প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:নাম দ্বিজেন্দ্র নাথ বালা। এলাকায় চিরকুমার হিসেবেই খ্যাত তার। কোনোদিন বিয়ে করবেন না এমনই প্রতিজ্ঞা ছিলো তার। কিন্তু অসুস্থ মায়ের কথা ভেবে ৬৫ বছর বয়সে সেই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করলেন তিনি। আর এ বিয়েকে ঘিরে আয়োজনেরও কমতি ছিলো না। শুক্রবার রাতে বাগেরহাটের চিতলমারীতে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়।

 

 

এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের (মৃত) হরেন বালার ছেলে দ্বিজেন নাথ বালার বয়স ৬৫ পেরিয়ে গেলেও বিয়ে করেননি। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা তাকে বিয়ের কথা বললেও এতোদিন এড়িয়ে গেছেন। অবশেষে তার অসুস্থ মায়ের অনুরোধে বিয়ে করলেন।

 

 

 

শুক্রবার রাত ১২টায় শুভলগ্নে মোল্লাহাট উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের মাদারতলা গ্রামের (মৃত) সুধীর কুমার বিশ্বাসের মেয়ে সীমা বিশ্বাসের (৪৫) সাথে তার বিয়ে হয়।এ সময় বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রী ও উৎসুক লোকজন রাত জেগে বিয়ে উপভোগ করেন। মহাধূমধামের সাথে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

 

 

এ বিষয়ে দ্বিজেন্দ্র নাথ বালার সাথে কথা হলে তিনি জানান, আজকাল অনেককে দেখি বিয়ের পর মা-বাবাকে রেখে আলাদা হয়ে যায়। ফলে মা-বাবার কষ্টের সীমা থাকে না। আমি এ কথা ভেবে বাবা-মায়ের সেবা করার জন্য বিয়ের কোনো ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু দু’বছর আগে বাবা মারা গেছেন। এখন মাকে একা রেখে কাজে যেতে হয়। মায়ের অনুরোধে এ বিয়েতে রাজি হয়েছি। সবাই আমার জন্য আর্শিবাদ করবেন। বাকি জীবন যেন মায়ের পাশে থেকে সেবা করে যেতে পারি।

 

 

 

দ্বিজেন্দ্র নাথ বালার চাচা ধীরেন্দ্র নাথ বালা জানান, অনেক আগে থেকেই দ্বিজেনকে বিয়ের কথা বলা হলেও সে রাজি হয়নি। তার অসুস্থ বৃদ্ধ মায়ের কথায় এখন সে রাজি হওয়ায় আমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। নব দম্পতির জন্য সবার আর্শিবাদ ও দোয়া কামনা করেন তিনি।