প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীসহ সবাই হাত উঁচিয়ে, গা বাঁচিয়ে কোনো রকম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছার চেষ্টা করছেন। কারণ জবির মূল ফটকের সামনের রাস্তাটিতে জ্যাম লেগে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ ছাড়া ফটকসংলগ্ন রাস্তার উভয় পাশ রয়েছে হকারদের দখলে এবং ফটকের সামনেই রয়েছে অঘোষিত রিকশাস্ট্যান্ড আর বাঁ পাশে ফুটপাত ঘেঁষে রিকশা গ্যারেজ। এখানকার এমন দৃশ্য প্রতিদিনের।

 

 

 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে রয়েছে তিনটি রাস্তার সংযোগ। প্রতিটি রাস্তারই উভয় দিক থেকে গাড়ি চলাচল করছে। রাস্তার প্রশস্ততা অনুযায়ী সেখানে গাড়ি চলাচলের হার মাত্রাতিরিক্ত। এসব রাস্তায় নেই নিরাপদে হেঁটে পারাপারের জন্য কোনো ওভারব্রিজ কিংবা জেব্রা ক্রসিং। ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ ছাড়া দেখা যায় মূল ফটকের বাইরে ফুটপাতগুলোতেও নেই শান্তিতে চলাচলের উপায়। সেগুলো হকারদের দখলে। রয়েছে লোকাল বাসগুলোর টিকিট কাউন্টার, যেখানে সর্বদা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। আর বাঁ দিকে জবির দেয়ালসংলগ্ন ফুটপাতে চা দোকান আর রিকশা গ্যারেজ।

 

 

 

 

শিক্ষার্থীদের এমন অসুবিধার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, সাড়ে সাত একরের ছোট ক্যাম্পাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, যা সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীই থাকেন ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে বা বাসায়। ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিনই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণে ভরে ওঠে ক্যাম্পাস। এই যানজটের কারণে নিত্যদিন তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকলেও ইভিনিং শিক্ষার্থীও এমন হয়রানির শিকার হয়। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার একটিমাত্র ফটক হওয়ায় প্রতিদিন সকালে ভিড় জমে শিক্ষার্থীদের। প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত বাহাদুর শাহ পার্ক-সদরঘাট যাতায়াতের জন্য লোকাল বাসগুলোর সর্বশেষ কাউন্টার এখানে থাকায় বাসের চাপও থাকে সব সময় বেশি। দেখা যায়, জবি ছাড়াও এর আশপাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

 

 

 

 

এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র চলাচলের রাস্তা হলো জনসন রোড ও লক্ষ্মীবাজার রোড। আর এ দুই সড়কের মিলনস্থল হলো জবির মূল ফটকের সামনে। ফলে সব সময় লেগে থাকে যানজট। চলতি মাসে বাহাদুর শাহ পরিবহনের দুর্ঘটনার শিকার হন শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজ। তিনি বলেন, ‘চা খেয়ে টিএসসি থেকে ফেরার সময় বাহাদুর শাহ পরিবহনের একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। এতে হাত ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথা পাই। তবে সরাসরি না লাগায় গুরুতর কোনো সমস্যা হয়নি।’ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে কমপক্ষে সাতজন। এভাবে ক্রমেই বাড়ছে আহতের সংখ্যা। শিক্ষার্থী আহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মূল ফটকের সামনে একটি পথচারী সেতু নির্মাণের দাবি তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফ্রন্ট। এ ছাড়া পথচারী সেতু নির্মাণের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে জবি শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। তবে তাদের দাবি আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণে এত দিনেও পথচারী সেতু নির্মাণ করা বা অন্তত স্পিড ব্রেকার নির্মাণও সম্ভব হয়নি।

 

 

 

 

বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিমাত্র ফটক থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকতা, কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সবাইকে সে ফটক দিয়েই বের হতে হয়। এতে যে যানজটের সৃষ্টি হয়, তাতে দুর্ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। উপরন্তু মূল ফটকের সামনে রিকশা গ্যারেজ, রিকশাস্ট্যান্ড, চটপটির দোকান, বাদাম বিক্রেতার কারণে বেশির ভাগ জায়গা তাদের দখলে চলে যায়। এতে যেটুকু ফাঁকা জায়গা ছিল, তা-ও দখল হয়ে যায়। নিরাপদে চলাচলের জন্য এসব আগে সরানো দরকার।’

 

 

 

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল ফটকের বাইরে রিকশা গ্যারেজ আর দ্বিতীয় ফটকের সামনে লেগুনাস্ট্যান্ড থেকে কয়েকজন ছাত্রনেতা নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। ফলে তারাও আধিপত্যের সঙ্গেই এসব করে যাচ্ছেন। ফুটপাত দখল, লেগুনাস্ট্যান্ড বিষয়ে জানতে চাইলে জবি প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মাদ বলেন, ‘নতুন ভবনের কাজ চলায় দ্বিতীয় গেট বন্ধ রাখতে হয়েছে, আর এ সুযোগে লেগুনাস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। তবে এখান থেকে কে বা কারা চাঁদা তোলে তা আমার জানা নেই। মূল ফটকের সামনে পথচারী সেতু নির্মাণের ব্যাপারে রেজিস্ট্রার মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি, দ্রুতই এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে।’