প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   বাংলাদেশের মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোড়ন উঠেছিল। দেশের এক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের রিপোর্টে উঠে আসে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞানের অজ্ঞতার বিষয়টি। প্রতিবেদনে দেখা যায় প্রশ্নের বাইরে অনেক প্রচলিত বিষয় সম্পর্কেই কোনো ধরনের জ্ঞান তাদের নেই।

 

 

 

 

 

তবে ভারতের বিহারে যা ঘটেছে সে তুলনায় এটি বোধহয় নস্যিই। দেশটির বিহার রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কলা বিভাগে যিনি প্রথম হয়েছেন তার প্রশ্নপত্র সম্পর্কেই নেই কোনো ধারণা। বিহারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর এক টিভি সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রশ্নের ‘আজব’ জবাব দিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন বৈশালী জেলার ভগবানপুরের বিষুণ রায় কলেজের ছাত্রী রুবি। পলিটিক্যাল সায়েন্সকে ‘প্রডিক্যাল সায়েন্স’ বলে গোটা দেশে সাড়া ফেলে দেন তিনি। এর পরেই নড়েচড়ে বসে বিহার সরকার।

 

 

 

 

 

গেল ৩ জুন সাক্ষাৎকারের জন্য মেধাতালিকায় থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রুবিকেও রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে ডাকা হয়েছিল। তবে সে দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি অনুপস্থিত থাকেন। তাকে ১৭ জুন আবার ডাকা হলেও কাজ হয়নি। তৃতীয় বার ডাকার পরে ২৫ জুন হাজিরা দেন রুবি।

 

 

 

 

 

বিহারের কলা বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী রুবি রাইকে যখন পরীক্ষকরা তুলসীদাসের উপর একটি প্রবন্ধ লিখতে বলেন, সাদা খাতায় উত্তরে শুধু লেখেন ‘তুলসীদাস প্রণাম’। পরীক্ষকরা এ বিষয়ে তাকে আরও কিছু লিখতে বললেও এর বেশি কিছু লিখতে পারেননি তিনি। পরীক্ষকরা জানান, এ বছর বোর্ডের পরীক্ষায় তুলসীদাসের উপর এই প্রশ্নটিই ছিল।

 

 

 

 

 

রুবির আগের খাতা পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি বেশ ভালোই লিখেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্ন যখন শনিবারের পরীক্ষায় দেওয়া হল, শুধু তুলসীদাস প্রণাম লিখেই ছেড়ে দেন রুবি! এতে পরীক্ষকরাও অবাক হয়ে যান। কারণ জানতে চাইলে রুবি বলেন, পরীক্ষার জন্য তিনি দু’বছর ধরে পড়েছেন, পরীক্ষাও দিয়েছেন। যেহেতু পরীক্ষার তিন মাস হয়ে গিয়েছে, তাই এ বিষয়ে তার আর কিছু মনে নেই।

 

 

 

 

 

 

 

বিহারে বিদ্যালয় পরীক্ষা সমিতির দফতরে দু’ঘণ্টা ধরে পরীক্ষা নেওয়া হয় রুবির। পরে বিশেষজ্ঞ কমিটি জানান, কলা বিভাগের বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞানটুকুও রুবির নেই। বোর্ডের প্রধান আনন্দ কিশোর জানান, বিশেষজ্ঞ কমিটির মতে প্রথম হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই রুবির।

 

 

 

 

 

 

 

এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবির পরীক্ষার খাতা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। যাচাই করে দেখা হবে তিনি আদৌ পরীক্ষা দিয়েছিলেন, নাকি তার হয়ে অন্য কেউ পরীক্ষায় বসেছিল।