প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    যদিও বিষয়টি প্রাকৃতিক। তারপরে পিরিয়ডের এই সময়টাতে মেয়েদের কম ঝামেলায় পরতে হয় না। তবে স্যানিটারি ন্যাপকিন আসার পর মেয়েদের ঝামেলা অনেক খানি কমেছে এটা না বললেই নয়।আপনিও এতদিন তো পিরিয়ড হলেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে এসেছেন নিশ্চয়ই? নেওয়াও দিব্যি সুবিধা, চাই কি পিরিয়ডের সময়েও আপনি এক ছুটে বাসে উঠে পড়তে পারবেন।

 

 

 

তা স্যানিটারি ন্যাপকিন তো এতোদিন ব্যবহার করে এসেছেন নিশ্চিন্তে। কিন্তু স্যানিটারি ন্যাপকিন নেওয়াও যে খুবই বিপদের, সেকথা তো আর ওজানা নয় তাই না?তাই পিরিয়ডের সময় শুধুই স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর ভরসার দিন শেষ। এবার ব্যবহার করুন অন্য কিছু। কী ব্যবহার করবেন, কেনো করবেন, জেনে নিন।

 

 

 

পিরিয়ডের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করাও যে মোটেই নিরাপদ নয়, তা নিয়ে কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বিভিন্ন কেমিক্যাল, সিন্থেটিক জিনিসপত্র, তুলো দিয়ে তৈরি তো হয় বটেই, তাছাড়াও এতে থাকে ব্লিচিং এজেন্ট।আর দীর্ঘদিন ধরে আপনার সেনসিটিভ জায়গাটি যদি মারাত্মক ক্ষতিকর ব্লিচিং এজেন্টের সংস্পর্শে আসে, তাহলে কিন্তু ক্যান্সার অনিবার্য। আর এমনিতেই একটা স্যানিটারি ন্যাপকিন ৩-৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। নানারকম র্যাশ, ইনফেকশন তো হতেই পারে।

 

 

 

 

তাই টিভি-তে অ্যাড দেখে ১০ ঘণ্টাও টানা ব্যবহার করা যায় যে সমস্ত ন্যাপকিন, তা যদি কিনে থাকেন, তাহলে কিন্তু বিপদ! আর ব্যবহার করা স্যানিটারি ন্যাপকিন যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়া মানেও কিন্তু পরিবেশের বারোটা বেজে যাওয়া! এইসব শুনে চিন্তায় পড়ে গেলেন তো?ভাবছেন নিশ্চয়ই স্যানিটারি ন্যাপকিনের বদলে আপনি কী ব্যবহার করতে পারেন? চাপ নেবেন না একদম। আমরা আছি কি করতে? দেখে নিন।

 

 

 

 

ট্যাম্পন:

ট্যাম্পনের নাম নিশ্চয়ই শোনেননি? কিন্তু পিরিয়ডের সময় ট্যাম্পনের ব্যবহার কিন্তু আজকাল খানিক বাড়ছে। ট্যাম্পন আদতে সফট অ্যাবসরবেন্ট মেটিরিয়ালে তৈরি একটা জিনিস, যা আপনার যোনির মধ্যে খুব সহজেই ঢুকিয়ে দিতে পারবেন। আর এটা আপনার পিরিয়ডের সময় রক্তকে শুষে নিয়ে ফ্লো-টা আটকে দেবে।

 

 

 

১. ন্যাপকিনের থেকে কিন্তু ট্যাম্পনকে খানিক হাইজিনিক বলেই মানা হয়। আর তাছাড়া এটা হ্যান্ডেল করাও খুব সোজা। জাস্ট যোনির ভেতরে ঢুকিয়ে দিলেই হল। আপনার কাজ শেষ। বাকি কাজ করবে ট্যাম্পনই। এমনকি আপনি বুঝতেও পারবেন না যে আপনার পিরিয়ড হয়েছে!

 

 

 

২. দেখতেও বেশ ছোট সাইজের। ডিসপোজ করাও খুব সোজা।

 

 

 

৩. স্যানিটারি ন্যাপকিন আপনি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে খারাপ একটা স্মেল পাওয়া যায়, কিন্তু ট্যাম্পনের ক্ষেত্রে সে চান্সই নেই।

 

 

 

 

৪. আর পিরিয়ডের সময় যদি আপনার সাঁতার কাটা বা অন্য কোনো হেভি অ্যাক্টিভিটিস থাকে? ট্যাম্পন ব্যবহার করলে কিন্তু আপনি নিশ্চিন্তে সেটাও করতে পারেন।

 

 

 

সতর্কতা:

১. ট্যাম্পন যদি ব্যবহার করতে চান, তাহলে একে ঠিকভাবে ঢোকানোর প্রসেস আপনাকে জানতেই হবে। ভুলভাবে ব্যবহার করলে কিন্তু অস্বস্তি, ইরিটেশন তো হয়ই, তাছাড়া আরও নানা সমস্যাও হতে পারে। এমনকি ব্যথাও হতে পারে।

 

 

 

২. কখন ট্যাম্পন চেঞ্জ করতে হবে তা বোঝা খানিক কঠিন। আর বেশি সময় যদি আপনি ব্যবহার করেন, তাহলে কিন্তু বিষক্রিয়াও হতে পারে। সাধারণত একটা ট্যাম্পন ৪-৫ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

 

 

 

 

৩. আর স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো এগুলোও কিন্তু ইকো ফ্রেন্ডলি নয়। তাই দূষণের সম্ভাবনা থেকেই যায়।

 

 

 

 

৪. আর এমনিতেই মেয়েরা যোনির ভেতরে বাইরের আর্টিফিশিয়াল কিছু ঢোকাতে চান না। তাই আপনার যদি অস্বস্তি হয়, তাহলে ট্যাম্পন ব্যবহার না করাই ভালো।

 

 

 

মেন্সট্রুয়াল কাপ: রিয়ডের সময় মেন্সট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করা কিন্তু সবথেকে সেফ। এটা একটা কাপ লাইক কালেক্টরের মতো। জাস্ট আপনার যোনির মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেই হল। এটা দিব্যি একটা কাপের মতো কাজ করবে।

 

 

 

 

কেন মেন্সট্রুয়াল কাপ?

১. আপনার যদি হেভি পিরিয়ড হয়, তাহলে এটাই আপনার বেস্ট অপশন হতে পারে। অনেক বেশি সময় ধরে ব্যবহার করতে পারবেন। রাতে ঘুমোনোর সময়েও থাকবেন নিশ্চিন্ত। জাস্ট খেয়াল রাখবেন কাপ ভর্তি হয়ে যাচ্ছে কিনা। ভর্তি হয়ে গেলে ব্লাডটা ফেলে দিলেই হল! এমনিতে ১০-১২ ঘণ্টা নিশ্চিন্তে নেওয়া যায়।

 

 

 

২. আরামদায়কও বটে। কোনো ব্যথা বা ক্র্যাম্পের সম্ভাবনাও নেই।

 

 

 

৩. কোনো বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাই নেই। কারণ এতে কোনো কেমিক্যাল বা সিন্থেটিক মেটিরিয়াল নেই।

 

 

 

 

৪. একবার ব্যবহার করে ব্লাডটা ফেলে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই হল। আবার ব্যবহার করতে পারবেন। আর তাই খরচাও কিন্তু কম। ভেবে দেখুন, সমীক্ষা কিন্তু বলছে, একজন মেয়ে তার সারাজীবনে মোটামুটি ১০০০০ ন্যাপকিন ব্যবহার করে থাকে। এবার খরচার বহরটা আপনি নিজেই বুঝবেন। সেখানে মেন্সট্রুয়াল কাপ আপনি অনেকদিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।

 

 

 

 

৫. পরিবেশ দূষণের কোনো সম্ভাবনাও নেই।

 

 

 

সতর্কতা:

১. ভেবে দেখুন, ব্লাড তো দিব্যি কালেক্ট হয়ে গেল। এরপরে রক্তটা ধোওয়ার প্রসেসটা কিন্তু একটু চাপের। আপনার সমস্যা হতেই পারে।

 

 

 

২. আপনার যদি ফাইব্রয়েডস, জরায়ুতে ইনফেকশন থেকে থাকে, তাহলে ব্যবহার না করাই ভালো।

 

 

 

 

৩. মেন্সট্রুয়াল কাপকে যত্ন করে রাখা, একবার ব্যবহার করার পর গরমজলে ফুটিয়ে তাকে স্টেরিলাইজ করাটা কিন্তু বেশ ঝামেলার কাজ।

 

 

 

 

৪. ব্যবহার করার শুরুতে কিন্তু একটু সমস্যা হতেই পারে। তাই সাবধান থাকুন।

 

 

 

 

 

তাহলে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ট্যাম্পন না মেন্সট্রুয়াল কাপ অপশন কিন্তু আপনার কাছে আছেই। আপনিই ভেবে দেখুন কোনটা ব্যবহার করবেন!