প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নতুন করে ইরানের হুঁশিয়ারি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই গত সোমবার ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে যে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরু করা হয়েছে এর পরিণতি ভালো হবে না।

 

 

 

 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সোমবার বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা যারা আরোপ করেছে এবং এতে যারা সমর্থন দিচ্ছে তারাও নিরাপদে থাকতে পারবে না।

 

 

 

 

এদিকে জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র নজরদারি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইউকিয়ে আমানো বলেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বাড়াচ্ছে তেহরান। তবে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের যে মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাতে ইরান কবে পৌঁছবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

 

 

 

 

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস পরমাণু ইস্যু নিয়ে আলোচনায় গত রবিবার ইরান সফরে যান। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আলোচনার পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গত সোমবার জারিফ বলেন, ‘ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক লড়াই চলবে এবং লড়াই শুরুকারী ও এর সমর্থনকারী নিরাপদে থাকবে- এমন আশা করা ঠিক হবে না। এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ হচ্ছে অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধ করা।’ তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

 

 

 

এ সময় জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিরিয়া ও ইয়েমেনে লড়াই চলছে। ভাগ্য ভালো বলতে হবে যে এখানে তেমন কিছু নেই। যুদ্ধ দূরে রাখতে আমরা সম্ভব সব কিছুই করব। তবে এ অঞ্চলে যে উত্তেজনা চলছে তা  উদ্বেগজনক। আশঙ্কা আছে, এমন একটা কিছু ঘটে যাবে যার কারণে এখানে সহিংসতা বেধে যেতে পারে। আমরা যেকোনো মূল্যে ওই পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে চাই।’ জারিফ জানান, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ, গুরুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।

 

 

 

 

 

এদিকে আইএইএর প্রধান আমানো জানিয়েছেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বাড়িয়েছে। তিনি ইরান ইস্যু নিয়ে চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপ আয়োজনের ডাক দেন।

 

 

 

 

২০১৫ সালের স্বাভাবিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটা মাত্রার মধ্যে রাখার চুক্তিতে সই করে তেহরান। চুক্তির অন্য পক্ষগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন। গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়ে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে শুরু করেন। গত মাসে ইরান হুমকি দিয়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে চুক্তির বেশ কিছু শর্ত পালন স্থগিত করবে তারা।