প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     নিঃসন্দেহে আমরা দিন দিন আধুনিক হচ্ছি। বদলে যাচ্ছে চিন্তাধারা, আমরা কেমন যেন গুটিয়ে যাচ্ছি। মানে আমরা এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। পরিবারও এর থেকে ব্যতিক্রম কিছু না। আমাদের সমাজে অনেকদিন থেকেই যৌথ পরিবারের প্রথা ভাঙতে শুরু করেছে, একক পরিবারই এখন বেশি। দিন দিন ছোট হয়ে আসছে পরিবারের গন্ডি।

 

 

 

 

ব্যস্ততার সঙ্গে জীবনকে খাপ খাওয়াতে সবাই ছোট পরিবারের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। একসঙ্গে থাকলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটু-আধটু সমস্যা হতেই পারে। তাই বলে যৌথ পরিবার শুধু ঝামেলা ও ঝঞ্ঝাটেই পরিপূর্ণ তা ভুল ধারণা। এখানে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া, বিপদের সময় সবাইকে পাশে পাওয়া যায়। পরিবারের সবার যত্ন ও ভালবাসায় আবিষ্ট হয়ে থাকা যায়।

 

 

 

 

মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে: স্বাভাবিকভাবেই একা থাকলে অনেক সময় বড় কোন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। মনের ভেতর প্রশ্ন জাগে বা খুতখুতানি হতে থাকে যে সিদ্ধান্তটা নেওয়া হচ্ছে সেটা ভুল হবে কি? কিন্তু আপনি যদি যৌথ পরিবারে থাকেন, তাহলে সবার কাছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতামত নেওয়া অনেক সহজ হয়। আর সবার সাহায্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে তা নিখুঁত আর নির্ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

 

 

 

 

শিক্ষা ও আদর্শ শেখাপড়া: একটি বড় আর যৌথ পরিবারে বড়দের আদর্শের কাছাকাছি থাকা যায়। এতে করে সুশিক্ষা পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়। সেই সঙ্গে আদবকেতা আর শিষ্টাচার শেখা যায়। আর একা পরিবারে থাকলে সামাজিকতা সম্পর্কে জ্ঞান খুবই কমই জন্মে। পরিবারের অন্যন্য সদস্যদের সঙ্গে শেয়ারিং করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়ার মনোভাবও তৈরি হয়। তাছাড়া একটি পরিবারে একসঙ্গে থাকলে নিয়মিত যাবতীয় সুশৃঙ্খল নিয়মনীতি, সংস্কৃতি ও আদর্শ চর্চা হতে থাকে। মানিয়ে চলা, ত্যাগের চর্চা হয়।

 

 

 

 

 

সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হয়: আমরা কিন্তু চাইলেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই আমাদের বন্ধু খুঁজে নিতে পারি। এই ধরুন দাদা-দাদি বা নানা-নানিদের সঙ্গে থাকা মানে অনেকটা সময় তাদের সঙ্গে কাটানো যায়। তাদের সঙ্গে গল্পগুজব, বিভিন্ন বিষয়াদি শেয়ার করার মাধ্যমে সময় কাটে ভালো। চিন্তাভাবনাগুলো বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হয়। এছাড়া চাচাতো, মামাতো ভাইবোন কাছাকাছি থাকা বা আসা-যাওয়ার মাধ্যমে একাকি বড় হওয়ার কোনো প্রবণতা থাকে না। চমৎকার বন্ডিং গড়ে ওঠে সবার সঙ্গে।

 

 

 

 

পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে: বর্তমান একক পরিবারে প্রতিটি শিশু বেড়ে ওঠে নিঃসঙ্গভাবে। বিশেষ করে তাদের বাবা-মা দুজনেই যদি চাকরিজীবী হয়। তাদের জীবনে উৎসব আমেজ আর উপলক্ষ খুব কম থাকে। কারণ তাদের মানুষেরই তো বেশি অভাব থাকে। কিন্তু যৌথ পরিবারে সদস্য বেশি হওয়ায় ঘরে সবসময় একটা উৎসব উৎসব ভাব থাকে। বিকেলে সবার সঙ্গে চা খাওয়ার মধ্যেও যেন এক অদ্ভুত খুশির আমেজ থাকে।

 

 

 

 

বিপদের মাঝে ভরসা পাওয়া সময়ে সাহায্য পাওয়া:  যৌথ পরিবার আপনাকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়, এটা সত্যি। এটা কিন্তু শুধু জীবনের নিরাপত্তা বা আর্থিক নিরাপত্তা নয়। বরং এখানে মানসিক বিপর্যয়ের সময় মানসিক সমর্থনও পাওয়া যায়। ভাল লাগা ও খারাপ লাগার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার জন্য সব সময় কেউ না কেউ আপনার পাশে থাকছে। আর যেকোনো আকস্মিক বিপদে পরিবারের সদস্যদের আপনি হাতের কাছেই পাবেন।