প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  একবার ভাবুন তো! মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে আইন পেশা থেকে অবসর- তাও বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশে! যেখানে বয়স ত্রিশের কোঠায় পৌঁছালে সবাই ক্যারিয়ারের মধ্যভাগে পৌঁছে বাড়ি কেনা, পরিবার গোছানো কিংবা অবসরের জন্য অর্থ জমা করতো (যেটা হয়তো ত্রিশ বছর পরের প্রয়োজন)।

কিন্তু এমনটাই করেছেন অনিতা ঢাকে। ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই নারী মাত্র তেত্রিশ বছর বয়সে আইন পেশা থেকে নিয়েছেন অবসর- তাও বিশ্বভ্রমণের জন্য।

এরই মধ্যে তিনি ঘুরে ফেলেছেন চীন, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন ও ব্রাজিল। ততক্ষণ বাড়ি ফিরছেন না যতক্ষণ তার তৈরি করা তালিকার বাকি দেশগুলো দেখা শেষ করছেন। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

 

হঠাৎ করেই ইচ্ছাটা হয়নি তার। ২০০৯-সালে শিকাগোর বড় একটি আইনি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সাক্ষাৎকারের সময় মনে জাগে বিশ্বভ্রমণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

অনেকেই ভাবতে পারেন, আমেরিকায় বসবাসকারী একজন আইনজীবীর কাছে ব্যাপারটি সহজ ছিল। কিন্ত ব্যাপারটি মোটেও সহজ ছিল না। তবে ইচ্ছা ছিল অদম্য। তাই একদিন এক বন্ধুকে বলেন, যদি নির্ধারিত সময়ের থেকে চারগুণ বেশি কাজ করা যায় তবে অন্যদের চারগুণ আগে অবসরে যাওয়া সম্ভব। সেদিন সেকথা তার বন্ধু মানতে না চাইলেও সেটাকেই সত্য করে দেখিয়েছেন অনিতা।

২০১০-এ অক্টোবরে এক আইনিপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে বছরে আয় করতেন ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। কিন্তু পড়াশোনার খরচের জন্য নেয়া ধার মেটাতেই চলে যায় প্রথম বছর। পরের বছর শুরু করেন জমানো। অর্থ জমাতে বেছে নেন অতি সাধারণ জীবন। এমনকি প্রয়োজন ছাড়া কেনাকাটা করতেন না। ব্যবহার করতেন বড় বোনের জামাকাপড় আর চড়তেন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে। নিজস্ব কোনো গাড়িও ছিলনা তার।

লক্ষ্য ছিল একটাই- অর্থ জমানো। অবশেষে চার বছর পর জমা পড়ে সাত লাখ ডলার। এরপর ছেড়ে দেন চাকরি।

 

 

 

 

 

তবে তার এমন সিদ্ধান্তে সবাই, এমনকি খোদ তার মা-ও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তখন থেকেই শুরু করেন ‘The power of thrift’ বা মিতব্যয়িতার শক্তি- নামে একটি ব্লগ। যেখানে তিনি তরুণ বয়সেই কিভাবে অর্থ জমানো ও ভ্রমণ করা সম্ভব সেটা নিয়ে লিখেন।

বলেন, ‘আমার মনে হতো, কাজের বিনিময়ে নয়, আমার জীবনের বিনিময়ে তারা আমাকে অর্থ প্রদান করছে। সে জীবনের মূল্য কি কোনো অর্থের সমান? আমি বুঝেছি, জীবন একটাই আর যেটা আমি আর কখনই ফিরে পাবো না।’

২০১৩-তে ভ্রমল শুরু করেন তিনি। এরই মধ্যে ৪৮টি দেশ ভ্রমণ শেষে এখন আছেন নরওয়েতে।

 

 

 

 

 

অনিতা ঢাকে আরও জানান, এখন বিশ্বভ্রমণে থাকলেও হয়তো একদিন কর্মক্ষেত্রে ফিরবেন। নিজের আইনি প্রতিষ্ঠানও খুলতে চান- তবে সেটা ভবিষ্যত, এখন জীবনের স্বর্ণালী সময় কাটাতে ব্যস্ত তিনি।

তাই বললেন, এই মুহূর্তে কাজ নয়, ভ্রমল, বই পড়া আর ঘুমোতেই উপভোগ করছি জীবন।