প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   সামান্য কারেকশনের মধ্যে দিয়ে টানা উত্থানে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। অব্যাহত উত্থানে গত ১৬ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন বেড়েছে ৩৫ হাজার ৭১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এসময় মাত্র দুই কার্যদিবসে কারেকশনে ছিল পুঁজিবাজার।

 

 

 

 

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা পুঁজিবাজারের উত্থানের বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করছে। তাই, বাজারের অবমূল্যায়িত্ব কোম্পানিগুলো শেয়ার দর ধারাবাহিক ভাবে বাড়ছে।তবে, লোকসানি ও উৎপাদনহীন কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সর্তক থাকা উচিত।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে অব্যাহত উত্থানে রয়েছে পুঁজিবাজার। ওইদিন বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ৫২১৮.০১ পয়েন্ট। কিন্তু এর পর থেকে নিয়মিত উত্থানে রোববার বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক ৫৮৬০.২১ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ ১৬ কার্যদিবসে পুঁজিবাজারের মূল্যসূচক বেড়েছে ৬৪২.২ পয়েন্ট।১৬ কার্যদিবসে বাজারের মূল্যসূচক ৬৪২.২ পয়েন্ট বাড়ার পাশাপাশি বাজার মূলধনের ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। ১৭ ডিসেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। রোববার তা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭২৮ কোটি ৩ লাখ টাকায় স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ ১৬ কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩৫ হাজার ৭১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বেড়েছে।

 

 

 

 

 

লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী পলাশ-উজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পাশাপাশি আতঙ্কও বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাজারের ‘জেড’ ক্যাটাগরি ও উৎপাদনহীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অব্যাহত উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা সৃষ্টি করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা উচিত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বাড়া ও কমা উভয়ের কারণ খুঁজে বের করা।

বিনিয়োগকারী ইসতিয়াক হাফিস বলেন, শেয়ারের দাম বাড়বে-কমবে এটাই স্বাভাবিক। যখন কোনো শেয়ারের দাম একনাগাড়ে লাগামছাড়া বাড়তে-কমতে থাকে, সেটা অস্বভাবিক।অনুরূপভাবে সূচক যখন লাগাতার কমে-বাড়ে সেটাও অস্বভাবিক। আর এতে করে অনেক শেয়ারই খুব দ্রুত অতিমূল্যায়িত বা অবমূল্যায়িত হয়।

 

 

 

 

 

 

 

সবচেয়ে বিপদজনক, সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ অনেকেই প্রলোভনে পড়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অতিমূল্যায়িত শেয়ারে এন্ট্রি দেন। তাই সকল বিনিয়োগকারীকে সর্তক হয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, নতুন অর্থমন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণ করায় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে খুব আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সর্তক হয়ে বিনিয়োগ করা উচিত।