প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস সংক্রমণের ফলে যে হেপাটাইটিস হয় তাকে বি-হেপাটাইটিস বলে। লিভারে ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস-বি। এটি একটি ডিএনএ ভাইরাস; হেপাটাইটিস-বি নামে সমধিক পরিচিত।হেপাটাইটিস-বি এর উপসর্গগুলো:  অনেক রোগীর কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। এই রোগের সুপ্তাবস্থা (ভাইরাস শরীরে ঢোকা থেকে রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগ পর্যন্ত) হচ্ছে প্রায় চার সপ্তাহ থেকে ছয় মাস। বয়স্কদের ভেতরে ফ্লু-এর মতো জ্বর, ক্লান্তি, শরীর টনটন করা, ব্যথা, বমি বমিভাব এবং ক্ষুধামন্দা নিয়ে এই রোগ দেখা দিতে পারে। ছোটদের ক্ষেত্রে অন্য রকম উপসর্গ, এমনকি হঠাৎ লিভার ফেইলিওরও হতে পারে। কিভাবে এ রোগের বিস্তার ঘটে
মূলত দুইভাবে- উলম্বভাবে, অনুভূমিকভাবে, উলম্বভাবে বিস্তার

 

 

 

 

রোগাক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে শিশুতে; প্লাসেন্টা (চষধপপবহঃধ) জরায়ু থেকে পৃথক হওয়ার সময় যদি অ্যামনিওসেনটেনিস করা হয় জন্মের পরে মায়ের সাথে শিশুর ঘনিষ্ঠতা থেকে। অনুভূমিক বিস্তার নিরীক্ষাবিহীন রক্ত এবং রক্তের উপাদান পরি-সঞ্চালন দ্বারা বিশেষ করে ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশার দ্রব্যাদি গ্রহণের সময় বিভিন্ন রকম চিকিৎসা (মেডিক্যাল ও ডেন্টাল) গ্রহণকালে দূষিত ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে * ব্যক্তিগত জিনিস, যেমন-দাঁতের ব্রাশ ও রেজার ব্যবহারের কারণে * যৌনক্রিয়া অরতি সমকামী ও উভকামীরা শরীরের অন্যান্য তরল দিয়ে * লালা রস এবং ভ্যাজাইন্যাল তরল পদার্থ যখন রক্তের সংস্পর্শে আসে। ঝুঁকিতে আছেন যারা -রোগাক্রান্ত মায়ের নবজাতকেরা -ইনজেকশন দিয়ে যারা নেশা গ্রহণ করেন – রোগাক্রান্তের পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা এবং তার সঙ্গী বা সঙ্গিনীরা -স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা যারা রক্তের সংস্পর্শে প্রায়ই আসেন, যেমন-শল্য চিকিৎসক, ডায়ালাইসিস ইউনিটের কর্মীরা, দাঁতের ডাক্তার, সেবিকা এবং ধাত্রীরা * বন্দীরা * এই ভাইরাসের ব্যাপকতা যেখানে বেশি, এমন জায়গায় যারা ভ্রমণে যান বা কাজে নিয়োজিত থাকেন * যারা অরতি যৌন কর্ম-চর্চা করেন।

 

 

 

 

 

আমাদের শরীরে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের প্রভাব মনে রাখতে হবে যে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, এইডস ভাইরাসের চেয়ে ১০০ ভাগ বেশি সংক্রামক। সারা বিশ্বে প্রতি বছর এইডস রোগে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায়, তার চেয়ে বেশি লোক প্রতিদিন মারা যায় হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের সংক্রমণে। আমাদের দেশের প্রায় ৭-১০ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের বাহক (সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায়নি), তাদের বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ জটিল লিভারের রোগ হচ্ছে। প্রায় ৩.৫% গর্ভবর্তী মায়েরা হেপাটাইটিস-বি এর বাহক হিসেবে আছেন। যাদের হেপাটাইটিস-বি এর ই এন্টিনেজ রয়েছে (ঐইবঅম) প্রায় ৯০ শতাংশে হেপাটাইটিস-বি তাদের নবজাতকের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে। এটা সহজেই অনুমেয় যে, কয়েক বছরের মধ্যে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

 

 

 

 

 

হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস যেসব অসুখ করতে পারে স্বল্পমেয়াদি হেপাটাইটিস- এ অসুখ সাধারণত কয়েক সপ্তাহ অথবা কয়েক মাসের মধ্যে তাড়াতাড়ি সেরে যায়। দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস- এ ধরনের হেপাটাইটিস সাধারণত ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হয়, এমনকি সারা জীবনও থেকে যেতে পারে। বাহক অবস্থা- কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়াই এই ভাইরাস শরীরে বহন করলে এদেরকে ক্রনিক বাহক বলে। তারা এ রোগ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞা থাকতে পারেন। এরা অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে। লিভার সিরোসিস- যদি লিভারের প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয় তা হলে লিভারের কোষসমূহ আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না। বরং সেখানে ফাইব্রোসিস দেখা দেয়। একেই বলে সিরোসিস। সিরোসিস চিরস্থায়ী।

 

 

 

লেখক : লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের একজন বিশেষজ্ঞ