প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। মানুষের জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের দিকনির্দেশনা এতে আছে। প্রতিটি কাজেরই রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু আদব ও সুন্নাত। একটু খেয়াল করলে আমাদের দৈনন্দিন করা ছোট ছোট কাজ নেক আমলে পরিণত হতে পারে। সন্তান ভূমিষ্ঠের সময়ও কিছু নির্দিষ্ট সুন্নাত ও আদব রয়েছে, নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—

ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্রই প্রথমে নবজাতককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ডান কানে আজান ও বাঁ কানে ইকামত দেওয়া। রাসুল (সা.) হজরত হাসান (রা.)-এর কানে আজান দিয়েছিলেন। (তিরমিজি ১/২৭৮) রাসুল (সা.) নবুয়তপ্রাপ্তির পর নিজের আকিকা আদায় করেছেন।

আজান শেষ হলেই নবজাতককে কোলে তুলে নেওয়া। (সহিহ বুখারি, ২/৮২২)

তাহনিক করানো, অর্থাৎ নবজাতকের মুখে খেজুর চিবিয়ে নরম করে দেওয়া। খেজুর না থাকলে মিষ্টি দ্রব্যের মধ্যে মধু দেওয়া উত্তম। (সহিহ বুখারি, ২/৮২১)

নবজাতকের জন্য দোয়া করা এবং বরকত কামনা করা। (সহিহ বুখারি, হা. ২৮২১)

জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা। (তিরমিজি ২/১১০)

জন্মের সপ্তম দিনে মাথার চুল, হাত-পায়ের নখ ইত্যাদি পরিষ্কার করা। (তিরমিজি)

মাথা মুণ্ডানোর পর জাফরান দিয়ে তার মাথা ধৌত করা। (আবু দাউদ, ২/৩৯৩)

সন্তানের পুরো মাথার চুলের সমপরিমাণ ওজনের রৌপ্য সদকা করা। (জাদুল মাআদ, ২/৪)

জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা। (তিরমিজি, ২/৩৯২)

সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে অথবা একুশতম দিনে আকিকা করা। (বাজলুল মাজহুদ, ৪/৮৬)

ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আকিকা করা উত্তম। (আবু দাউদ, ২/৩৯২)

আকিকার প্রয়োজনীয়তা : হজরত সালমান জব্বি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সন্তানের জন্মলগ্নে আকিকা করা সুন্নাত। তাদের পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করা, অর্থাৎ জন্তু জবাই করা এবং তাদের থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা, অর্থাৎ মাথার চুল কামানো সুন্নাত। ’ (বুখারি : ২/৮২২)

হজরত সামুরা বিন জুন্দুর (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রত্যেক সন্তান রাহানস্বরূপ (বন্ধক) ওই আকিকার পরিবর্তে, যে আকিকা ওই ছেলের পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করা হয় এবং তার নাম রাখা হয়, তার মাথা মুণ্ডন করা হয়।’ (আবু দাউদ : ২/৩৯২)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, ‘যে পর্যন্ত ভূমিষ্ঠ ছেলের আকিকা করা না হবে কিয়ামতের দিবসে সে তার মাতাপিতার জন্য সুপারিশ করবে না। ’ উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শুকরিয়াস্বরূপ এবং বালা-মুসিবত ও বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে হিফাজতের লক্ষ্যে জন্মের সপ্তম দিনে ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দিয়ে আকিকা করা, নবজাতকের মাথার চুল মুণ্ডানো, মুণ্ডানো চুলের সমপরিমাণ রুপা সদকা করা ও তার মাথায় জাফরান দেওয়া এবং ভালো একটি নাম রাখা মুস্তাহাব। সবচেয়ে উত্তম নাম হলো, যে নাম আল্লাহর দাসত্বের অর্থ বহন করে, যেমন : আবদুল্লাহ, আবদুর রহমান ইত্যাদি অথবা যে নামে আল্লাহর প্রশংসার অর্থে আসে। যেমন : হামেদ, মাহমুদ, আহমদ ইত্যাদি নাম রাখা। ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে আকিকা করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। ইমাম আহমদ (রহ.)-এর অন্য এক বর্ণনা মতে এটি ওয়াজিব; কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে আকিকা করা মুস্তাহাব।