প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘অপ্রীতিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

 

 

 

 

অভিযুক্ত মো. তারেকুল ইসলাম শাকিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এবং শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হল ছেড়ে দিয়ে এখন তার ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

 

 

 

 

এর আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘অপ্রীতিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে গত সোমবার (২০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর তার শাস্তির দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জাবি শাখা’র আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি ও সদস্য সচিব রতন বিশ্বাস।

 

 

 

 

 

অভিযোগপত্রে তারা বলেন, ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। ইতিপূর্বেও তিনি এরুপ মন্তব্য করেন, তাকে সর্তক করা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় বাজে মন্তব্য করেন।

 

 

 

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শাকিলকে ঘটনার দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জাবি শাখা’র কয়েকজন নেতাকর্মী। সেখানে তার কাছে লিখিতভাবে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়। সাথে সাথেই উত্তর দেন শাকিল।

 

 

 

 

 

এরপর সেদিন বিকেলে তিনি তার হলে যান। পরে শাখা ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক নীলাদ্রি শেখর মজুমদারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ছাত্রলীগের কর্মী তাকে নিয়ে বসেন। তারা ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে তাকে ইফতারের আগে ও পরে কয়েক দফায় মারধর করেন। তারপর রাত ১২ টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হল থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 

 

 

 

 

শাকিলকে মারধর করার সময় অন্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন রসায়ন বিভাগের ৪২তম ব্যাচের জামিল, বাংলা বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের আরিফ আহমেদ, অর্থনীতি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের আসাদ, পরিসংখ্যান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সজিব ও রাতুলসহ আরো ৫-৬ জন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক ছাত্র। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

 

 

 

 

 

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে নীলাদ্রি শেখর মজুমদার বলেন, ঘটনার দিন হলের জুনিয়ররা (শাকিলের বন্ধুরা) ওকে নিয়ে বসছিলো এবং আমাকে ডেকেছিল ওর সাথে কথা বলার জন্য। ওকে মারামারির কোনো প্রয়োজন নেই, মারধরের কোনো কাহিনি ঘটে নাই আমি যতটুকু জানি। এবং ওকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এটা ভুল অভিযোগ। তবে আমরা তার বিরুদ্ধে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

 

 

 

 

 

শহীদ সালাম বরকত হলের প্রাধ্যক্ষ আলী আজম তালুকদার বলেন, আমি খোঁজ নিয়েছিলাম।  তবে এরকম কোনো খবর পাইনি। তারপরও খোঁজ-খবর নিচ্ছি কোনো কিছু খুঁজে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, হল সংক্রান্ত বিষয়গুলো হল প্রশাসন দেখবে। আমরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি।