প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ  অনেকেই অজু ও পবিত্রতা নিয়ে শুচিবায়ুতায় আক্রান্ত হন। প্রায় সময় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, অজু ছুটে গেছে নাকি যায়নি। এরপর এনিয়ে নিজের সাথে বোঝাপড়া করতে থাকেন। কখনো পায়ুপথেও কিছু অনুভব করেন কিন্তু স্পষ্টত কোন শব্দ বা গন্ধ না পাওয়ায় এ নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্ধে পড়েন অজু কি আসলে আছে? এমনটা হয়ে থাকে। সবসময় অজু করাও সহজ কাজ নয়; বিশেষত যখন ইউনিভার্সিটি, অফিস/ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মব্যস্ত থাকা হয়। নারী হলে আরও কষ্ট- তাকে হিজাব খুলতে হয়, মোজা খুলতে হয়। তাই এ ধরনের ওয়াসওয়াসা বা শুচিবায়ুতার কারণে নির্ঝঞ্ঝাট ইবাদত পালন বাধাগ্রস্ত হয়।

 

 

 

 

এক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে- নামাযে কিংবা নামাযের বাইরে সন্দেহকে মোটেই ভ্রুক্ষেপ না করা এবং এমন সন্দেহকে একেবারেই বর্জন করা। এতে কোনরূপ দ্বিধাগ্রস্ত ও বিচলিত না হওয়া। কারণ এটাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ। হাদিস শরীফে এসেছে, যখন এক ব্যক্তি নবীজির কাছে অভিযোগ করলেন যে, তার মনে হয়- নামাযের মধ্যে তার কিছু বের হয়েছে।

 

 

 

 

 

তখন উত্তরে নবীজি বলেন : لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا ‘সালাত ত্যাগ করবে না, যতক্ষণ না সে আওয়াজ শোনে, অথবা গন্ধ পায়।’ (সহিহ বুখারী-১৩৭, সহিহ মুসলিম-৩৬১)এ কথার দ্বারা উদ্দেশ্য হল- অজু ভাঙ্গার ব্যাপারে পরিপূর্ণ নিশ্চিত হওয়া ছাড়া নামায না ছাড়া।অতএব, সন্দেহ কিংবা কল্পনা ধর্তব্য নয়। পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া ছাড়া আপনি নামায ছাড়বেন না। এটাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ। আপনার নামায শুদ্ধ।

 

 

 

 

তবে, কোন মুসলিম যদি পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত হয় যে, সে অজু ছাড়া নামায আদায় করেছে এবং নামাযের ওয়াক্ত যদি অবশিষ্ট থাকে তাহলে সে ব্যক্তি ওই নামাযটি পুনরায় আদায় করে নিবেন। যদি এটা পরিপূর্ণ নিশ্চয়তায় না পৌঁছে তাহলে তার নামায সহিহ। এতে কোনো অসুবিধা নেই।ওয়াসওয়াসাকে প্রতিরোধ করা, এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা এবং এর কুমন্ত্রণা অনুযায়ী কাজ না করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। সাথে সাথে আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করুন, দোয়া করুন এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চান।

 

 

 

 

এরপরেও যদি আপনার ওয়াসওয়াসা দূর না হয় এবং আপনার জন্য বিষয়টি কষ্টকর হয়ে যায় সেক্ষেত্রে আমরা আপনাকে একজন নির্ভরযোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কারণ বাধ্যগত ওয়াসওয়াসা বা শুচিবায়ু (OCD) একটি পরিচিত রোগ, যার চিকিৎসার প্রয়োজন। সেটা ট্যাবলেট গ্রহণ করার মাধ্যমে হোক কিংবা বিশ্বস্ত কোনো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে আচরণগত বিশেষ কোনো চিকিৎসার মাধ্যমে হোক।