প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে মেঘনা নদী উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত চলছে। এতে আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গুমোট অবস্থা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সদর উপজেলার মজু চৌধুরীর হাট, কমলনগর, রায়পুর ও রামগতির নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জানিয়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

 

 

 

 

জেলেদেরকে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ও চরের বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে আসার জন্য বলা হচ্ছে। দুপুর থেকে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্নস্থানে ১০০ টি সাইক্লোন সেল্টার ও নদী তীরবর্তী শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জনগণ ও জানমালের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ৬৬টি মেডিকলে টিম, সরকারি বরাদ্ধের ৩৭৫ মেট্রিক টন চাল, ২৫০০ বস্তা শুকনো খাবার ও ৮ লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে। জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়। জরুরি সেবা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

 

 

 

 

এদিকে কৃষকরা ক্ষেতে আধাপাকা ধান ও সয়াবিন নিয়ে বিপাকে পড়েছে। অধিকাংশ জমির সয়াবিন এখনও তোলা হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের আগাম বার্তায় গত দুইদিন ধরে রায়পুর, রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্নস্থানে আধাপাকা ফসল তোলা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঝড়-তুফান হলে বেশি ক্ষতির আশংকায় কৃষকরা আগাম ফসল তুলছেন।

 

 

 

 

 

অন্যদিকে বুধবার (১ মে) রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করা হয়। জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, সিপিডি ও রেডক্রিসেন্টের কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।