প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোয় সোমবার যারাই বিমানবন্দর থেকে বের হচ্ছিলেন, সবার জন্য ছিল ব্যতিক্রমী এক অভ্যর্থনা। সাধারণত উষ্ণ সংবর্ধনায় শুভেচ্ছা জানানোর রীতি থাকলেও সেদিন অন্য এক অভিজ্ঞতা হয়েছে সবার। শহরের খোদ পুলিশ এবং অগ্নি নির্বাপক বাহিনী বিশাল ব্যানার হাতে যে সংবর্ধনা দেয় তাতে লেখা ছিল ‘ওয়েলকাম টু হেল’, অর্থাৎ -নরকে স্বাগতম।

 

 

 

 

নিরাপত্তা বাহিনীর এমন শুভেচ্ছায় অনেকেই রীতিমত হতবাক হয়েছেন। অবশ্য পরবর্তী লেখাগুলো দেখে বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে সবার। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘পুলিশ আর অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। ফলে রিও ডি জেনিরোতে আগতরা কেউই নিরাপদ নন।’প্রতিবাদ জানাতে সেদিন এই অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করে রিও’র দুই গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী।

 

 

 

 

আসলে বেতন দেরিতে হচ্ছে বলে তারা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে এভাবে।পুলিশ আর দমকল কর্মীদের এমন অভিনব শুভেচ্ছা আর আশ্বাস বাণী পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আর কিছুদিন পরই রিওতে অলিম্পিক গেমসের আসর বসছে। এর আগে ব্রাজিল যেসব সংকটের মধ্যে আছে, এর সাথে যোগ হয়েছে রিও ডি জেনিরোর গুরুত্বপূর্ণ দুই বাহিনীর অসন্তোষ।

 

 

 

 

রিও পুলিশের পক্ষ থেকে অনেকে বলছেন, বর্তমানে সংকটজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে রাজ্যের পুলিশ বাহিনী। অর্থ সংকটের কারণে অনেক পুলিশ টহল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি জ্বালানি কেনার অর্থও না থাকায় অভিযানে গাড়িও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে তাদের কার্যক্রম পড়েছে হুমকির মুখে।

 

 

 

 

রিওর গভর্নর ফ্রান্সিসকো ডরনেলেসে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ব্রাজিলের ফেডারেল সরকার ৮৬ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও সেই অর্থ হাতে আসেনি। ফলে অচল হতে বসেছে তাদের কার্যক্রম।গত কয়েক মাস ধরে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে ব্রাজিল।

 

 

 

 

 

 

এর পাশাপাশি রয়েছে জিকা ভাইরাস সংকট। জিকা আতংকে এরই মধ্যে অনেক দেশের ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক গেমস থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অবশ্য রিও অলিম্পিকের আয়োজকেরা জিকা ভাইরাসের আতংকের বিষয়টি মানতে নারাজ।