প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা আংশিক শিথিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বৈঠক হয়েছে।ওই বৈঠকে এবিবির সদস্যরা অফশোর ব্যাংকিং (বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশ থেকে আমানত এনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে বা বিদেশে বিনিয়োগ করা) নীতিমালা কিছুটা শিথিল করার প্রস্তাব দেয়।

 

 

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও বাস্তবতার আলোকে তারা কিছুটা ছাড় দিতে পারে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং পরিচালনার বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় সংগ্রহ করা আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ আমানত হিসাবে এসএলআর ও সিআরআর জমা রাখতে হবে। ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং করতে হবে। ব্যাংকগুলো এর মধ্যে এসএলআর ও সিআরআর রাখার বিধানটি শিথিল করার প্রস্তাব করেছে।

 

 

 

 

 

জানতে চাইলে এবিবির চেয়ারম্যান এবং ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, খুব সামান্য মুনাফায় অফশোর ব্যাংকিং থেকে ঋণ বিতরণ করা হয়। এখন সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিআরআর ও এসএলআর রাখতে গিয়ে ব্যাংকগুলো চাপে পড়বে। বিষয়টি বৈঠকে জানিয়েছি। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এছাড়া আরও কিছু নীতি শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানাবে।

 

 

 

 

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, অফশোর ব্যাংকিংয়ের নতুন নীতিমালা নিয়ে একটি সভা হয়েছে। এবিবি তাদের সমস্যার কথা বলেছে, আমরা শুনেছি। এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ উইন-উইন। আরও পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের বাইরে আলাদা একটি ব্যাংকিং ইউনিট হচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট। ২৪ ফেব্রুয়ারি বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 

 

 

 

নীতিমালায় কোন ধরনের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত নেয়া যাবে এবং কোথায় ঋণ দেয়া যাবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে ঋণের অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশেই বিনিয়োগ থাকতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত গ্রহণ ও ঋণ প্রদানের এ ইউনিট দেশীয় উৎস থেকে যে আমানত নেবে, সেটির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মূলধনের ২০ শতাংশের বেশি হবে না। এ ইউনিটের তহবিল সাধারণ শাখায় নেয়া যাবে না। দেশের বাইরে সাধারণ শাখার ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না। আর এমন কোনো ঋণ বিতরণ বা আমানত নেয়া যাবে না, যা চাহিবামাত্র গ্রাহককে পরিশোধ করতে হয়।

 

 

 

 

 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ইপিজেড, পিইপিজেড, ইজেড ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানার যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত নিতে পারবে।

 

 

 

 

 

এসব প্রতিষ্ঠানের এলসি খোলা, বিল ডিসকাউন্টিংসহ বৈদেশিক বাণিজ্য সেবা দিতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এসব অঞ্চলের বাইরে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও এ ধরনের লেনদেন করা যাবে। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঋণ দিতে না পারলেও তাদের থেকে আমানত নেয়া যাবে। বাংলাদেশি মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত নেয়া যাবে না। তবে দেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে বিল ডিসকাউন্টিং ও বিদেশি পণ্য সরবরাহকারীর পরিশোধের ব্যবস্থা করা যাবে।