প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে লটারি। লটারিতে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে জিতে নিতে পারেন হাজার হাজার কোটি টাকা। আর জীবন বদলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান প্রদেশের রিচার্ড জেলাস্কো নামের এক বাসিন্দা সুযোগ পেলেই কিনে রাখতেন লটারি। কিন্তু প্রতিবারই ‘ভাগ্য’ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

কিন্তু এই ‘ব্যর্থতা’ তার প্রচেষ্টাকে দমাতে পারেনি। এ বার আর সুযোগ পেলে নয়, নিয়মিত লটারি খেলা শুরু করে দিলেন তিনি।তবে এ বার কিন্তু ‘ভাগ্য’ তাকে খালি হাতে ফেরায়নি। উজাড় করে দিয়েছে। ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে লটারি জেতেন রিচার্ড। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ জিতে দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস মিলিয়ে গেল মিশিগান আদালতের হস্তক্ষেপে!

 

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রিচার্ড বিয়ে করেন ২০০৪ সালে। কিন্তু ২০১১ সালে রিচার্ড ও তার স্ত্রী মেরি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালে সেই মামলা চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। এই মামলা চলাকালীন রিচার্ড ও মেরি আলাদাই থাকছিলেন। তাদের তিন সন্তান মেরির কাছেই থাকত। এরই মধ্যে ২০১৩ সালে রিচার্ড লটারি জেতেন। আর সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই। লটারির অর্থের অর্ধেক ভাগ চেয়ে বসেন তার স্ত্রী মেরি। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন তিনি।

 

 

মেরির আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানান, এখনও দু’জনের বিচ্ছেদের মামলা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি। তা ছাড়া এক সঙ্গে থাকার সময় যা আয়-ব্যয় হয়েছে, সব কিছুই দু’জনের মধ্যে ভাগ হয়েছে। তা হলে এ ক্ষেত্রে কেন ভাগ হবে না!পাশাপাশি তিনি আরও জানান, লটারি জেতার পরেও রিচার্ড তার সন্তানদের দেখাশোনার জন্য কোনো অর্থ খরচের জন্য দেননি।

 

 

মেরির আইজীবীর যুক্তির বিরোধিতা করে রিচার্ডের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, এটা রিচার্ডের ভাগ্য। মেরির নয়। কিন্তু আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, লটারি জিতে যে অর্থ রিচার্ড পেয়েছেন তা অবশ্যই দু’জনের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে।

 

 

তবে লটারির টাকার ভাগ না দিতে হাল ছাড়েননি রিচার্ড। আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।