ইউছুফ আরমান:  পৃথিবীর ইতিহাস হলো স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য সংগ্রামের ইতিহাস। স্বাধীনতা হলো মানুষের সঙ্গে একান্তভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং স্বাধীনতাহীনতায় পৃথিবীর কোন জাতিই বাঁচতে চায় না। মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ ছাড়া সমাজের ভিত্তি নাই, সমাজ ছাড়া ওয়ার্ডের ভিত্তি নাই, ওয়ার্ড ছাড়া ইউনিয়ন হয় না। তদ্রুপ সব কিছু ব্যতিত নিষ্ফল রাষ্ট্র ভিত্তিহীন। রাষ্ট্র ও সমাজ দু’টি অন্তর্ভক্ত বিষয়।

 

 

 

মানুষের কল্যাণে সমাজ কাজ করে। তদ্রুপ রাষ্ট্রের ভূখন্ডে বসবাসকারীদের কল্যাণে রাষ্ট্র কাজ করে। রাষ্ট্র হলো সমাজবদ্ধ মানুষের জীবনের চরম অভিব্যক্তি। সে জন্য মানব জীবনের সকলের সঙ্গেই রাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। যেহেতু শিক্ষা মানুষের কে স্বাধীতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। যেখানে জনগণই সার্বভৌমত্বের অধিকারী। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন এই গণশক্তির উপরেই আর কোন উর্ধ্বতন শক্তি নাই। প্রত্যেক রাষ্ট্র মানুষ কে কতকগুলো মৌলিক অধিকার ভোগের সুযোগ প্রদান করে থাকে।

 

 

 

 

যদি রাষ্ট্র ও মানুষের সম্প্রীতি বজায় না থাকে তবে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বিশৃংখলার উদ্ভব হবে। এর ফলে অরাজকতা সৃষ্টি এবং কেউ সুখী হবে না। বরং আইনের যথার্থ প্রয়োগ ছাড়া এ সকল মৌলক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। এক্ষেত্রে সরকার কে জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। কেবল সরকার চাইলে জনগণের অধিকার হরণ করতে পারে না। জনগণের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতাটুকু জনগণ কে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

 

কাজেই জনগণের স্বাধীনতা কে রক্ষা করতে হলে আইনের যথার্থ প্রয়োগ আবশ্যক। আইন রাষ্ট্রের নাগরিকদের বৃহত্তর কল্যাণসাধন করে আর নৈতিকতা ও মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কল্যাণ সাধিত হয়। সেহেতু উভয়েরই উদ্দেশ্য হলো মানুষের কল্যাণ সাধন করা। কিন্তু বর্তমান আইন জনগণের উপর হস্তপ করে এবং সংবিধানের তোয়াক্কা না করে আইনের পরিপন্থী কার্যক্রম বিরামহীন ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং মানুষ ছাড়া সভ্য সমাজ অকল্পনীয় অতঃপর উচ্ছেদ আতংক বিরাজমান।

 

 

 

 

 

এবারে আমার লেখুনীর মূল আলোচ্য বিষয়। কনকন শীতে খোলা আকাশের নিচে মানবতা আজ গুমরে কাঁদছে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে; হায়রে মানবতা এই কেমন নিষ্ঠুরতা………..। ১৯৯১সালে মহা প্রলয় ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে প্লাবিত হয়েছে হাজারো গ্রাম। পানিতে তলিয়ে গেছে জীবনের সঞ্চিত অর্থ-সম্পদ। লাশের মিছিল পথে পথে। বাড়ি-ঘর ভেঙ্গেচুরে আবাদ জমিনে পরিণত। তারপর শহর মুখী মানুষ। কক্সবাজার শহরে সরকারী খাস জমিতে বাস্তুহারা-আশ্রয়হীন- নিরীহ মানুষ গুলো নিরন্তর যুদ্ধ করে মাথা গোঁজার ঠাই করেছে।

 

 

 

 

 

একটি বাড়ি বা ঘর করার নিমিত্তে অক্লান্ত পরিশ্রম কষ্টের ঘাম ঝরিয়ে তিলে তিলে স্বপ্নের বাড়ি গড়ে তোলেছে। তাতে জীবনের অর্জিত শেষ সম্বলটুকু ব্যয় করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ কষ্টের অবসান ঘটিয়ে সুখের আশায় বুক বেঁধে অনায়েসে জীবন অতিবাহিত করার জন্যে মাথা গোঁজার ঠাই টি নিজের মত করে তোলেছে। জীবনে যখন সুখের হাওয়া বইছে তখনি অসহায় গরীব হতদরিদ্র ভিটে-বাড়ি-বাস্তুহারা মানুষের প্রতি শুকুনের কু-নজর পড়েছে।

 

 

 

 

 

দুদক-পরিবেশ-প্রসাশনসহ এক সাথে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযানে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে ফাতের ঘোনা, লাইট হাউস, জেল গেইট সহ বহু এলাকায় বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে চূর্ণ বিচূর্ণ করে মাটির সাথে গুড়িয়ে মিশিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া বহু এলাকা উচ্ছেদ আতংকে হতভম্ব হয়ে পড়েছে। অশ্রুসজল চোখে, হাহাকার আর্তনাদে কক্সবাজার শহরের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অথচ হতদরিদ্র-বাস্তুহারা পরিবারের পাশে কেউ নাই। অবিরত অমানবিক অত্যাচারে বাস্তুহারা ভিটে-বাড়িহারা খোলা আকাশের নিচে বয়োবৃদ্ধ-শিশুসহ সকল মানুষের আহাজারি।

 

 

 

 

 

 

আমরা কোন রাষ্ট্রের নাগরিক? আমাদের বসবাস কোথায়? আমরা কেমন বাঙালী জাতি? এর উত্তর কে দেবে? নিজ দেশে পরাবসী। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের কে আশ্রয় দিয়ে মানবতা দেখিয়ে সমগ্র দুনিয়ায় মানবতাবাদী হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অথচ আজ দুর্দশা সে মানুষের প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণ অব্যাহত রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

কার নির্দেশে এমন উচ্ছেদ অভিযান। কাজেই দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করা হোক। অন্যথায় জীবনের বিনিময়ে প্রাণপণে লড়ে আরো একটি মুক্তিযোদ্ধ হবে। যদি মাথা গোঁজার ঠাই না থাকে বেঁচে থেকে কি লাভ হবে। রক্তাক্ত ফেব্রুয়ারি মাসে আবার রক্তাক্ত হবে কিংবা লাশের মিছিলে পথঘাট ভারী হয়ে যাবে।