প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   কুর’আন হল হিদায়াত। আল্লাহ কুরআনকে নাজিল করেছেন শুধু পাঠ করার জন্য নয়, বরং এর অর্থ বুঝে উপদেশ ও শিক্ষা লাভ করে তা ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে সামগ্রিক জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য। হ্যাঁ, না বুঝেও কুর’আন তিলাওয়াতে নেকি হাসিল হবে, তবে প্রধান উদ্দেশ্য এটা নয়।

 

 

 

 

 

এক্ষেত্রে দুই রকমের মুসলিম আমরা সমাজে দেখতে পাই, এক ধরণের মুসলিম কুরআনকে এত বেশি আদব ও সম্মান দেখায় যে ঘরের সবচেয়ে উঁচু তাকে কয়েকটি গিলাফ পড়িয়ে কুর’আন রেখে দেয় আর তা খোলা ও পড়ার ইচ্ছাও পোষণ করে না। আরেক প্রকার অতি আধুনিক একদল মুসলিম কুর’আনের প্রতি কোনো আদব প্রদর্শন করে না। কুর’আন স্পর্শ করার আগে পবিত্রতাও অর্জন করে না।

 

 

 

 

 

আবার অন্যভাবে এক পক্ষ শুধু না বুঝে মুখস্ত করে যাচ্ছে, আরেক পক্ষ কুরআনের রুহানিয়াত অস্বীকার করে শুধু একটি তাত্ত্বিক বই মনে করে পাঠ ও গবেষণা করে যাচ্ছে। এমনও দেখা যায় যে কুরআনের আয়াত এখন গানের মত করে গাওয়া হচ্ছে। হাদিসে একদল মুসলিমের কথা এসেছে, যারা পবিত্র কুরআনকে গানের-সুরের উপকরণ বানাবে। ‘পবিত্র কুরআনকে সুরের উপকরন বানানো হবে’- (দুররে মানসুর , খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৫২)

 

 

 

 

এর ব্যাখ্যায় শাইখ তাকি উসমানি হাফিজাহুল্লাহ বলেন-“অর্থাৎ বাজনার বদলে কুর’আন তেলাওয়াত করা হবে, যাতে এই তেলাওয়াতের মাধ্যমে গান-বাজনার সুর-মূর্ছনার স্বাদ অর্জিত হয়। ইসলামী জীবন গড়ার লক্ষ্যে, বুঝার জন্য ও সওয়াব অর্জনের নিয়তে কুর’আন তেলাওয়াত করা হবে না।”একই হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে “কুরআনকে সুসজ্জিত করা হবে ও তার গায়ে নকশা করা হবে।”

 

 

 

 

 

 

আমরা এখন রংধনু অর্থাৎ সাত রঙের কুরআন, নকশা করা মলাট, বিভিন্ন ওয়াটার মার্ক করা বিভিন্ন রঙের, আর্টের দ্বারা সুসজ্জিত কুরআন দেখি। হাদিসের ভাষায় এগুলো হল কুরআনকে সুসজ্জিত করা। শাইখ আসিম আল হাকিম হাফিজাহুল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন, “এটা হল বিদ’আত। কুরআনের পৃষ্ঠাকে রঙধনু কালার করার জন্য আল্লাহ নাযিল করেন নি। এভাবে তো LGBT এক সময় দাবী করবে-এটা হল LGBT কুর’আন। এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

 

 

 

 

 

 

অবশ্যই কালারফুল হলেও এটা কুরআন তাই আমরা তা পড়তে পারব। কিন্তু রেইনবো কুরআন কেনা বা গিফট করা উচিত নয়।” বর্তমানে কালার কোডেড তাজবীদ রুলস কুরআনের প্রচলন হয়েছে। এ সম্পর্কে শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জজিদ হাফিজাহুল্লাহর মত হল-“এটা কুরআনকে সুসজ্জিত করার জন্য ব্যবহার করা হয় না বরং তাজবীদের নিয়ম বুঝার সুবিধার্থে কালার করা হচ্ছে। তাই এটাকে বিদআত বলা যাবে না, এবং এটা জায়েয।”

 

 

 

 

মডারেট মুসলিম ফিতনা- আমাদের মাঝে একধরনের মুসলিম তৈরি হয়েছে তারা “১৪শ বছর পুরানো সেকেলে ইসলাম” পছন্দ করে না, তারা পশ্চিম সমর্থিত “আধুনিক ইসলাম” ও দ্বীন কামনা করে। তারা বিভিন্ন মাসআলা মাসায়েলে ক্ল্যাসিকাল আলেমদের শরণাপন্ন না হয়ে আধুনিক মডারেট আলেমদের নিকট গমন করে। এসব আলেমদের নিকট গমন করে উম্মাহ পথভ্রষ্ট হচ্ছে, তারা দ্বীনের মাঝে তার চাহিদা ও মেযাজের পরিপন্থী আধুনিকতার অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। অবস্থা আজ এমন যে, পশ্চিমের দেশসমূহে মসজিদের ইমামতির দায়িত্বে মহিলা নিয়োগ করা হচ্ছে। সুদ ঘুষ সব কিছুকে জায়েয করানো হচ্ছে। এরাই হালালকে হারাম বানায় আবার হারামকে হালাল।

 

 

 

 

 

 

বর্তমানে কুরআন উন্মুক্ত হয়ে গেছে, অনেক সহজলভ্য হয়ে গেছে। কম্পিউটারে, ফোনে কুরআন ও তাফসিরের শত শত এপস ইত্যাদির সাহায্যে সহজেই কুরআনের অর্থ জানতে পারছে। তাফসির জানতে পারছে। এটার একটি বড় কুফল হল যে অজ্ঞ মূর্খরাও কুর’আন থেকে যুক্তি প্রমাণ পেশ করছে। মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানবী রহিমাহুল্লাহ, তার ‘আসরে হাযের হাদিসে রাসুল কে আয়না মে’ নামক কিতাবে আবু দাউদ থেকে একটি হাদিস উলেখ করে ব্যাখ্যা সংযোজন করে বর্ণনা করেছেন-

 

 

 

 

“ইয়াজিদ ইবনে উমরাহ যিনি ছিলেন হযরত মু’আয রাযিয়াল্লাহু আনহুর ছাত্র। তিনি বলেন, হযরত মু’আয রা. যখন কোথাও দরস দিতে বসতেন তখন সর্বপ্রথম এই কথা বলতেন, ‘আল্লাহ ফায়সালাকারী’, ‘আল্লাহ তা’আলা ইনসাফকারী’ সন্দেহ পোষণকারীরা ধ্বংস হয়েছে। একবার তিনি বললেন, তোমাদের পরবর্তী যুগে বিভিন্ন ধরনের ফিতনা দেখা দিবে। সে যুগে থাকবে সম্পদের আধিক্য, কুরআন হবে সবার জন্য উন্মুক্ত, এই কুরআনের সাহায্যে মু’মিন-মুনাফিক, মহিলা-পুরুষ, বড়-ছোট, ক্রীতদাস-স্বাধীন প্রত্যেকেই প্রমাণ পেশ করবে।

 

 

 

 

 

এটা অসম্ভব নয় যে, তখন কেউ একথা বলবে, লোকদের হলো কি? আমি কুর’আন বিষয়ে অভিজ্ঞ হওয়ার পরও তারা আমার অনুসরণ কেন করে না? বুঝেছি যতক্ষণ না আমি তাদের সামনে কোনো নতুন বক্তব্য পেশ করব, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আমার অনুসরণ করবে না। হযরত মু’আয রা. বলেন, ধর্মের মাঝে আধুনিকতার অনুপ্রবেশ ঘটান থেকে বিরত থাকবে। কারণ, ধর্মের মাঝে আধুনিকতার প্রবেশ পথভ্রষ্টতার নামান্তর। আমি তোমাদের আলিমদের পদস্থলন থেকে সতর্ক করছি।”

 

 

 

 

একটি হাদিস দিয়ে লেখা শেষ করি, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু জনৈক ব্যক্তিকে নসিহত করতে নিয়ে বলেন, “তোমরা এমন এক যুগে বসবাস করছ যে যুগে ফিকাহশাস্ত্রবিদগণ সংখ্যায় অধিক আর ক্বারিগণ সংখ্যায় অল্প। এ যুগে কুরআনের বর্ণের তুলনায় তাতে বর্ণিত হুকুম-আহকামের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়। ভিক্ষুকরা সংখ্যায় নগন্য কিন্তু দাতারা সংখ্যায় ভারী। এযুগে খুতবা সংক্ষেপ আর নামায দীর্ঘ করা হয় প্রবৃত্তির চাহিদার উপর আমলকে প্রাধান্য দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

কিন্তু এমন এক যুগ আসবে যখন ফিকাহবিদরা হবে সংখ্যায় নগন্য। আর ক্বারিরা হবে সংখ্যায় বেশি। কুর’আনের বিশুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি কোনো গুরুত্ব দেয়া হবে না। যাঞ্ছাকারীরা সংখ্যায় ভারী হবে কিন্তু দাতাদের সংখ্যা হবে কম। খুতবা অনেক লম্বা করা হবে; কিন্তু নামায পড়া হবে খুব সংক্ষেপ। সে যুগে মানুষ আমলের উপর প্রবৃত্তির কামনা বাসনাকে প্রাধান্য দিবে।” – (দারেমী ১/৫৮, মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

এই বিভাগের আরো খবর :

হাজার ফুট উঁচুতে ঝুলিয়ে নাগরিকদের শপথ পাঠ
খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরাতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিলেন কানাডার আদালত
‘আম্মা আর ভাইয়াকে মেরে ফেলেছে, দরজাটা খুলে দাও’
মন্ত্রীর মেয়ে বিয়ে ছাড়াই মা হলেন!
কবি ফকির ইলিয়াসের মাতার ইনতেকালে সিলেট লেখক ফোরাম’র শোক
কালিগঞ্জে ২ মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২
লিপ কিস করার সময় চোখ বন্ধ করে কেন?
গোসাইরহাটে প্রভাবশালী কর্তৃক সরকারি রাস্তা, খাল, নদী ভরাট ও ব্রীজ ভাঙার অভিযোগ
ক্যাবের মধ্যেই তরুণীকে ধর্ষণ!
আজ পবিত্র ঈদ-উল-আজহা
২৫০ বছর পরে জেগে উঠল সুপ্ত আগ্নেয়গিরি!
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ৬ মে
পপ ভিডিও 'তোরি সুরত', মানতে পারছেন না নিজামুদ্দিন আউলিয়ার শিষ্যরা!
‘মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও নির্বাচনের সুযোগ আছে’
পানির দরে ধান বিক্রয়, ঠকছে কৃষক