ইউছুফ আরমান: আজ ১২ই রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সঃ) এবং সিরাতুন্নবী(সঃ) হিসেবে উদযাপিত হয়। এই দিনেই আমাদের প্রিয় নবী ও শেষ নবী, নবীকুলের শিরোমণি, বিশ্বমানবতার আশীর্বাদ, বিশ্বে ইসলাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারক হযরত মুহাম্মদ(সঃ) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদেকের সময় আরবের সম্ভ্রান্তর কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। মহানবী(সঃ) জন্মের সময় একটি আলোকবর্তিকা নির্গত হয়। যা পূর্ব পশ্চিমে আলোকিত করে ফেলে।

 

 

 

পারস্য রাজ কিসরার শাহী মহলে ভূমিকম্পন শুরু হয়। ফলে চৌদ্দটি গম্বুজ ধ্বসে পড়ে। পারস্যের শ্বেত উপসাগর হঠাৎ করে শুকিয়ে যায়। পারস্যের হাজার বছরের পুরাতন অগ্নিকুন্ডু আকস্মিকভাবেই নির্বাপিত হয়ে যায়। মহানবী(সঃ) ভূমিষ্ট হয়ে হাতে একমুষ্টি মাটি নিয়ে আকাশের দিকে তাকান। ঐতিহাসিক সূত্রে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে মহানবী(সঃ) ১১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন। আর সে হিসেবে ১২ই রবিউল আউয়াল মুসলিম জাতির জন্য একটি শোকাবহ দিন। কাজেই মানবজাতির মুক্তির জন্য মুহাম্মদ(সঃ) এর আগমন ছিল মহা অার্শীবাদ স্বরূপ। নিম্নে তার জীবনের চরিত্র ও কৃতিত্ব তুলে ধরা হল।

 

 

 

জীবনের চরিত্র ও কৃতিত্বঃ- শৈশবকাল থেকে মহানবী(সঃ) এর কাজ কর্ম ছিল আকর্ষণীয় এবং চরিত্র ছিল সর্বোত্তম। মিথ্যা কখনো তাকে স্পর্শ করতে পার নি। জীবনে কখন উলঙ্গ হন নি। তিনি ছিলেন ধনী-গরীব সকলেরই আপনজন। তাই তো সকলে মিলে তাকে শৈশব কালে “আল আমিন” উপাধিতে ভূষিত করেছিল।সহানুভূতিশীলঃ- শৈশবকাল থেকেই রাসূল(সঃ) এর জীবনে সহানুভূতিশীলতার বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়।নিরপেক্ষ বিচারঃ- শৈশবকাল থেকেই রাসূল(সঃ) ন্যায়বিচারক ছিলেন। তার সততা, সত্যবাদীতা, সুতীক্ষ্ম বুদ্ধি এবং সুন্দর আচার-আচরণ অর্পন করতেন। বিচারকার্য সমাধা করে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেন।আড়ম্বরহীনঃ- রাসূল(সঃ) বাল্যকাল থেকেই অতি সাধারণ জীবন যাপন করতেন। তার মধ্যে কোন অহংকার ছিল না। একচ্ছত্র সম্রাট হয়েও তিনি খেজুর গাছের পাতা আর কাদামাটির তৈরি বাড়িতে বসবাস করতেন।

 

 

 

ক্ষমাশীলঃ-ক্ষমা ছিল রাসূল(সঃ) এর জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ। তিনি চির শত্রু কে ও ক্ষমা করতেন। ক্ষমার ইতিহাসে এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।বিদায় হজের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্যঃ- দশম হিজরীতে মহানবী(সঃ) জীবনের শেষভাগে বিদায়ী হজ পালন করতে এসে আরাফাতের ময়দানে বিশাল জনসমুদ্রে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তা মানবজাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার ভাষণে তাৎপর্য নিম্নে তুলে ধরা হল।নারীর মর্যাদাঃ- মহানবী(সঃ) তার ভাষণের মধ্য দিয়ে নারী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। নারীদের প্রতি সহৃদয় ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়ে তিনি নারী-পুরুষের সম্পর্ক সম্মানজনক করে তুলেছেন।দাসদাসীর অধিকারঃ- মহানবী(সঃ) তার বিদায় ভাষণের মধ্য দিয়ে সমাজের সবচেয়ে নিগৃহীত ও নির্যাতিত দাসদাসীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন।জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাঃ- আরাফাতের ময়দানে রাসূল(সঃ) এর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

 

 

 

ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ প্রতিষ্ঠাঃ- মহানবী(সঃ) তার ভাষণে সকল প্রকার পাপাচার, অনাচার, অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য আহবান জানান।পরিসমাপ্তিঃ- বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার পরম বন্ধু ও শিক্ষক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ(সঃ) তার চিরন্তন ও শাশ্মত এ ভাষণে প্রত্যেক মানুষের জীবন ও সম্পদের পবিত্রতা, নারীর অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বভ্রাতৃত্বসহ সমস্ত মৌলিক দিক গুলো তুলে ধরেছেন। মানবজাতির কল্যাণের জন্য এটি একটি অনবদ্য দলিল বিশেষ। সুতরাং পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে ততদিন মানুষের শ্রদ্ধার সাথে এ বানী স্মরণ করবে। সুতরাং এ দিবসটি একই সঙ্গে আনন্দ-বেদনার বটে। ফলশ্রুতিতে মহানবী(সঃ) জীবনের কাজ কর্ম অনুসরণীয়-অনুকরণীয় অপরিহার্য। আমাদের প্রিয় নবী ও শেষ নবী, নবীকুলের শিরোমণি, বিশ্বমানবতার আশীর্বাদ, রহমতুললিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ(সঃ) বিশ্বজাহানের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

 

 

 

লেখক পরিচিতি: ইউছুফ আরমান, শিক্ষানবিশ আইনজীবি, কলামিষ্ট, সাহিত্যিক, ফাজিল, কামিল বি.এ অনার্স, এম.এ, এলএল.বি, দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী, বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়, ৬নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার