প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ “প্রতিবনন্ধী” শব্দটি মানুষের চোখে বরই অসহায়। গল্প বলবো ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে দু’জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং একজন শারীরিকভাবে অক্ষম। কিন্তু স্বপ্ন তাদের অনেক বড়। ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানিয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে। যেখানে হতাশা ও অন্ধকারে জীবন থমকে যাবার কথা সেখানেই যেন আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছেন ঢাবির েএই তিন তরুন। চিবল সাংমা, আমজাদ হোসেন ও মো. রুবেল মিয়া আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সংসদে সদস্য পদে লড়ছেন। ছাত্রলীগের প্যানেলে চিবল, বামজোটের প্যানেলে আমজাদ আর রুবেল লড়ছেন স্বতন্ত্রভাবে।

 

 

 

 

তিনজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। র্নিবাচনে জয়ী হলে প্রতিবনন্ধী িশক্ষার্থীদের সাথে কাজ করার কথা জানিয়ে বলেন, ডাকসুতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হতে চান।একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্যও কাজ করে যেতে চান। পাশে থাকতে চান শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সব আন্দোলনে।তারা প্রমান করতে চায় যে প্রতিবন্ধীরা অক্ষম নয় ,তারাও সফলতার শীর্ষে জায়গা করে নিতে পারে।স্বপ্নবাজ তিন তরুণ জানিয়েছেন ডাকসু নিয়ে নিজেদের স্বপ্নের কথা। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সদস্য পদে লড়া সংস্কৃত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী চিবল সাংমা বলেন, ‘ছাত্রলীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়ে যুগান্তকারী একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

 

 

 

 

আমি মনে করি ছাত্রলীগ যে সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে, আদিবাসী ও অবহেলিতদের নিয়ে কাজ করে এটা তার প্রমাণ।’ প্রতিবন্ধীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষিণ হয়ে থাকেন। আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো অ্যাকসেস নেই। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পক্ষে সিট দখল করা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক ভবনে কোনো লিফ্ট নেই। বিভিন্ন কাজে গিয়ে আমরা কখনো নিজেরা নিজেদের কাজ করতে পারি না।

 

 

 

 

অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়। ডাকসু ভবনে খিচুড়ি খেতে যাবো- তখনো আমাকে দুই জনের সহযোগিতা নিয়ে ভিতরে ঢুকতে হয়। তাই আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে প্রতিবন্ধীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’ চিবল আরো বলেন, যে ‘ছোটবেলা থেকে আমার পরিবার আমাকে সাহস যুগিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অনেক বন্ধু রয়েছে। তারা আমাকে সব সময় সহযোগিতা করছে। এটি আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস যোগাচ্ছে।’ সংস্কৃত বিভাগের মাস্টার্সের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন করার যখন ঘোষণা দিয়েছি, তখন থেকেই ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি প্রচণ্ড আশাবাদী।

 

 

 

 

 

আমার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী আগে থেকেই অনেক ভালোবাসা ছিল। ডাকসু নির্বাচনে দাঁড়ানোর পর সেটি আরো বেড়েছে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে হলসহ ক্যাম্পাসের সবর্ত্র সমস্যা রয়েছে। ক্যাম্পাসের রাস্তাগুলোও আমাদের চলাফেরার জন্য কোনোভাবেই উপযোগী নয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে শ্রুতি লেখকের সমস্যা আছে। ব্রেইল না থাকায় রেকর্ড শুনে পড়তে হয়। এমন কি লাইব্রেরিসহ একাডেমিক ভবনগুলো আমাদের জন্য উপযোগী নয়।

 

 

 

 

 

 

এছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও খাবার, গণরুমসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষীণ। আমি চাই এসব নিয়ে কাজ করতে।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে শ্রুতি লেখক বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করে দেয়। কিন্তু আমরা পরীক্ষার আগ মুহূর্তে শ্রুতি লেখক খুঁজতে হয়। আমি মনে করি এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এ ব্যবস্থাটা থাকা উচিত। আমরা স্কুলপর্যায়ে ব্রেইলে পড়াশোনা করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ব্যবস্থাটা নেই। আমরা রেকর্ড শুনে পড়ি। কিন্তু সেটি যথেষ্ট নয় বলে আমরা মনে করি। যার কারণে আমরা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়ি। আমি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই।’ বামজোট থেকে সদস্য পদে মনোনয়ন পাওয়া বাংলা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের জোট মনে করেছে।

 

 

 

 

 

আমি এ জায়গায় সফল হতে পারি। যার কারণে তারা আমাকে এখানে সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়েছে। ভালো লাগছে এ ভেবে যে প্রতিবন্ধী মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম। এটির মাধ্যমে আমি প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করতে পারবো।’ তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দেখেছি সাধারণ ছাত্রদের উপর ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর নির্যাতন নিপীড়ন, কোথায়ও নিজের মতো করে চলাফেরা করার সুযোগ না পাওয়া এসব বিষয় আমাকে আরো প্রতিবাদী করে তুলেছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অসঙ্গতিও আমাকে ভাবাতো।

 

 

 

 

 

দিনে পাবলিক রাতে প্রাইভেট করে রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধীদের অনুপযোগী ভবন, বিল্ডিং কোড না মানা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রাস্তায় কোনো র্যাম্প না থাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেও নিয়োগ না পাওয়া।’ আমজাদ বলেন, ‘আমি মনে করি ডাকসু হচ্ছে এসব বিষয় সম্পর্কে আওয়াজ তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাজে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হলে ও বিভাগে একজন প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা রাখার দাবি তুলবো। শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যা, গণরুম, গেস্টরুম, লাইব্রেরির আসন সংকট কাটানো, ক্লাসরুম সংকট দূর করতে কাজ করবো।’