প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। মানিকতলা সরকারী কলোনি থেকে শুক্রবার রাতে যখন রঞ্জিত কুমার বরাটের অগ্নিদগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ তখনও কোনো আক্ষেপ নেই স্ত্রী সুতপা বরাটের। পাশের ঘরেই শরীরে আগুন লাগিয়ে স্বামী আত্মহত্যা করলেও টিভি দেখায় ছেদ পড়েনি স্ত্রীর।

 

 

 

 

 

সিইএসসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন রঞ্জিত বরাট। ৬৩ বছরের এই ভদ্রলোক স্ত্রীকে নিয়ে মানিকতলার তিনতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ফ্ল্যাটটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন খবর পেয়ে ছুটে আসেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের খবরটি সেই ফ্ল্যাট থেকে আসেনি, এসেছিল প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। উৎকণ্ঠিত প্রতিবেশীরাও ভিড় করেন সেখানে।

 

 

 

 

 

পুলিশ ও দমকল কর্মীরা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ঢুকে দেখেন, একটি কক্ষে রঞ্জিত বরাটের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ পড়ে রয়েছে। আর পাশের ঘরে অবচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন স্ত্রী সুতপা বরাট। তখনও ঘরটিতে টিভি চলছিল।

 

 

 

 

 

প্রশ্ন ছিল অনেক। তবে জ্ঞান ফিরলে সুতপা বরাটের কথায় শুধু কৌতুহলই বাড়ে। ৫৭ বছরের এই ভদ্রমহিলা একেকবার একেক কথা বলছেন। একবার বলছেন, স্বামী পাশের ঘরে কেরোসিন দিয়ে যখন আত্মহত্যা করেন, তখন তিনি তা টেরই পাননি। আবার বলছেন, সেসময় সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

 

 

 

যদিও স্বামীর আত্মহত্যার সময় পাশের ঘরে স্ত্রী দরজা আটকে কেন ছিলেন তার সঠিক উত্তর মেলেনি। সুতপার দাবি, স্বামী তাকে হত্যা করতে পারে এই ভয়ে তিনি দরজা আটকে ছিলেন। আবার বলছেন, স্বামী গায়ে আগুন দেয়ার সময় তিনি সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। আর এটাই নাকি হওয়ার কথা ছিল!

 

 

 

 

 

কিন্তু কেন? এই উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত আপাতত পুলিশি হেফাজতেই সুতপা বরাট। আশেপাশে খবর নিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘরটিতে মানুষ বলতে তারা দু’জনই থাকতেন। আর থাকার মধ্যে একটি পোষা বিড়াল। এই দম্পতির একটি মেয়ে থাকলেও অবশ্য তার সাথে যোগাযোগ খুবই কম ছিল।

 

 

 

 

 

ঘটনার পর এখন মেয়ের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। পাশাপাশি এটাও জানিয়েছে, রঞ্জিত বরাটের ময়না তদন্তের পরই আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।