প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে চলছে বৃষ্টির বাহাদুরি। সোমবারের (১০ জুন) দক্ষিণ আফ্রিকা- ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচসহ এ পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভেসে গেছে কয়েকটি ম্যাচ।আবহাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বৃষ্টির তাণ্ডব চলবে আরো কয়েকটি ম্যাচে। সে হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে অনেকগুলো ম্যাচ পরিত্যক্ত হবে মোটামুটি নিশ্চিত।

 

 

 

 

ম্যাচগুলো মাঠে না গড়ালে কিছু দল সুবিধা পাবে এবং কিছু দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা- অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে বৃষ্টির হানায় জয়ের পথে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য দাঁড়ায় ১ বলে ২২ রান! সে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টির এমন আরো নানা কীর্তি রয়েছে ইতিহাসে।

 

 

 

 

কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে বৃষ্টি যে ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করছে তা বিভিন্ন দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে নিশ্চিত। যেমন আজকের ম্যাচে ফেভারিট বাংলাদেশ মুখোমুখি হওয়ার কথা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকার। এ ম্যাচে সব হিসেবেই এগিয়ে ছিলো বাংলাদেশ । তাই ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় হতাশ লাখো কোটি টাইগার ফ্যান।

 

 

 

 

বৃষ্টিতে ম্যাচ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপ ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দারুণ শুরু করা বাংলাদেশ পরের ম্যাচেই হোচট খায় নিউজিল্যান্ডের কাছে ২ উইকেটে হেরে। যদিও এই ম্যাচে স্বল্প পুঁজি নিয়েও দারুন লড়াই করে বাংলাদেশ দল।পরের ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশের বোলারদের বদান্যতায় বিশাল রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় ।

 

 

 

 

 

যার দরুন পয়েন্ট টেবিলের সাথে সাথে রানরেটের হিসেবেও তলানিতে বাংলাদেশ দল। সব মিলিয়ে আজকের এই ম্যাচ ছিলো বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । শ্রীলংকা যদি খুব অসাধারণ না খেলতো তবে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো অনেক বেশী।

 

 

 

 

বৃষ্টির কারণে আজকের শ্রীলংকা-বাংলাদেশ ম্যাচ না হওয়ায় সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয়েছে তা হলো মহাগুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্ট হারালো বাংলাদেশ। আর এর সাথে শ্রীলংকা পেলো বোনাস এক পয়েন্ট। এর আগে পাকিস্তান-শ্রীলংকা ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এক পয়েন্ট পেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে শ্রীলংকা।

 

 

 

 

 

অপরদিকে বাংলাদেশ টানা দুটি ম্যাচ হেরে এ ম্যাচের মাধ্যমে জয়ের ধারায় ফিরতে পারার সু্যোগ হারালো। এবং বাংলাদেশের পরবর্তী ৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪টি ম্যাচে জয়ী হতে হবে যদি সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হয় যার মধ্যে ভারতের মত শক্তিশালী দলের সাথে খেলা আছে। খেলা আছে পাকিস্তানের মত আনপ্রেডিক্টেবল দলের সাথে।এই ম্যাচ মাঠে না গড়ানোয় সারাবিশ্বের বাংলাদেশ দলের ফ্যানদের জন্য দুঃখের দিন হিসেবেই পরিগণিত হলো ।