প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :“আমি জানি কথাটি শুনার পর কেউ ভালো ভাবে নেবেন না, তাও বলছি। কারণ আমি এই বিভীষিকা থেকে মুক্তি চাই।

আমি এখন বিবাহিত এবং আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে সুখে আছি, আমাদের বিয়ে হলো প্রায় দুই বছর। বিয়ের আগে একটি মেয়ের সাথে আমার প্রায় ৭ বছর সম্পর্ক ছিল। মেয়েটিকে আমি অনেক বেশি ভালবাসতাম এবং মেয়েটিও আমাকে তার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসতো। আমি তাকে বিয়ে করবো বলো কথা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার কথা দেয়াটা ছিলো অভিনয়।

 

 

 

 

মেয়েটি সাথে সাত বছরের সম্পর্কের তিন বছর যেতেই তার সাথে আমার শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। টানা চার বছরের শারীরিক সম্পর্কে মেয়েটি দুই বার প্রেগনেন্ট হয় এবং দুই বারই নষ্ট করা হয়। তার পর হঠাৎ এক দিন তাকে কিছু না জানিয়েই আমি বিয়ে করে ফেলি। এবং মেয়েটি আমার বিয়েটাকে মেনে নিতে পারেনি। সে আমাকে বললো, আমি কিছু জানিনা। তুমি আমার কাছে যেমন ছিলে তেমনি আছো।

 

 

 

এই বলে আমার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে কিন্তু আমি যোগাযোগ বন্ধ করে দেই। এক বছর পর আবার মেয়েটি যোগাযোগ করতেই থাকে। এখন মেয়েটির সাথে আমি আবার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি। শুধু তাই নয় তারসাথে নিয়ম করে ১০-১২দিন পর পর শারীরিক সম্পর্ক হচ্ছে। কিন্তু আমি আর দুই সামলে উঠতে পারছি না। আমি এর থেকে মুক্তি চাই।”

 

 

 

 

পরামর্শ:
দেখুন, আপনি এই মুহূর্তে যে সমস্যার মাঝে দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা কিন্তু আপনার নিজেরই তৈরি করা। আপনি কি বুঝতে পারছেন, প্রেমিকা ও স্ত্রী উভয়ের সাথেই প্রতারণা করছেন আপনি? প্রেমিকা মেয়েটির সাথে আপনি যা করেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর চাইতে জঘন্য কাজ আর হতে পারে না। একটি মানুষকে মিথ্যে বিয়ের ওয়াদা করা, তারপর শারীরিক সম্পর্ক করা, একাধিক সন্তান নষ্ট করা, কিছু না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলা… এইসবই অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এখন যদি সেই মেয়েটি আপনার জীবন নষ্ট করে দিতে চায়, যেভাবে আপনি তারটা দিয়েছেন… তখন কী করবেন আপনি?

 

 

 

 

যাই হোক, প্রথমেই নিজের কাছে ওয়াদা করুন যে এমন কাজ আর আপনি জীবনে দ্বিতীয়বার করবেন না। তারপর প্রেমিকাকে সব সত্য বলে দিন। তাঁকে বলুন যে আপনি স্ত্রীর সাথে থাকতে চান, তাঁর সাথে ভালো আছেন, মেয়েটির সাথে সম্পর্ক রক্ষা আর সম্ভব হচ্ছে না, এত মিথ্যা আপনি বলতে পারছেন না। তাঁর কাছে ক্ষমা চান। সম্ভব হলে এমন কিছু করুন যেন মেয়েটি একটু হলেও ভালো থাকে। তারপর নিজের সমস্ত যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করে ফেলুন। ফোন, ফেসবুক ইত্যাদি সব। যেন মেয়েই আপনাকে যোগাযোগ করতে না পারে।

 

 

 

 

অন্যদিকে স্ত্রীকেও সব সত্য কথা খুলে বলুন। এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। কেননা আপনার প্রেমিকা যদি আপনার আগে স্ত্রীকে সব জানিয়ে দেয়, তাহলে আপনি বড় ধরণের সমস্যায় পড়বেন। তাই নিজেই কনফেস করে ফেলুন সব। আর ওয়াদাও করুন যে আর কখনো এমন হবে না। স্ত্রী রাগ করলেও মাফ করে দেবেন এক সময়ে। প্রেমিকার ব্যাপার তিনি সব জানা থাকলে মেয়েটি চাইলেও আর আপনার সংসারে সমস্যা করতে পারবে না।