প্রথমবার্তা, নিজস্ব প্রতিবেদন :    ঘর, সংসার,সামাজিক দায়-দায়িত্ব এসবের ঝক্কি সামলে নারীরা প্রতিনিয়তই নিজেকে শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে ফেলে দেয়। পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন মহিলারা। অপরিষ্কার শৌচালয়ের কারণে সংক্রমণের শিকার হন অনেকেই। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এক শতাংশের কম মানুষ খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে। কিন্তু এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার তুলনায় পাবলিক টয়লেটের সংকট একটি বড় সমস্যা। আর এর ফলে নিত্য ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীরা। ভুক্তভুগি একজন নারী বলেন, “রাস্তায় বের হলে জ্যামের কারণে যেকোন জায়গায় জায়গাতে পৌছানো একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

 

 

 

এই সময়ের মধ্যে যদি টয়লেট চাপে, কই যাবো? টয়লেট তো নাই। দুএকটা যদি পাওয়াও যায়, সেসব এত নোংরা থাকে, যাওয়া যায়না।” “আবার পাবলিক টয়লেটে যে যাব, সেখানে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না, তার কোন গ্যারান্টি নাই। ফলে রাস্তায় বের হবার আগে থেকেই পানি বা কোন খাবার খাই না।” নারীদের কথা ভেবে বিশেষ ‘স্ট্যান্ড অ্যান্ড পি’ প্রযুক্তি আনলেন আইআইটি দিল্লির পড়ুয়ারা। মহিলাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এমন উদ্যোগ। এটি একটি ছোট্ট ডিভাইস যার সাহায্যে দাঁড়িয়ে শৌচকর্ম সারতে পারবেন মহিলারা। রাস্তাঘাটে নোংরা টয়লেটের সিটে আর বসতে হবে না তাঁদের। সোমবার ‘সানফে’ (স্যানিটেশন ফর উইমেন) নামের ওই বিশেষ ডিভাইসটি সামনে আনা হয়। নোংরা টয়লেটে যাবার ভয়ে অনেক মহিলারাই সারাদিন পানি না খেয়ে থাকেন ।

 

 

 

ফলাফল অনেক ভয়ানক হয়। তলপেটে সারাক্ষণ যন্ত্রণা এবং ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন / ইঊ টি আই তে আক্রান্ত হয়। তাই বাথরুম করার সুবিধা এখন মেয়েদের হাতের মুঠোয়। মেয়েদের বাথরুম করার জন্য ব্যাগে বহমানযোগ্য বাথরুমের উদ্ভাবন হয়েছে। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউ টি আই) নারীদের মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন একটি প্রচলিত সমস্যা। পর্যাপ্ত পানি পান না করা, জীবাণুর সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে এ সমস্যা হতে পারে। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউ টি আই ব্লাডারে হতে পারে। এটি বয়ঃসন্ধিদের হতে পারে, যেকোনো নারীর হতে পারে এবং ছেলেদেরও হতে পারে। তবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সমস্যাটি বেশি হয়। একবার এ রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে আবারো এ সমস্যায় পরার সম্ভাবনা ২০% বেড়ে যায়।

 

 

 

তাই এটি এড়াতে প্রচুর পানি পানের পাশাপাশি সঠিক পরিচ্ছন্নতা এবং পরিচ্ছন্নতা মেনে চলুন। ইতিমধ্যে দিল্লির এইমসে ফানেলের মতো ডিভাইসটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। তার পরই তা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সামনে আনা হয়। পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত শৌচালয় ব্যবহারের অধিকার আমাদের সকলের। তার জন্য দেশজুড়ে #স্ট্যান্ড আপ ফর ইয়োরসেল্ফ আন্দোলন শুরু হয়েছে। তার আওতায় লক্ষ লক্ষ ডিভাইস মহিলাদের মধ্যে বিনামূল্যে বিলি করা হবে। বিটেক পড়ুয়া এবং ‘সানফে’-র সহ প্রতিষ্ঠাতা অর্চিত অগ্রবাল বলেন, ‘‘রাস্তাঘাটের শৌচালয়গুলি একেবারেই ব্যবহারের উপযোগী নয়। প্রতি দু’জনের মধ্যে একজন মহিলার মূত্রনালিতে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই ডিভাইস এনেছি আমরা।

 

 

 

এটি ব্যবহার করলে মহিলাদের আর টয়লেট সিটে বসতে হবে না। বরং নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়েই শৌচকর্ম সারতে পারবেন।’’ গর্ভবতী মহিলারাও এই ডিভাইসে উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্ষণ পেট চেপে বসে থাকতে হবে না তাঁদের। এ ছাড়াও আর্থরাইটিসে ভুগছেন যাঁরা, ভিন্নভাবে সক্ষম যাঁরা, তাঁরাও উপকৃত হবেন। রেল স্টেশন হোক বা বাস টার্মিনাল অথবা ট্রেনের শৌচালয়, সর্বত্র ব্যবহার করা যাবে ডিভাইসটয়। তে হবে না। নারীর লজ্জার চাইতে আজ সচেতনতা প্রয়োজন। আমাদের নিত্যদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে একটু পরিবর্তন আনলে সহজেই এড়ানো সম্ভব অনেক স্বাস্থ্যগত জটিলতা। নিয়মিত কিছুসময় ব্যায়াম/শরীরচর্চা করা। সুতরাং বলা যায় যে, লজ্জা বা অবহেলা নয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চাই সচেতনতা।