প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:সে সময় পকেটে পকেটে স্মার্টফোন ছিল না। তবে রাস্তার কিছু মোড়ে টেলিফোনবুথ ছিল। ফ্ল্যাটের রেশমি দেয়ালে এলইডি স্ক্রিন ছিল না। মধ্যবিত্তের বৈঠকখানার কোণায় বড় আকারের টেলিফোন সেট ছিল।সেটাতে আঙুল ঘুরিয়ে ডায়াল করতে হতো। ফ্রি অফার দেওয়া নিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে চুলোচুলিও ছিল না। ডিজিটাল ঝকঝকে একবিংশ শতক ছিল না। লোডশেডিংয়ের অন্ধকারে ঢাকা‚ কিন্তু আবেগমাখা‚ মায়াময় একটা সময় ছিল।

 

 

বিদেশে পাড়ি দেয়ার উচ্চাকাঙ্খা সহজলভ্য ছিল না। নিজের শহরেই ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল। এখনকার বং কানেকশন এবং দ্য বংস এগেইন ছিল না। তবে গিটার হাতে অঞ্জন দত্ত ছিলেন।তার ছিল বেলা বোস। বাংলাগানের একটা মাইলফলক। অঞ্জন দত্ত যখন বেলা বোসের গান লিখেছিলেন‚ ছন্দ মেলাতে অনেক নম্বর বসিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ছন্দ মেলাতে গিয়ে টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইনটাই মিলে যায়।

 

 

‘শুনতে কি চাও’ নামের অ্যালবাম মুক্তি পেতেই বেলা বোস নামটা জনপ্রিয় হয়ে যায়। সবখানে সবাই বেলা বোসের গান বাজাতে থাকেন।তবে সেসময়ও ভারতের কলকাতার ফোন নম্বর ছয় ডিজিটের ছিল। পরে এসে সাত ডিজিট হওয়ামাত্র সেই সংখ্যার অস্তিত্ব চলে এল।

 

 

আসলে ওই নম্বরটি ছিল হিন্দি সংবাদপত্র ‘দৈনিক বিশ্বামিত্র‘-র কার্যালয়ের। আবার অনেকে বলেন‚ কার্যালয়ের নয়‚ সেটি ছিল ওই পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদকের বাড়ির নম্বর।মোট কথা‚ ওই সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল নম্বরটি। হাজার হাজার বার ওই নম্বরে ফোন গেছে বেলা বোসকে চেয়ে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, অঞ্জন দত্ত দুঃখপ্রকাশ করতে বাধ্য হন।

 

 

তিনি বলেন‚ শুধু ছন্দ মেলানোর জন্য এই নম্বরের আগমন। কোনো অন্য উদ্দেশ্য ছিল না। নিছক কাকতালীয়। কিন্তু তার ছন্দ মেলানোর খেলায় অন্য কোথাও ছন্দপতন হয়েছিল। যদিও সংস্কৃতির শহর সহনশীল কলকাতা হাসিমুখে এই ছন্দোপতনকে স্বাগত জানিয়েছিল। পরে অবশ্য সাত ডিজিট থেকে সংখ্যা আটে চলে যায়।