প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  অ্যানাকোন্ডাটির বয়স ৮ বছর। স্ত্রী প্রজাতির বেশ বড় আকৃতির সাপটিকে রাখা হয়েছে নিউ ইংল্যান্ডের এক বাড়ির অ্যাকুরিয়ামে। এই জানুয়ারিতেই বাচ্চা দিয়েছে সে। তবে এগুলো মোটেও অন্য অ্যাকাকোন্ডার সাধারণ বাচ্চার মতো নয়। নতুন মা আরো কয়েকটি স্ত্রী প্রজাতির সাপের সাথেই থাকে। সে কোনো পুরুষ সাপের সঙ্গ পায়নি। কাজেই কোনো যৌনকর্ম ছাড়াই এই বাচ্চাদের জন্ম হয়েছে। অ্যাকুরিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, সে কুমারী মা। এটা কেবল বিরলই নয়, এক অতি বিরল ঘটনা বলে মত দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

 

 

 

 

ডিএনএ পরীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে, সবুজ রংয়ের ২ ফুট লম্বা বাচ্চাগুলোর জন্ম হয়েছে চরমভাবে বিরল এক কৌশলে, যাকে বলা হয় ‘পার্থেনোজেনেসিস’। এই শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে একটি গ্রিক শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘কুমারী জন্ম’।

 

 

 

 

অবশ্য উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গের দুনিয়ায় পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়া বেশ দেখা যায়। এর মাধ্যমে কোনো স্ত্রী-দেহ পুরুষের সহায়তা ছাড়াই তার দেহের প্রতিলিপি সৃষ্টি করতে সক্ষম। তবে এবারের গ্রিন অ্যানাকোন্ডার পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টা জানামতে দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১৪ সালে ইউনাইটেড কিংডমের চিড়িয়াখানায় এ প্রক্রিয়ায় ৩টি বাচ্চার জন্ম হয়েছিল। এ প্রক্রিয়া বন্য জীবনে দেখা যায়।

 

 

 

 

 

নতুন বাচ্চাগুলোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুই জানতো না। তারা গত শীতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে নতুন তিন সদস্যকে খুঁজে পান। দুদিনের মধ্যেই একটির মৃত্যু ঘটে। তবে বাকিরা বেঁচে রয়েছে। নতুন ঘটনাটির ক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের পশুচিকিৎসকরা প্রাথমিক অবস্থাতেই পার্থেনোজেনেসিস ঘটেছে বলেই সন্দেহ করছেন।

 

 

 

 

 

তবে এ ঘটনা নিয়ে আরো গোয়েন্দাকর্ম পরিচালিত করতে হবে। অ্যানা নামের ১০ ফুট লম্বা এই গ্রিন অ্যানাকোন্ডার সাথে যারা থাকে তারা সবাই আসলেই স্ত্রী কিনা আবারো পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, সেখানে আসলেই কোনো পুরুষ নেই। তা ছাড়া অ্যানার অতীত খুব ভালো করেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে সুস্পষ্ট যে, সাপটি কখনো পুরুষের সংস্পর্শে যায়নি।

 

 

 

 

 

বেঁচে যাওয়া দুটো সাপ এখ বেড়ে উঠছে। এখন পর্যন্ত তাদের প্রদর্শন করা হচ্ছে না। তারা সপ্তাহে একবার করে খাবার খায়। কর্মীরা তাদের মানুষ থেকে আপাতত দূরেই রাখতে চান। এখন তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে নিয়মিত। আর সুস্থাভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশটাকে আরো বেশি সহজ করতে হবে।

 

 

 

 

 

ছোটরা কিন্তু মা অ্যানার একেবারে জেনেটিক কপি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যে বাচ্চাদের জন্ম হয় তাদের অবয়ব মায়ের মতো হয় না। জেনেটিক সিকুয়েন্সের সবকিছুই বাচ্চা দুটোর সঙ্গে মিলে গেছে।

 

 

 

 

 

তবে এরা মায়ের কপি হলেও তাদের চালচলন আলাদা। একটু চিকনটি আড়ালেই থাকতে চায়। আর স্বাস্থ্য ভালো যার, সে এদিক সেদিক ঘুরে ফিরে দেখতে চায়।