প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  নারীদের হজের গুরুত্ব পুরুষদের থেকে আলাদা। কারণ, তা তাদের জন্য জিহাদের সমতুল্য। হাদিসে এসেছে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো দেখছি জিহাদই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ আমল, তাহলে আমরা (নারীরা) জিহাদ করব না কেন?রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘তোমাদের জন্য মাবরুর হজই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ জিহাদ’। (বুখারি: ১৫২০)

 

 

 

 

 

এ হাদিস থেকে আমরা নারীদের জন্য হজের আলাদা গুরুত্ব বুঝতে পারি। এটি ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হওয়ার পাশাপাশি নারীদের জন্য জিহাদ। সুতরাং যে নারী হজের জন্য বের হয়েছেন, তাকে আমরা আমাদের অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ, এমন অনেক নারী আছেন, যাদের ওপর হজ ফরয হয়েছে অথচ তারা তা জানেন না। আবার এমন অনেক নারীও আছেন, যাদের ওপর হজ ফরয হওয়ার পরে তা আদায়ে গড়িমসি করতে করতে বার্ধক্যের অপারগ অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। এরা অবশ্যই গুনাহগার হবেন।

 

 

 

 

আপনাকে আল্লাহ তার আনুগত্যের জন্য বাছাই করে নিয়েছেন। সেজন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন এবং বলুন, আলহামদুলিল্লাহ।নারীর ওপর হজ ফরয হওয়া ও আদায় শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ—অন্যান্য এবাদতের মত হজেরও কিছু শর্ত রয়েছে, তম্মধ্যে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা না পাওয়া গেলে হজ শুদ্ধই হবে না। যেমন-

 

 

 

 

১. মুসলিম হওয়া।২. বিবেকবান হওয়া।এ ছাড়া আরও কিছু শর্ত রয়েছে, যা হজ ফরয হওয়ার জন্য শর্ত। শুদ্ধ হওয়ার জন্য নয়। যেমন:৩. বালেগ হওয়া। যদি কোনো শিশু হজ করে তবে তা তার নিজের ফরয হজ হিসেবে আদায় হবে না।

 

 

 

 

 

৪. স্বাধীন হওয়া। দাসের ওপর হজ করা ফরয নয়। কিন্তু, যদি কোনো দাস হজ করে, তবে তা শুদ্ধ হবে। এ শর্তগুলোর ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সমান।

 

 

 

 

৫. মক্কায় যাওয়ার সক্ষমতা থাকা।পঞ্চম শর্তের ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।এখানে নারীর জন্য সক্ষমতা তিন ধরনের

 

 

 

 

১. আর্থিক সক্ষমতা ২. শারীরিক সক্ষমতা ও ৩. মাহরাম সাথে থাকা।সুতরাং যদি কোনো মহিলা আর্থিক ও শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন হয় এবং মাহরাম পাওয়া যায়, তবে তার ওপর হজ ফরয হবে। আর যদি শুধু আর্থিক ক্ষমতা থাকে তাহলেও নারীর ওপর হজ ফরয হবে। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও মাহরাম না থাকায় নিজে যেতে পারছে না। তাই অন্য কাউকে তার পরিবর্তে হজে পাঠাতে হবে। কিন্তু, যদি তিনি কোনোভাবে হজে গমন করেন। তবে তার হজ হয়ে যাবে। মাহরাম সাথে না থাকলে সেজন্য গুণাহগার হবে। আর যদি শুধু আর্থিক সক্ষমতা না থাকে তবে শারীরিক সক্ষমতা ও মাহরাম থাকে, তাহলে তার ওপর হজ ফরয নয়।

 

 

 

 

হজ গমনের আগে যা করণীয়: ১. স্বামীর অনুমতি নেয়া:(ক) যদি আপনার হজটি ফরয হজ হয়ে থাকে, তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য মুস্তাহাব। যদি স্বামী অনুমতি দেন তবে ভাল। আর যদি অনুমতি না দেন তারপরও যদি আপনি মাহরাম সাথি পান তবে আপনাকে হজ করতে হবে। কোনো স্বামীর জন্য আপন স্ত্রীকে ফরয হজ আদায় করতে বাধা দেয়া উচিত হবে না। হ্যাঁ, এ ব্যাপারে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও অন্যান্য যাবতীয় শর্তাদি পূরণ হয়েছে কি না তা দেখাও স্বামীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। কারণ, সক্ষম হলেই দেরি না করে হজ আদায় করে নেয়া উচিত। নচেৎ যদি বাধা দেয়ার কারণে স্ত্রী কোনো কারণে পরবর্তীতে অপারগ হয়ে পড়ে তবে স্বামীসহ তারা উভয়ই গুণাহগার হবে।

 

 

 

 

আর যদি আপনার হজটি নফল হজ হয়ে থাকে। তবে স্বামীর অনুমতি নেয়া আপনার জন্য ফরয। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত আপনি হজে যেতে পারবেন না। অনুরূপভাবে, স্বামীও আপনাকে নফল হজে গমনের ক্ষেত্রে তার অধিকারের কথা বিবেচনায় রেখে বাধা দেয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

 

 

 

 

 

আর যদি কোনো নারীর স্বামীর মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালন অবস্থায় থাকে। তাহলে সে নারী ইদ্দতের সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত হজে যেতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন—﴿يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلا يَخْرُجْنَ﴾

 

 

 

 

 

‘হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে ইচ্ছে কর তাদেরকে তালাক দিও ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে এবং তোমরা ইদ্দতের হিসেব রেখ এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার কর না এবং তারাও যেন বের না হয়।’ (সূরা আত-তালাক: ১)

 

 

 

 

 

(খ) কোনো পিতা বা মাতা কেউই তাদের মেয়ে সন্তানকে ফরয হজে গমন করতে বাধা দেয়ার অধিকার রাখে না। যদি কোন মেয়ে হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে এবং মাহরাম পায় তখন তার জন্য পিতা-মাতার আনুগত্যের কথা বলে হজে যাওয়া থেকে বিরত থাকা বৈধ নয়।

 

 

 

 

২. মাহরাম থাকা: নারীদের ওপর হজ ফরয হওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে, মাহরাম থাকা। কেন না; কোনো মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের একাকি সফর করা জায়েয নয়। এ ব্যাপারে যুবা-বৃদ্ধা, সুন্দরী-কুশ্রী, চাই সে সফর উড়োজাহাজে হোক অথবা গাড়ি-রেলগাড়ি যেটাই হোক সর্বাবস্থায় মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، ولا يدخل عليها رجل إلا ومعها محرم، فقال رجل يا رسول الله: إني أريد أن أخرج في جيش كذا وكذا، وامرأتي تريد الحج ؟ فقال: اخرج معها.

 

 

 

 

 

‘কোনো মহিলা মাহরাম ছাড়া যেন সফর না করে, অনুরূপভাবে কোনো মাহরাম এর উপস্থিতি ছাড়া কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর ঘরে প্রবেশ না করে’ একথা শোনার পর এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক যুদ্ধে যেতে চাই অথচ আমার স্ত্রী হজে যেতে চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি তার সাথে বের হও’। (বুখারি: ১৭৬৩, মুসলিম: ১৩৪১)

 

 

 

 

৩. খাটি তাওবা:তাওবাহর গুরুত্ব এ থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ তা’আলা কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন। মহান আল্লাহ বলেন,﴿إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ﴾‘আল্লাহ কেবলমাত্র মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করেন’। (সূরা আল-মায়িদাহ: ২৭)আর যে ব্যক্তি বারবার কোনো গুনাহ করে সে তাকওয়া থেকে দূরে রয়েছে। সুতরাং এ গুরুত্বপূর্ণ সফরের পূর্বে অবশ্যই খাটি তাওবা করে নেয়া উচিত এবং আল্লাহর দিকে ফিরে আসা দরকার। মহান আল্লাহ কোনো বান্দার তাওবায় এতই খুশি হোন যে, এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উদাহরণের মাধ্যমে পেশ করেছেন। তিনি বলেন,لله أشد فرحاً بتوبة عبده، حين يتوب إليه من أحدكم كان على راحلته بأرض فلاة فانفلتت منه وعليها طعامه وشرابه، فأيس منها فأتى شجرة فاضطجع في ظلها، فبينما هو كذلك، فإذا هو بها قائمة عنده، فأخذ بخطامها، ثم قال من شدة الفرح: اللهم أنت عبدي وأنا ربك، أخطأ من شدة الفرح.

 

 

 

 

 

 

‘কোনো বান্দা যখন তাওবা করে তখন আল্লাহ তার তাওবায় এতই খুশি হোন যেমন তোমাদের কেউ শুষ্ক জনমানবহীন মরুভূমিতে ছিল। এমন সময় তার বাহনটি তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল অথচ সে বাহনের ওপর তার খাবার ও পানীয় রয়েছে। সে নিরাশ হয়ে এক গাছের নিচে শুয়ে পড়ল। তার মনে হচ্ছে যে, মৃত্যু তার খুবই নিকটে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করে সে দেখল যে, তার বাহনটি তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তখন সে বাহনটির লাগাম ধরে খুশির চোটে ভুল করে বলল, ‘হে আল্লাহ, তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু।’ (বুখারি: ৫৯৫০, মুসলিম: ২৭৪৭)

 

 

 

 

 

আর তাওবাহ তখনই পূর্ণ হবে যখন যাবতীয় হারাম কার্যাদি থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা যায়। চাই তা কথার মাধ্যমে হোক বা কাজের মাধ্যমে হোক যেমন, গিবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, বেপর্দা, ও হারাম গান-বাদ্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

 

 

 

 

৪. এখলাস: তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে কোনো এবাদত না হলে যেমন তা কবুল হয় না তেমনিভাবে এখলাস না থাকলেও সেটা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোনো কাজ না হলে আল্লাহ সেটা গ্রহণ করেন না। সুতরাং যে কেউ লোক দেখানো অথবা শোনানোর জন্য, হাজী সাহেবা বলানোর জন্য হজ করতে যাবে সে সওয়াবের বদলে তার জীবনের সমস্ত সওয়াব শেষ করে আসবে। কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ বলবেন—اذهبوا إلى الذين كنتم تراءون)‘তাদের কাছে যাও যাদেরকে দেখানো বা শোনানোর জন্য তোমরা আমল করেছিলে’। (মুসনাদে আহমদ: ৫/৪২৯)

 

 

 

 

৫. অসিয়ত করা:এ সফরে যাওয়ার আগে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অসিয়ত করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—(ما حق امرئ مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عنده)‘কোন মুসলিমের যদি কোন কিছু অসিয়ত করার থাকে তার জন্য এটা উচিত হবে না যে, সে অসিয়ত না করে দুটি রাত যাপন করে।’ (বুখারি: ২৫৮৭, মুসলিম: ১৬২৭)আলেমগণ বলেন, যদি মানুষের হকের ব্যাপারে কোনো অসিয়ত থাকে, যেমন কারও ঋণ, আমানত অথবা কোনো ফরয হক যা অসিয়ত ছাড়া সাব্যস্ত করার উপায় নেই এমতাবস্থায় অসিয়ত করে তা লিখে রাখাও উচিত। আর যদি কারও জন্যে সম্পদ থেকে নফল অসিয়ত করতে চায় তাহলে এক তৃতীয়াংশের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।

 

 

 

 

৬. হজের মাসআলা-মাসায়েল শিক্ষা করা: হজের হুকুম আহকাম জানা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। অথচ অধিকাংশ মানুষ হজের নিয়মাবলী না জেনে বা ভাসা ভাসা ধারণা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় যে হজের জন্য এতকিছু বিসর্জন দিল তার সে হজ আশানুরূপ হয়ে উঠে না। অন্যায় ও শরিয়ত গর্হিত কাজে নিজেরা জড়িয়ে পড়ে। আবার অনেকে বিদআতও করে বসে। হজ করা যেমন ফরয, হজের নিয়ম-নীতি জানাও তেমনি ফরয। কারণ, ফকিহগণের সুনির্দিষ্ট একটি ‘ধারা’ হলো, ‘যা না হলে ফরয আদায় হয় না তা করাও ফরয।’

 

 

 

 

 

সুতরাং প্রত্যেক হাজি সাহেবারই উচিত হজের মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা। চাই সেটা বিজ্ঞ আলেমদের জিজ্ঞাসা করেই হোক বা গ্রহণযোগ্য হজের কিতাব পাঠ করার মাধ্যমেই হোক অথবা হজ সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে প্রস্তুতকৃত ভিডিও দেখার মাধ্যমেই হোক।

 

 

 

 

নারী হাজি সাহেবার জন্য যা বর্জনীয়:এহরামের আগে ও পরে সর্বাবস্থায় বর্জনীয় বিষয়সমূহ:কিছু কিছু জিনিস এমন আছে যেগুলো এহরাম অবস্থা ছাড়াও হারাম। তারপর যদি সেগুলো এহরাম অবস্থায় করা হয় তখন সেটা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত হয়। সুতরাং হজের এহরাম বাধা বা সংকল্প করার সাথে সাথে প্রত্যেকে হাজি সাহেবার উচিত এগুলো থেকে নিজেকে হেফাজত করা। যেমন, গিবত, চোগলখোরী, পরনিন্দা, পর-চর্চা, মিথ্যা কথা, মিথ্যা সাক্ষী, হারাম গান-বাজনা শোনা, হারাম বস্তুর দিকে তাকানো, গালি-গালাজ অন্যায় আচরণ ও ঝগড়া ইত্যাদি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখতে হবে।

 

 

 

 

 

মহান আল্লাহ বলেন—﴿الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُومَاتٌ فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلا رَفَثَ وَلا فُسُوقَ وَلا جِدَالَ فِي الْحَجِّ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّهُ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ﴾‘হজ হয় সুবিদিত মাসগুলোতে। তারপর যে কেউ এ মাসগুলোতে হজ করা স্থির করে তার জন্য হজের সময় স্ত্রী-সম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহ-বিবাদ করা যাবে না। তোমরা উত্তম কাজের যা কিছু কর আল্লাহ তা জানেন আর তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর, অবশ্য তাকওয়াই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ! তোমরা আমাকে ভয় কর।’ (সুরা আল-বাকারাহ: ১৯৭)

 

 

 

 

এজন্য নারী হাজি সাহেবাদের উচিত যে সমস্ত কথাবার্তায় কোনো উপকার নেই, সে সমস্ত কথা ত্যাগ করে চলা। এতে করে তিনি অনেক পাপাচার থেকে নিজেকে হেফাজত করতে পারবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيراً أو ليصمت‘তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও আখেরাত দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন কল্যাণের কথা বলে অথবা চুপ থাকে’। (বুখারি: ৫৬৭২, মুসলিম: ৪৭)

 

 

 

 

 

 

সুতরাং আপনার উচিত কাজ হবে অবসর সময়টুকু তালবিয়া, আল্লাহর জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজ থেকে নিষেধ অথবা কোন মূর্খকে কিছু শেখানোর মাধ্যমে কাটানো। যে সমস্ত কথাবার্তায় গুণাহ নেই তা বলা জায়েয হলেও কম বলা উচিত।