প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   জনপ্রিয় পপশিল্পী মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারি নারী আসক্ত ছিলেন-এ কথা স্বীকার করেছেন তারই এক সহকর্মী ‘ব্লু-বার্ড এভিয়েশেনের’র পাইলট মির্জা মোশতাক। এমনটাই জানিয়েছেন পপ গানের এই শিল্পী। মির্জা মোশতাকের কথার প্রতি উত্তরে মিলা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি দাবি করেন, তার কাছে এখনো অনেক প্রমাণ আছে, যা তিনি প্রকাশ করেননি।

 

 

 

 

পাঠকদের জন্য মিলার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-  মির্জা মোশতাক (ব্লু-বার্ড এভিয়েশেন)আপনি আমাকে লিখেছেন সানজারি নারী আসক্ত, এটা আপনারা জানেন। অন্যায় করেছে জানেন, তবে আমি তার কথা না বলে নাম করা এই airline কে কেন দোষ দিচ্ছি? i m happy that finally pilots r admitting that he mr sanjari is not holding a good reputation. যদিও আপনি আমি উত্তর দেয়া মাত্রই আপনার কমেন্টটি ডিলিট করে দিয়েছেন, আমি উত্তর দিলাম-

 

 

 

 

 

মির্জা মোশতাক ভাইয়া সানজারীকে ইউএস বাংলা এই সাহস দিচ্ছে। আমার বিচার হয়ে যেত, ইউএস বাংলা যদি ছেলেটার গুনাহকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে থাকে তাহলে তো all pilots r like that. r you like that? তাইলে তো এতদিন পর একজন বৈমানিক হয়ে আপনি স্বীকার করতেন না যে সানজারির মহিলা আসক্তি আছে। কিন্তু মামলা করায় আমাকে না চিনে না জেনে ইউএস বাংলার দুই পাইলট শামস রেজওয়ান ও রেজওয়ান আহমেদ কীভাবে গালি দিয়েছে জানেন? আমি কিচ্ছু মিথ্যা বলি নাই। মুনিম সাঈদ নামে আরেক বাংলাদেশ বিমান এর গার্লফ্রেন্ড নাম সানজানা (sanjana)। ঐ মেয়ের সাথেও তার সম্পর্ক। আপনাদের ঘর বা আপনাদের মা বোনদের কেউ তো ছাড়ছে না তাহলে। আমার কর্মস্থলের বোন বা আমার ভাইদের স্ত্রীদের motivate করে অনৈতিক অসামাজিক কাজে জড়িত করছে। বলেন, কয়জনেরটা সামনে আনব? এরপরেও এই ছেলেকে ইউএস বাংলা সাপোর্ট দিসে। আমি অনেক কথা মিডিয়াতে বলি নাই।

 

 

 

 

 

US বাংলার এমডি মামুন ভাইকে আমি নিজ হাতে চিঠি লিখে দিয়ে এসেছি। অনুরোধ জানিয়েছি, সানজারি কোনদিনও পার পেত না, প্রমাণ যা আছে তার ওপর আমাকে পিষে চলে যেত। তাইলে ইউএস বাংলাকেই তো বলব, অপরাধী সানজারী। বাকিদের সাথে আমার শত্রুতা নাই ভাই, আমি বহুবার ক্ষমা করেছিলাম।

 

 

 

 

 

আমাকে আমার বাবার কাছে থেকে চেয়ে নিয়ে তারা এ কাজ কীভাবে করলো? জানতাম না ওইরকম খারাপ। ১২ বছর ফিরে পাব? আরেকটা বিয়ে করব? আমারও তো জীবন, আপনাদের বোন হলে কী করতেন। এর মাফ নাই যা হইসে আমার সাথে। একটা এত বড় airline একজন পাইলট এতকিছু করার পর যদি আপনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামাজিক মর্যাদা নিয়ে চলে, তো তার অপরাধ বোধ এমনিতেও থাকবে না। যে কারণে বলে আজকে এই ছেলে উল্টা আমার বাবাকে এসএমএস দেয়, আমার যেই মেয়ে ইচ্ছা আমি ছাড়বো না ধরবো আপনার মেয়ে প্রমাণ নিতে আসলে গুলি করে দিব। এ সাহস তো তার এই সামাজিক মর্যাদা আর তার এই company সহযোগিতাই তাকে দিয়েছে, তাই না?

 

 

 

 

 

 

মির্জা মোশতাক আমার কথাগুলা থামাতে আমাকে বদনাম আল্লাহ জানে এখন কি করবে সবাই ওরা। গত চার দিন ধরে আবারও ওই মিথ্যা বাজে কথা বলে, আমার দুই দেবর যাদের আমি এত আদর করেছি, তারা ফেসবুকে অপমান জনক উক্তি করে যাচ্ছে। এর মানে থামে নাই তারা। বোধ ফিরে আসে নাই ওই পরিবারের। কি করে নাই বলেন, অনেক প্রমাণ এখনও আমি প্রকাশ করি নাই। ইউএস বাংলার ক্ষমতার উপর আমি পারবো? হয়ত আরও বদনাম করবে। যদি ইউএস বাংলাও বাপারটা ফিল করত, তাইলে তো তারাও ছেলেটাকে ডেকে বলত, তুমি আমাদের airline এর মান নষ্ট করছো তাই না! বলে নাই মানে তো তারা আমার against. হয়ত আরও ক্ষতি করবে। কি বলব আর আমি? আমার mediacal report আর আমার piloce report বদলাতে ইউএস বাংলা মাঝরাতে কেন উত্তরা পুলিশ স্টেশনে গিয়েছিল বলেন? আমার সাথে কি হয়েছে তারা দেখছে? আমাকে মারার সময় তারা ব্যথা পেয়েছে? ক্ষমা চাই, আমি কাউকে আঘাত করে থাকলে।’

 

 

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বৈমানিক পারভেজ সানজারিকে বিয়ে করেন মিলা ইসলাম। বিয়ের পর গানে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। জড়িয়ে যান সংসার জীবনের দ্বন্দ্ব-বিবাদে। নারী নির্যাতন-যৌতুকের অভিযোগে এনে স্বামী সানজারির বিরুদ্ধে মামলাও করেন তিনি। সবশেষে সংসার জীবনের ইতি টানেন মিলা।

 

 

 

 

 

গত ১৬ এপ্রিল মিলা তার ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজ থেকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি তুলে ধরেন সংসার জীবনের দ্বন্দ্ব-বিবাদ, স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনদের নির্যাতনের কথা। এরপর গত বুধবার রাজধানীর একটি রেস্তোরায় সংবাদ সম্মেলন করেন মিলা। সেখানে তিনি সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির ও তার পরিবার, অভিনেত্রী নওশীন, ইউএস বাংলার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।