ইউছুফ আরমান:  বাংলাদেশের সংবাধানে ১৮ টি মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১০/১৪/১৫ তে অধিকারের প্রকৃতি ও ভোগের নিশ্চয়তা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। অধিকার বলতে মানুষের আত্মবিকাশের জন্য কতিপয় সুযোগ-সুবিধার দাবী কে বোঝায়, যে দাবীর হয় নৈতিক না হয় আইনগত ভিত্তি রয়েছে। অধিকার সমাজের পারষ্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে আপনা আপনি জন্মলাভ করে। যাহা নৈতিক অধিকার হিসেবে বিরাজ করে।

 

 

 

 

পরবর্তীতে উহার দাবীর গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে আইন উহাকে স্বীকৃতি দেয়। সুতরাং সকল আইনগত অধিকার গুলো নৈতিক অধিকার বটে। যে কোন ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করা মাত্র এ অধিকার গুলো ছিনিয়ে নিতে পারে না। এবারে আমরা দেখব সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অনুযায়ী রাষ্ট্রের অবস্থানরত নাগরিকের মৌলিক অধিকার কি? সমাজতন্ত্র শোষণ মুক্তিঃ- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।

 

 

 

 

 

অনুচ্ছেদ-১০ কৃষক শ্রমিকের মুক্তিঃ- রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে মেহনতি মানুষের কে কৃষক ও শ্রমিক কে এবং জনগণের অনগ্রসর অংশ সমুহ কে সকল প্রকার শোষণ হইতে মুক্তিদান করা। অনুচ্ছেদ-১৪ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থাঃ- রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্ন লিখিত বিষয় সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়।

 

 

 

 

১/ আশ্রয়-বস্ত্র-অন্ন-শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা। ২/ কর্মের অধিকার অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তি সঙ্গত মজুরীর বিনিময়ে কর্মস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার।

 

 

 

 

৩/ যুক্তিসঙ্গত বিশ্রাম বিনোদন ও অবকাশের অধিকার। ৪/ সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতাহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতি জনিত আয়ত্তাতীত কারণে অভাবগ্রস্থার ক্ষেত্রে সরকারী সাহায্য লাভের অধিকার।

 

 

 

 

অনুচ্ছেদ-১৫ সংবিধান নিয়ে আমার এত আলোচনা এবং আমার লেখার মূল মুখ্য বিষয় নিম্ন উপস্থাপন করছি। কক্সবাজার শহরে জবর দখল করা ৭৮ একরের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত একটি পাহাড় দখল করা ছিল। শহরের লাইট হাউজ ফাতেরঘোনা এলাকার সরকারি এই পাহাড়টি দখলমুক্ত করতে গত দু’ তিন দিন ধরে প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড় কেটে নির্মিত কমপক্ষে কয়েক ডজন পাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই পাহাড়টির কাটা শুরু করা হয়। এরপর সেই সরকারি পাহাড়ি জমিতেই কেউ বস্তি নির্মাণ আবার কেউ পাকা ভবণ নির্মাণের কাজ শুরু করে দেয়। যেহেতু বাংলাদেশী নাগরিক ভিটা-বাড়ি বাস্তুহারা বিধায় সরকারী খাস জমিতে জীবন-যাপন করছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের তা সহ্য হয় নি। যার ফলে সরকারী খাস জমি দখলমুক্ত নামে নিরীহ সাধারণ মানুষ কে হয়রানী করার নিমিত্তে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

 

 

 

অথচ যে দেশের মানুষ দশ লক্ষ-বারো লক্ষ মাতৃভূমিহারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের ইতিহাসে মানবতার পরিচয় দিয়েছে আজ সে দেশের নাগরিক কে বাস্তুহারা করেছে। এই কেমন মানবতা যেখানে অমানবিক ঘটনার জন্ম দেয়। কক্সবাজারবাসী হিসেবে আমার প্রশ্ন যখন রোহিঙ্গারা পাহাড়-বন পরিবেশ সাবাড় করেছে তখন কারো কোন নজরে পড়েনি বা দেশের কোন ক্ষতি সাধিত হয়নি। বরং সকলের একটাই দাবী ছিল মানবতা মরে যায় নি।

 

 

 

 

 

 

কেন আজ কক্সবাজারবাসীর এই দুর্দশাই মানবতা কোথায় হারিয়ে গেল। আজ মানবতাবাদীরা কোথায়? মানবতায় সেবায় নিয়োজিত এন.জি.ও কোথায়? অপদস্থ এন.জি.ও সবাই স্বার্থসিদ্ধ হাসিল করার মতলবে উৎপেতে থাকে। রোহিঙ্গা আর বংইঙ্গার মধ্যে কোন তফাৎ নাই। কক্সবাজারবাসী চোখের জলে বুক ভাসিয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস।

 

 

 

 

 

 

জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে ফেলে দীর্ঘশ্বাস। স্বদেশে আমরা পরবাস, আদর যত্নে রোহিঙ্গাদের বসবাস। কক্সবাজারবাসীর একটাই দাবী রোহিঙ্গার আশ্রয় হলে আমাদের কি অপরাধ! কেন আজ আমরা রোহিঙ্গাদের হাসির পাত্র। বিশ্ব মানবাতার মা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ দ্রুত সমস্যাই হস্তক্ষেপ গ্রহণ করুন।

 

 

 

লেখক পরিচিতি ইউছুফ আরমান কলামিষ্ট, সাহিত্যিক ফাজিল, কামিল বি.এ অনার্স, এম.এ, এলএল.বি দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী পৌরসভা, কক্সবাজার সদর।