প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ   মানুষের জীবনে প্রেম আসতে পারে যেকোন বয়সে। হতে পারে সেটা কিশোর বয়সে। আসতে পারে কিশোর উত্তীর্ণ যুবক বয়সে। আবার তারও পরে অনেকের জীবনে প্রেম আসে। এমন ভুড়ি ভুড়ি প্রমাণ আছে। তবে আসল প্রেমের বয়স কোনটা অথবা কোন বয়সে প্রেম করা, ডেটিং করা সহজ এ বিষয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আপনি মনে করতে পারেন ২১ থেকে ২৯ বা ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত আপনার কাছে প্রেমের উত্তম সময়। সবচেয়ে বেশি মানুষ এই বয়সসীমায় প্রেমে পড়েন।

 

 

 

 

জীবনের কতগুলো ধাপ আছে। তার মধ্যে এই বয়সসীমার ধাপটি কারো জীবনে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে ওঠে। কারণ, এ বয়সে একজন মানুষ সবচেয়ে তরতাজা থাকে। শরীরে সবচেয়ে বেশি তেজ থাকে এ সময়ে। একজন যুবক এ সময়ে থাকে ড্যামকেয়ার। কারো তোয়াক্কা করে না। প্রেমিকার হাত বগলে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরতে অথবা কোনো এক পার্কে বসে বাদামের ঠোঙা শেষ করে দিতে কিছুই ভাবে না। কে কি ভাবলো তাতে তার কিছুই যায় আসে না। তা ছাড়া এ সময়টাতে পেশাগত দুনিয়ায়ও একজন যুবক শিশুসুলভ পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাবোধ করে না। এ বয়সে প্রেমের জীবনে ঘটে উত্থান পতন। কিন্তু তার বয়স যখন তিরিশ পেরোয় এবং ৪০ বছরের মধ্যে থাকে তখন সে হয়ে ওঠে অন্য রকম। তার মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। ফলে এ বয়সে প্রেম হয় পরিপক্ব। একজন যুবক এ বয়সে সিদ্ধান্ত নেয় ভেবেচিন্তে। সে যার প্রেমে পড়ে, সে সম্পর্কে আগে থেকেই কমবেশি অভিজ্ঞতা থাকে তার। ফলে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের একজন পুরুষ বা নারীর পক্ষে প্রেম করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কেন এমন হয়? মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই বয়সসীমায় পৌঁছানো একজন মানুষ তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর্থিকভাবে থাকে মোটামুটি স্বচ্ছল, নিরাপদ। প্রেমের জন্য এই নিশ্চয়তা অত্যন্ত জরুরি। তাই এ বয়সসীমার মানুষ বেশি স্বাধীন মনে করে নিজেকে। তারা হয়ে ওঠে বেশি আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সে ভুল করে না।

 

 

 

 

 

সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ একজন মানুষের হয়তো অনেকের সঙ্গে পরিচয় থাকে। অনেকের সঙ্গে ডেটিংও কে থাকতে পারে। এই অভিজ্ঞতা তাকে কাজে দেয়। কারণ, প্রেম ভালবাসার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করে। ফলে ৩০ পেরোনোর পর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ জীবনসঙ্গী বেছে নিতে খুব কমই ভুল করে। প্রতি একটি বছর যায় আর একজন মানুষ আরো পরিপক্বতা অর্জন করে। নিজে নিজেকে উপভোগ করার স্বাধীনতা পায়। এ সময়ে রোমান্সের ধারণা হয় অন্য রকম। এর মধ্যে কোনো মেকি ভাব থাকে না। আর প্রেমটা হয় গভীর। তার সঙ্গে মিলে থাকে প্রেম, জীবন ও সম্পর্ক।
(রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে)