প্রথমবার্তা, নিজস্ব প্রতিবেদন :  এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে লিবিয়ার ক্ষমতা দখল করেছিলেন ক্যাপ্টেন মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং আরো কিছু তরুণ সামরিক কর্মকর্তা। রাজাকে উৎখাত করে দেশটিকে একটি প্রজাতন্ত্র বলে ঘোষণা করেছিলেন তারা।পরবর্তী ৪২ বছরে এই গাদ্দাফিই কঠোর হাতে তার বিরোধীদের দমন করে হয়ে উঠেছিলেন লিবিয়ার একচ্ছত্র স্বৈরশাসক।গাদ্দাফি-বিরোধীদের একজন ছিলেন জাবালা মাতার – দেশ ছেড়ে পালালেও তাকে শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফি বিরোধিতার জন্য চরম মূল্য দিতে হয়েছিল তাকে। তার পুত্র হিশাম মাতার এখন একজন খ্যাতনামা লেখক । তারই সাথে কথা বলেছেন বিবিসির লুইস হিদালগো, শুনতে চেয়েছেন গাদ্দাফির শাসনাধীন লিবিয়ায় তার বেড়ে ওঠার গল্প।”লিবিয়ায় বিপ্লব হবার পর প্রথম দিনগুলোতে এ ব্যাপারে মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক” – বলছিলেন হিশাম মাতার।

 

 

 

 

 

“আমার বাবা তখন ছিলেন তরুণ এবং রাজতন্ত্রবিরোধী, তাই তিনি রাজাকে সম্মান এবং পছন্দ করলেও লিবিয়া যে একটি প্রজাতন্ত্র হতে যাচ্ছে, এতে তিনি উল্লসিত ছিলেন। অবশ্যই প্রজাতন্ত্র বলতে তিনি বুঝতেন আধুনিকতা, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র, এবং আইনের শাসন।”হিশামের বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর এক কর্ণেল । যখন অভ্যুত্থানের খবর বেরোয়, তিনি তখন লন্ডনে লিবিয়ার দূতাবাসে কাজ করতেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর তাকে এবং আরো অনেক সিনিয়র অফিসারকে গ্রেফতার করলো নতুন শাসকরা। “তবে আমার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন কেন এটা করা হচ্ছে। কারণ অভ্যুত্থানের পর এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। ছয় মাস পর তাদের মুক্তি দেয়া হলো।” “এর পরের দু-তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ১৯৭২ সাল নাগাদ এটা আমার বাবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে নতুন শাসকদের মানুষের অধিকার এবং বিচার বিভাগের প্রতি কোন সম্মানবোধ নেই। বিশেষ করে যারা তাদের সমালোচক তাদের প্রতি তো নয়ই।” লিবিয়ায় মুয়াম্মার গাদ্দাফির স্বৈরশাসনের সেই ছিল সূচনা। “তারা মনে করতো এ মুহুর্তটা অন্য যে কোন ঐতিহাসিক মুহুর্তের মতোই – যাতে অতীতের লক্ষণগুলো সব দৃশ্যমান থাকে।”

 

 

 

 

 

 

“লিবিয়ায় ঔপনিবেশিক শাসনের যে অভিজ্ঞতা তা ছিল ভয়াবহ। যেখানে অসংখ্য লোককে হত্যা করা হয়েছে, অনেকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে প্রকাশ্যে। ” “গাদ্দাফির সময়ও – আগের চেয়ে কম সংখ্যায় হলেও – ঠিক একইভাবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হতো।” জেল থেকে মুক্তি পাবার পর হিশামের বাবাকে জাতিসংঘে চাকরি দিয়ে পাঠানো হলো। এর পরের বছর হিশামের জন্ম হয় নিউইয়র্কেই। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত তারা সেখানেই ছিলেন। এর পর মি. মাতার পদত্যাগ করেন এবং স্ত্রী ও দুই পুত্রসহ লিবিয়ায় ফিরে আসেন। কেন তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন? “আমার মনে আমার বাবা বুঝেছিলেন যে নতুন এই শাসকগোষ্ঠী এতই খারাপ যে এদের পক্ষ নিয়ে কাজ করা যায় না। কিন্তু তারা তখনও এতটা খারাপ ছিল না যে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে দেশে ফিরে এসে বসবাস করা যাবে না।””আমার বাবা লিবিয়ার জীবন ভালোবাসতেন। তার অনেক কারণও ছিল।

 

 

 

 

আমাদের ছিল একটা বড় যৌথ পরিবার। প্রাকৃতিক দৃশ্য ছিল খুবই সুন্দর। আমাদের বাড়ি ছিল সমুদ্রের ধারে।””দেশে ফিরে আমার বাবা একেবারেই অন্য ধরণের কাজে যোগ দিলেন। তিনি নিজে একটা ব্যবসা শুরু করলেন। লিবিয়ায় বাস করলেও তার সাথে সরকারের কোন সংশ্রব ছিল না।” কিন্তু পরের ১০ বছরে দেশের অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে লাগলো। ১৯৭০ দশকের শেষ দিকে প্রকাশ্যে লোকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা শুরু হলো।হিশামের তখন বয়েস অনেক কম – কিন্তু লিবিয়ার সেই সময়টার অনেক কিছুই তার মনে আছে।”যা যা আমার মনে আছে সেগুলোই হলো এই একনায়কতন্ত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য – যা আমি পরে উপলব্ধি করতে পেরেছি।””সব একনায়কতন্ত্রই চায় আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করতে। গাদ্দাফির প্রশাসনের এ ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ এবং নৈপুণ্য ছিল। কাজেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম কিভাবে সবকিছুই একেবারে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে।”

 

 

 

 

 

“সিনেমা বন্ধ, থিয়েটার বন্ধ । ফুটবল খেলাও বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন । কাজেই সাথারণ লোকের জন্য কোন কিছুকে উপলক্ষ্য করে একসাথে হওয়া ছিল এক বিরাট সমস্যা।”আমার মনে আছে যখন তারা বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ করলো, তখন ট্রাক ভর্তি করে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে দেয়া হলো। কারণ গাদ্দাফি হঠাৎ করেই ঘোষণা করলেন, বাদ্যযন্ত্র হচ্ছে লিবিয়ার বিশুদ্ধ সংস্কৃতির ওপর বিদেশী প্রভাব বিস্তারের একটা উপায়।””তখনকার দিনে যেসব বাদ্যযন্ত্র লোকে বাজাতো তার বেশিরভাগই ছিল ইউরোপিয়ান। সেগুলো সব শহরের এক খোলা জায়গায় জড়ো করা হলো, এবং আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো। আমার সেই দৃশ্য খুব স্পষ্টভাবে মনে আছে।””আমার আরো মনে আছে একবার একই ভাবে ট্রাক পাঠানো হলো সব বইয়ের দোকান থেকে বই তুলে নিয়ে যাবার জন্য।”

 

 

 

 

 

“এরকম যে কোন কিছুরই – যা স্বৈরশাসক ব্যক্তিগতভাবে অনুমোদন করতেন না – তার এ পরিণতি হতো।” হিশামের একজন চাচা – যিনি একজন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ছিলেন -তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার জিজ্ঞাসাবাদ টিভিতে প্রচার করা হয়েছিল। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করাও দেখানো হতো টিভিতে। অবশ্য হিশামকে তা দেখতে দেয়া হতো না। “কিন্তু আমার খুব ভালোভাবেই মনে আছে যে আমার আশপাশের সবাই এটা দেখেছে। এবং এগুলো নিয়ে বড়দের মধ্যে সাংকেতিক ভাষায় কথা হতো। ” “এটা ছিল এমন – যেন পুরো জাতিই একটা মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে।” হিশাম বলেন, তার মা-ই প্রথম সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের দেশ ছাড়তে হবে। এটা ছিল ১৯৭৯ সালের কথা।হিশামের বাবা তখন একজন সফল ব্যবসায়ী, এবং তিনি তার মতামত প্রকাশ করতে ভয় পেতেন না। তার ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। কিন্তু তার মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল তার দুই সন্তানকে নিয়ে – হিশাম এবং তার ভাই।”হ্যাঁ, কারণ এটা ছিল সেই সময়টা যখন স্কুলগুলোকে সামরিকায়ন করা হচ্ছিল। যেমন – এক সপ্তাহের মধ্যে আমার ভাইয়ের স্কুলে যাবার পোশাক পাল্টে গেল। আগের সপ্তাহে তার ছিল স্বাভাবিক স্কুল ইউনিফর্ম – পরের সপ্তাহে সেটা হয়ে গেল সামরিক ইউনিফর্ম। মাত্র ১৩-১৪ বছর বয়েসে তার সামরিক ট্রেনিং শুরু হয়ে গেল।”

 

 

 

 

 

“সে সময় চাদের সাথে লিবিয়ার যুদ্ধ চলছে এবং ১৬-১৭ বছরের ছেলেদের যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছিল। এসব ঘটনা দেখে মা দেশ ছাড়ার জন্য মনস্থির করে ফেললেন।” কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে হিশাম এবং তার ভাইকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন তাদের মা। তার স্বামীর জন্য অবশ্য দেশ ছাড়তে আরো অনেকটা সময় লাগলো।”বাবার দেশ থেকে বেরুতে প্রায় এক বছর লেগেছিল। তিনি চাদ সীমান্ত দিয়ে লিবিয়া ছেড়ে পালিয়েছিলেন। প্রায় পুরোটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছিল।”সেখান থেকে মিশরে গিয়ে স্ত্রী-পুত্রের সাথে মিলিত হলেন জাবালা মাতার। কিন্তু ওই এক বছরে তার চেহারায় অনেক পরিবর্তন হয়েছিল, তার চুল প্রায় সব পেকে সাদা হয়ে গিয়েছিল।হিশামের পরিবার কায়রোতে বাস করা শুরু করলেন। দেশের জন্য মন খারাপ করলেও, হিশামের এখনো মনে আছে প্রথমবারের মত বাড়ির বাইরে ফুটবল খেলতে পারার আনন্দ।অন্যদিকে এসময়টাতেই হিশামের বাবা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠলেন। তার জমানো অর্থ-সম্পদ তিনি কাজে লাগালেন গাদ্দাফির কর্মকান্ডের বিরোধিতা করার জন্য।”এটা ধীরে ধীরে হয়েছিল। আমার মনে হয়, তিনি লিবিয়াকে দেখতেন একটা মানুষের মতন – যে সমস্যায় পড়েছে এবং যেন তাকে তার উদ্ধার করতে হবে।”

 

 

 

 

“এটা একটি জটিল ব্যাপার। একজন পিতা যখন একটা আদর্শের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হন, তখন তার পরিবারের জন্য ভালোবাসা যতই থাকুক, আপনি বুঝবেন যে তার একটা অন্য জীবন আছে। সেখানে অন্য ভিন্নমতাবলম্বীরা সব সময় বাড়িতে আসা-যাওয়া করছে। প্রতিদিনই অন্তত চারজন বা তারও বেশি লোক আমাদের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করছেন। কোন দিন যদি এমন হতো যে শুধু পরিবারের আমরা কয়েকজনই মাত্র একসাথে খেতে বসেছি – সেটা যেন একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।”গাদ্দাফি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে দেশের বাইরে বসেও যদি কেউ তার বিরোধিতা করে তাহলে তিনি তাকে খুঁজে বের করবেন। হিশাম বলছিলেন কিভাবে তারা প্রথম এই বিপদটা টের পেলেন।”আসলে বিপদের কথাটা মাথায় ছিল না এমন সময়ের কথা আমি মনে করতে পারি না। লিবিয়া ছেড়ে আসার আগের কিছুদিনও সেটা বোঝা যাচ্ছিল। আমাদের ফোন ট্যাপ করা হতো। আমাদের স্কুল থেকে ফিরে আসার সময় আমাদের অনুসরণ করা হতো।””আর মিশরে আসার পর বাবা হয়ে উঠলেন গাদ্দফির অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ। ১৯৮০র দশকে বিদেশে অবস্থানরত সবচেয়ে প্রভাবশালী গাদ্দাফিবিরোধীদের মধ্যে আমার বাবা ছিলেন অন্যতম।

 

 

 

 

“এর জন্য একটা মূল্যও দিতে হয়েছিল। হিশামের ভাই একবার সুইৎজারল্যান্ডে অপহরণের শিকার হতে হতে কোন মতে রক্ষা পেয়েছিলেন। তার বাবা জাবালা মাতার সাথে বন্দুক রাখতেন, কখনো কখনো গাড়ির নিচে পরীক্ষা করে দেখতেন বোমা রাখা হয়েছে কিনা।”হ্যাঁ, ইউরোপে থাকার সময় এটা করতে হয়েছিল। কারণ এরকম ঘটনা ঘটেছিল। ইতালিতে, ইংল্যান্ডেও গাড়ি বোমা দিয়ে হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছিল। কাজেই বাবা অত্যন্ত সাবধানে চলাফেরা করতেন, একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।””এটাই হলো নিয়তির পরিহাস যে আসলে মিশরে থাকার সময়ই বাবা নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে সেই দেশটিই প্রতারণা করে তাকে গাদ্দাফির সরকারের হাতে তুলে দেয়।”১৯৯০ সালের মার্চ মাসে কায়রোতে তাদের এ্যাপার্টমেন্টে মিশরের গোপন পুলিশ হানা দেয়, এবং জাবালা মাতারকে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ। হিশামের বয়েস তখন ২০ এবং তিনি তখন লন্ডনে পড়াশোনা করছিলেন।”তাকে বিমানে করে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়, এবং তার পর তার আর কোন হদিশ পাওয়া যায় নি। মিশর ও লিবিয়া উভয়েই বলতো, আমরা জানি না তিনি কোথায় আছেন। সেই থেকে আমরা এভাবেই আছি।”এর পর মি. মাতারের পরিবার দুটি ছবি পান। তাতে বলা হয় জাবালা মাতারকে ত্রিপোলির কুখ্যাত আবু সালিম কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পর আর কিছুই জানা যায় নি।”কারাগার থেকে মি. মাতার যে সব চিঠি লিখেছিলেন, তা বেশ অস্বাভাবিক। তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন কি ঘটেছিল, গ্রেফতারের পর কিভাবে তাকে নিয়ে আসা হলো। তিনি লিখেঝেন যে তার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। লিখেছেন যে অনেক সময় এক বছর পর্যন্ত তিনি সূর্যের আলো দেখতে পান না।”

 

 

 

 

 

“তিনি তার কারাকক্ষের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি যে এসব বর্ণনা করা উপভোগ করতেন তা নয়, কিন্তু এগুলোর থেকে আমাদের রেহাইও দিতেন না। আবার এগুলো পড়ে আমাদের যে কষ্ট হচ্ছে – সেটা বুঝে তার জন্য তিনি দু:খও প্রকাশ করতেন।””তিনি আমাদের বলতেন, এগুলোর জন্য কষ্ট না পেতে। বলতেন – আমাদের উচিত তার এই দুর্ভোগকে একটা শোকাবহ ঘটনা হিসেবে না দেখা। আমাদের মনে রাখা উচিত যে তিনি একদিক থেকে ভাগ্যবান – কারণ তার মধ্যে এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো তেজ ছিল।”হিশাম মাতার এবং তার পরিবারের এখনো জানা নেই যে ওই চিঠিগুলো লেখার পর তার বাবার কি ভাগ্যে কি ঘটেছে।তাকে খুঁজে পাবার চেষ্টায় হিশাম গাদ্দাফির ছেলে সাইদের সাথে সাথেও দেখা করেছেন।গাদ্দাফির পতন হয় ২০১১ সালে। তার পর হিশাম লিবিয়া গিয়েছিলেন, তার পিতাকে খুঁজে বের করতে।তাকে তিনি খুঁজে পান নি, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ‘দি রিটার্ন’ নামে একটি বই লিখেছেন – সে বই পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে।

(আবিদ হোসেন)

বাংলাদেশ সময়: ০৭:১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৬, ২০১৮