন, এটা পেশাদার কাজ। পুলিশ বিভাগে এমন ফটোগ্রাফার থাকেন যার কাজ হত্যাকাণ্ড, অপঘাতে মৃত্যু বা পুলিশের তদন্ত প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট মৃতদেহের ছবি তুলতে হয়। ভারতের ভার্নাসিতে এমন অনেকে পেশাদারের দেখা মেলে। গঙ্গায় মৃতদের শেষ বিদায়ের আগে তারা ছবি তোলেন। এদের আয় মন্দ নয়। দিনে দেড় থেকে আড়াই হাজার রুপি কামান তারা।

 

৩. জিনিয়ালজিস্ট 
ভারতে এদের এখনও দেখা মেলে। এরা প্রাচীন জিনিয়ালজিস্ট। তারা মানুষের আদিপুরুষের নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করে দেন। তারা ‘পান্ডা’ নামেও পরিচিত। হারিদওয়ারে তাদের দেখা মেলে। বলা হয়, তারা প্রায় ১০ প্রজন্মের পূর্বপুরুষের খবর বের করে দিতে পারেন। বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবারের ফ্যামিলি ট্রি’র হিসেবে তারা রক্ষা করে চলেছেন। তাদের কাছ থেকে হিন্দুরা বিয়ে, জন্ম বা মৃত্যুর বিষয়েও নানা তথ্য বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করেন।

 

৪. মানব ‘স্কেয়ারক্রো’ 

ফসলের ক্ষেত থেকে পাখি তাড়ানোর জন্যে বাঁশ বা খড় দিয়ে বানানো হয় স্কেয়ারক্রো। কিন্তু মানুষকে স্কেয়ারক্রো হয়ে থাকতে হয়। এটা একটা চাকরি। সাধারণত বিলাসবহুল বাড়ি বা হোটেলে কবুতর বা অন্যান্য পাখি তাড়ানোর জন্যে মানুষকে বানানো হয় স্কেয়ারক্রো। ভারতে এ পেশায় অনেক মানুষ আছেন। তরা পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, পাখি তাড়ান।

 

৫. বিলাপকারী
জানলে অবাক হবেন পেশাদার বিলাপকারী একটা পেশা। কোনো শোকাবহ অনুষ্ঠানে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এদের ভাড়া করে আনা হয়। তারা বিলাপ করে কান্নাকাটি করেন। এটা বেশ অদ্ভুত এক পেশা। শত শত বছরের পেশা যা ভারতে টিকে রয়েছে।

 

৬. বিনোদন পার্কের ওয়াটর স্লাইডস এবং রাইডস পরীক্ষক 

পার্কের রাইডগুলো চালু করার আগে তারা এগুলোতে বসে পরীক্ষা করেন। দেখেন যে সব ঠিকঠাক আছে কিনা। এগুলো নিরাপদ কিনা তা মূলত পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করা হলেও কিছু ঝুঁকি তো থেকেই যেতে পারে।