প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   আপনার সন্তান ধীরে ধীরে আপনার চোখের সামনেই আদরে, শাসনে বেড়ে উঠতে থাকে। আপনি অবশ্যই তাকে সবার চেয়ে আলাদাভাবে মানুষ করতে চান, আপনি চান সে বিশ্বসেরা হোক। কিন্তু আপনার সেই স্বপ্নে ভাটা পড়ে যখন সন্তান কুপথে চলে যেতে থাকে। তারুণ্য ধ্বংসের অন্যতম প্রধান মূলমন্ত্র মাদক। অসৎসঙ্গে পড়ে অনেক সন্তানই মাদকাসক্ত হয়, ধীরে ধীরে নিজের জীবন আর পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে কখনোবা আত্মঘাতী হতেও দ্বিধা করেনা। এজন্য সবার আগে বাবা-মাকে সাবধান হতে হবে, এই লক্ষণগুলো দেখে নিশ্চিত হতে হবে যে সন্তান মাদকে আসক্ত কি না:

 

 

 

তাঁকে বেশি নিদ্রালু বা উত্তেজিত দেখাতে পারে

জীবনে আবেগ অনুভুতি কমবেশি সবসময়েই আসে। কিশোর আর যৌবনে সেটা বেশিই আসে। সেটা আলাদা বিষয়।আপনার সন্তানকে যদি প্রায়ই দেখেন যে পড়ার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়ছে বা দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে থাকছে তাহলে একটু সাবধান হন। সে রাতে কম ঘুমিয়েছে বলেই এমন হুটহাট ঘুমিয়ে পড়ছে সেটা ভাববেন না। আবার কখনো যদি দেখেন আপনার সন্তান রিল্যাক্স থাকছে না, কারণ ছাড়া নার্ভাস থাকে তাহলে সেটি মাদক সেবনের অন্যতম লক্ষণ ধরে নিন। আপনার কিশোর সন্তানের মধ্যে অত্যধিক ক্লান্তি বা উত্তেজনা দেখা দিলে তাকে একজন ক্লিনিশিয়ান বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

 

 

 

 

 

খিটখিটে মেজাজ করে আপনার সঙ্গে কথা বন্ধ করলে

অভিমান বা বিরক্তি প্রকাশ, কথাবার্তা কমিয়ে দেওয়া কিশোরদের মধ্যে হামেশাই ঘটে। তবে আপনার সঙ্গে সন্তান যদি একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ করে দুরত্ব রেখে চলে তাকলে তার দিকে নজর দিন। মাদক ব্যবহার করলে সে এমনটা করতে পারে। হয়তো বাবা-মাকে সে সহ্য করতে পারেনা বা নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চায় বলে সে এমনটা করে, কখনোবা ঝগড়া-তর্কও করতে পারে। তাকে নীরবে পর্যবেক্ষণ করুন। সে মাদকের সঙ্গে জড়িত হোক বা না হোক তাকে কখনো আঘাত করবেন না। কৌশলে কোমল ভাষায় কথা বলতে পারেন। সে কেন আপসেট, কি সমস্যা জানবেন। আপনি তার পাশে আছেন এটা বুঝাবেন।

 

 

 

 

যদি তার বন্ধু পরিবর্তন হয়

কিশোরদের ব্যবহারে সঙ্গী বা বন্ধুদের প্রচুর প্রভাব পড়ে। তাই সে কি রকম বন্ধু নির্বাচন করছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার বন্ধু চক্র ভালো হলে চিন্তার তেমন কিছু নেই। তবে যদি দেখেন হঠাৎ করে সে বন্ধু পাল্টে ফেলেছে, অন্যদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেছে, লুকিয়ে তাদের সঙ্গে মিশছে, টাকাপয়সা বেশি খরচ করছে তাহলে খুব সাবধান হতে হবে আপনাকে। কোনোভাবে যদি জানতে পারেন যে বন্ধুরা মাদকাসক্ত তাহলে যেভাবেই হোক তাকে সেই চক্র থেকে বের করুন।

 

 

 

 

 

সচরাচরের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করলে

প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সন্তান যদি টাকা বেশি চাইতে থাকে বা খেয়াল করলেন যে তার খরচের হাত বেড়ে গেছে তাহলে খেয়াল রাখবেন। অনেক সময়ে আপনাকে লুকিয়েও খরচাপাতি করতে পারে। আবার আপনি হয়তো সৎ বিশ্বাসে আপনি হয়তো চাইলেই তাকে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে আস্তে আস্তে তার খরচের অভ্যাস বেড়ে যায়। এটা খারাপ লক্ষণ। এজন্য আপনাকে তাদের অজ্ঞাত ব্যয়ের উৎস খুঁজে বের করতে হবে। কারণ মাদকসেবন করলে তাকে বড় একটি টাকার অংশ খরচ করতে হয় আর যেভাবেই হোক সেই টাকা তাকে জোগাড় করতে হয়।

 

 

 

 

পড়াশুনায় অমনোযোগী

স্কুল, কলেজ বা প্রাইভেট পড়লে আপনার সন্তানকে পড়াশুনার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হয়। কিন্তু আস্তে আস্তে দেখলেন যে আপনার সন্তান পড়াশুনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে আপনি বকাঝকা করলেও সেটা শুনছে না, উল্টে আপনার সঙ্গে তর্ক শুরু করে তাহলে বুঝবেন তার কোনো সমস্যা হচ্ছে। হতে পারে সে মাদকাসক্ত। এজন্য সাবধান হন। শিক্ষকের সঙ্গে পরামর্শও করতে পারেন। প্রয়োজনে কনসালটেশনের জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে যান।

 

 

 

 

খাওয়ার অভ্যাস বদলে গেলে

মাদকে অভ্যস্ত হয়ে গেলে খাওযার রূচি চলে যায়। ওজন কমে যেতে থাকে। আবার কোকেন বা অ্যাম্ফিট্যামাইনের মতো উত্তেজক কোনোকিছু সেবনে ওজন হ্রাস পেতে পারে। অনেক কিশোর ওজন কমানোর জন্য এগুলো সেবন করে। আপনার কিশোর সন্তান খাওয়ার প্রতি উদাসীনতা দেখালে, ওজন হ্রাস পেলে, খুব অলস হয়ে পড়লে, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা দেখালে এবং ওজন বৃদ্ধি পেলে পিডিয়াট্রিশিয়ান বা ক্লিনিশিয়ানের কাছে নিয়ে যেতে পারেন। এতে নির্ণয় হতে পারে যে সে মাদক বা অন্যকোনো আসক্তিতে রয়েছে কিনা।

 

 

 

 

প্রিয় কাজে অনীহা থাকলে

সবারই কোনো না কোনো প্রিয় কাজ থাকে। কিন্তু মাদক সেবনে সেই প্রিয় কাজেও অনীহা চলে আসে। ক্লান্তি, উদাসীনতা এবং কোনোকিছু করার মোটিভেশনের অভাবে পড়ার জন্য মাদক দায়ী হতে পারে। মাদক কিশোরের উদ্যম থামিয়ে দেয়, অ্যাকাডেমিক উজ্জ্বল সম্ভাবনা এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনে বাধা দেয়।

 

 

 

 

শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকলে

মাদকে আসক্ত হলে তার শরীরে অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আসবে। এই যেমন তার রক্তরাঙা চোখ, বিস্তৃত পিউপিল বা শরীরে খোঁস-পাঁচড়া থাকে তাহলে মনে সন্দেহ আনুন। ঘনঘন ব্লাডি নোজ বা রানি নোজ অথবা মুখ, ঠোঁট বা হাতে যেকোনো ধরনের ক্ষত হতে পারে কোকেন বা মিথঅ্যাম্ফিট্যামাইন ব্যবহারের লক্ষণ। সন্তান এগুলো আপনার কাছে লুকাতে চাইলে বেশি সতর্ক হন। কখনো এগুলোকে প্রশ্রয় দেবেন না।