প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে (২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ জুন পর্যন্ত) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি কোনো মুনাফা করতে পারেনি। উল্টো তিন কোটি ৬৭ লাখ টাকা লোকসানে আছে। শেয়ারপ্রতি ১৭ টাকা ১৫ পয়সা লোকসানে থাকায় হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে স্থান হয়েছে ‘পঁচা’ বা জেড গ্রুপে।

 

 

 

 

মোটা অঙ্কের লোকসান করা এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার পরও নতুন হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে হুহু করে। ১৪ জানুয়ারি লেনদেন শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪২৮ টাকায়। অথচ গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে এর শেয়ারের দাম ছিল ৩২৫ টাকা। সে হিসেবে সাড়ে তিন মাসে দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ।

 

 

 

 

অর্থাৎ জেড গ্রুপের এ কোম্পানির শেয়ারে এক লাখ টাকা সাড়ে তিস মাস খাটিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মুনাফা পাওয়া গেছে।দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে নিমজ্জিত এবং জেড গ্রুপে থাকা আরেকটি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো সিনথেটিক। গত ২ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল পাঁচ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বেড়ে ৬ জানুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১০ টাকায় উঠে আসে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

 

 

 

 

অন্যভাবে বলা যায়, যদি কোনো বিনিয়োগকারী ডিসেম্বরের শুরুতে বেক্সিমকো সিনথেটিকের শেয়ারে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে বর্তমানে তার কাছে থাকা শেয়ারের মূল্য এক লাখ ৭২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এক লাখ টাকা এক মাস খাটিয়েই ৭২ হাজার টাকা মুনাফা পাওয়া গেছে।শেয়ারের দামে এমন উল্লম্ফন ঘটলেও কোম্পানিটি ২০১২ সালের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বরং প্রতি বছরই লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৭ পয়সা। এর আগে ২০১৪ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় ৩১ পয়সা। এছাড়া ২০১৫ সালে ৮১ পয়সা এবং ২০১৬ সালে এক টাকা ১৮ পয়সা শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়। আর ২০১৭ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় দুই টাকা ৬২ পয়সা।

 

 

 

 

শুধু নর্দান জুট বা বেক্সিমকো সিনথেটিক নয় সম্প্রতি বেশকিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম এমন অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বার্তাও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু এতেও লাভ হচ্ছে না। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম হুহু করে বাড়ছে।

 

 

 

 

দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় পুঁজিবাজারে ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।তারা বলছেন, সম্প্রতি পুঁজিবাজারে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে তা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু ভালো মানের কোম্পানির পাশাপাশি কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার যথাযথ কোনো কারণ নেই। কোনো বিশেষ চক্র পরিকল্পতিভাবে এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়াচ্ছে। এতে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সাধারণ বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার কিনছেন। ফলে ওই বিনিয়োগকারীর পুঁজি যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে তেমনি বাজারে সৃষ্টি হচ্ছে ঝুঁকি।