প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু করতে যাচ্ছে প্রকৌশল খাতের এসএস স্টিল লিমিটেড।আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে একযোগে লেনদেন শুরু করবে কোম্পানিটি।এর আগে গত ১২ নভেম্বর পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করেছিল কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড।আইপিও’র মাধ্যমে দীর্ঘ ২ মাস পর পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি লেনদেন শুরু করায় কোম্পানিটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বেশি। ইস্যু মূল্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর কেমন হবে তা নিয়ে জ্বল্পনা-কল্পনার শেষ নাই।

 

 

 

 

তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আইপিও’র কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের আগে কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা এবং আনুষঙ্গিক ইস্যুগুলো জানা জরুরি।

 

 

 

 

এসএস স্টিলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ‘এন’ ক্যাটাগরির আওতায় লেনদেন শুরু করা এসএস স্টিল লিমিটেড। কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড-SSSTEEL এবং ডিএসইতে কোম্পানি কোড-13245।

গত ২৩ ডিসেম্বর লটারি বিজয়ীদের বিও অ্যাকাউন্টে সেন্ট্রাল ডিপোজিটারি বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে শেয়ার বরাদ্দ সম্পন্ন করেছে কোম্পানিটি।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর আইপিও আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দে লটারির ড্র আয়োজন করেছিল এস এস স্টিল।

 

 

 

 

প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন

কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৮) শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ৩৩ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩৬ টাকা।

 

 

 

 

আগের বছর একই সময় কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছিল ৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ০.২৭ টাকা। এ হিসাবে চলতি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ও শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ০.০৯ টাকা বা ৩৩ শতাংশ।

এদিকে, আইপিওতে ইস্যুকৃত ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বিবেচনায় কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৩২ টাকা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭.২৭ টাকা। তবে, আইপিওতে ইস্যুকৃত ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বিবেচনায় এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৬.৫৩ টাকা।

 

 

 

 

আইপিও’র মাধ্যমে শেয়ার ছেড়েছে

এস এস স্টিল পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

 

 

 

 

আইপিও’র মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার

পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় ও স্থাপন, ভবন নির্মাণ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে বলে প্রসপেক্টাসে জানিয়েছে।

কোম্পানিটি ২১ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় ও স্থাপন করবে। বাদবাকি টাকার ১ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০ ফিট উচু ৪ তলা স্টিল স্ট্রেকচার তৈরি করবে। এছাড়া ২ কোটি ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা আইপিও সংক্রান্ত ব্যয় করবে।

 

 

 

 

লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ

কোম্পানিটি আইপিও’র মাধ্যমে ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার বাজারে ছেড়ে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রয় উপযোগী হবে। অর্থাৎ প্রথম কার্যদিবসে বিক্রয় উপযোগী হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৬২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার।

 

 

 

 

পাবলিক ইস্যু রুলস অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাদবাকি ৬২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখ ২৫ হাজার বিক্রয় উপযোগী হবে প্রসপেক্টাস ইস্যুর ৬ মাস পরে। অর্থাৎ আগামী ৩ মার্চ কোম্পানিটির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োকারীদের ৩১ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বিক্রয় উপযোগী হবে।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাদবাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রসপেক্টাস ইস্যুর ৯ মাস পর বিক্রয় উপযোগী হবে। অর্থাৎ আগামী ৩ জুলাই এসএস স্টিলের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৩১ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বিক্রয় উপযোগী হবে।

 

 

 

 

প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের লকইন সম্পর্কত তথ্য

প্রসপেক্টাসের তথ্যানুযায়ী, আগামী ১৭ জুলাই কোম্পানিটির প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের শেয়ার বিক্রয় উপযোগী হবে। কোম্পানিটির ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩২ হাজার শেয়ার প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের নিকট রয়েছে।

এছাড়া কোম্পানির পরিচালনা পর্ষনের নিকট থাকা ১২ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার শেয়ারের লকইন আগামী ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর লকইন মুক্ত হবে।

 

 

 

 

কিন্তু ২সিসি ধারা অনুযায়ী, কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সমন্বিত ভাবে সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ শেয়ার সংরক্ষণ করতে হবে।

 

 

 

 

আইপিও পরবর্তী শেয়ার ধারণ (শতাংশে)

কোম্পানিটির সর্বমোট শেয়ারের ৩২.৩৩ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের নিকট রয়েছে। বাদবাকি শেয়ারের ৩০.৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিকট, ০.০২ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট ও ৩৭.১৮ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্তক থাকা উচিত। কারণ, কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের অতীত ইতিহাস নাই। তাই বিনিয়োগের আগে অবশ্যই কোম্পানি ব্যবসায়িক অবস্থা জেনে সিদ্ধান্ত নেয়া উত্তম।