প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  জামালপুরের বকশীগঞ্জে যৌতুকের কারণে পাষণ্ড স্বামী ও শ্বশুর শারমিন নামে এক শিক্ষিকা গৃহবধূকে পীঠ ও হাত থেকে কোমর পর্যন্ত রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় শ্বশুর হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকায় বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

 

এর আগে ওই গৃহবধূর মা বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আসামিরা হলেন- স্বামী আব্দুল মমিন, শ্বশুর হোসেন আলী ও শাশুড়িসহ চারজন। মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশ।বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে মাহাবুবুল আলম বলেন, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর এলাকায় বাসস্ট্যান্ড থেকে গৃহবধূর শ্বশুর হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করলেও গৃহবধূর স্বামী মমিনকে ধরা যায়নি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

 

 

 

 

নির্যাতিতার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার হযরত শাহজামাল (রহ.) বিদ্যা নিকেতনের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আক্তার বকশীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাউরিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার মৃত নূর ইসলামের মেয়ে। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মাঝপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে আব্দুল মমিনের সঙ্গে ছয় বছর আগে শারমিনের বিয়ে হয়। তাদের তাসফিয়া নামে এক কন্যাশিশু রয়েছে। আব্দুল মমিনও একজন শিক্ষক। স্থানীয় অ্যাডভ্যান্স কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষক তিনি।

 

 

 

 

 

শিক্ষিকা শারমিন দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিয়ের পর থেকেই আব্দুল মমিন যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তার স্ত্রী শারমিনকে নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ স্থানীয় চরকাউরিয়া বাজার সংলগ্ন শারমিনের বাবার রেখে যাওয়া জমি জোর করে লিখে নেওয়ার জন্য শারমিনকে চাপ দিয়ে আসছিলেন আব্দুল মমিন। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শারমিনের ওপর চলে ধারাবাহিক নির্যাতন।

 

 

 

 

 

 

যৌতুক না পেয়ে শুক্রবার রাতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে শারমিনকে শ্বশুর হোসেন আলী ও স্বামী আব্দুল মমিন বেধড়ক পিটিয়ে আটকে রাখে। এ সময় শিশুকন্যা তাসফিয়াকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ অবস্থায় শারমিনকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।