প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:অ্যান্ড্রয়েড এখন মানুষের হাতে হাতে। সম্প্রতি আমাদের দেশে থ্রিজি চালু হওয়ায় অ্যান্ড্রয়েডের বিক্রিও বেড়ে গেছে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহারের সাথে সাথে এর নিরাপত্তার দিক নিয়েও চিন্তা করার প্রয়োজন রয়েছে। পিসির মতো অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও রয়েছে ভাইরাস আর ম্যালওয়্যারের ঝামেলা। এর জন্য দরকার ভালো সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য সেরা কয়েকটি বিনামূল্যের সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

 

সময়ের সাথে সাথে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। আমাদের দেশেও এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মোবাইল ব্যবহারকারী। এর মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারীর হাতে রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন। পিসির মতো অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোতেও রয়েছে ভাইরাসের আক্রমণ। তাই অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোকে নিরাপদ রাখতেও প্রয়োজন কার্যকরী অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ্লিকেশন। এই লেখায় অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বিনামূল্যের কয়েকটি অ্যান্টিভাইরাসের কথা তুলে ধরা হলো।

 

 

নরটর সিকিউরিটি
বিশ্বব্যাপী পিসির নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই নরটন নিজেকে নির্ভরযোগ্য একটি অ্যান্টিভাইরাস ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডের জন্যও একইভাবে কার্যকর হতে পারে নরটন। এর বিনামূল্যের সংস্করণটিতে ফোনের বিল্ট-ইন স্টোরেজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পেরিফেরালের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এসডি কার্ডকেও কার্যকরভাবে স্ক্যান করতে সক্ষম নরটন। ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে এসএমএস-এর মাধ্যমে ফোনটি লক করার সুবিধাও দেবে বিনামূল্যের নরটন। অবশ্য টাকা খরচ করে নরটন ব্যবহার করলে বাড়তি আরও কিছু ফিচারও মিলবে।

 

 

হরনেট অ্যান্টিভাইরাস
অ্যান্ড্রয়েডের অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে কার্যকর আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন হলো হরনেট অ্যান্টিভাইরাস। এর বড় একটি সুবিধা হচ্ছে এটি পুরোটাই পাওয়া যাবে বিনামূল্যে। অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে ম্যালওয়্যার স্ক্যান করা কিংবা স্টোরেজগুলোকেও স্ক্যান করার কাজ দক্ষতার সাথে করতে সক্ষম হরনেট। পাশাপাশি এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এর ভাইরাস ডেফিনেশন আপডেট করে থাকে। হরনেটের কোনো আপডেট থাকলে সেটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যুক্ত হয়ে যায় এতে। ফলে আপডেটের জন্য আলাদা কষ্ট করতে হয় না। গুগল প্লেতে সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মধ্যেও ভালো রেটিং রয়েছে এর।

 

 

বিটডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস ফ্রি
অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে বিটডিফেন্ডারও সুপরিচিত প্রযুক্তি বিশ্বে। তবে বিটডিফেন্ডারের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের সবচেয়ে বড় দিক হচ্ছে এর সহজ ইন্টারফেস। ম্যানুয়ালি কিংবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর মাধ্যমে আপনার পুরো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস স্ক্যান করে নিতে পারবেন। অন্যান্য অ্যাপ্লিকেশনের মতো এতে ফিচারের বাহুল্য নেই। এটি কেবল অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যানের কাজটিই সফলতার সাথে করে থাকে। তাই বাড়তি ফিচার চাইলে অন্য কোনো অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে হবে। তবে সাধারণভাবে অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে এটি মন্দ নয়।

 

 

জোনার অ্যান্টিভাইরাস
অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাসের তুলনায় জোনার অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপসে রয়েছে বাড়তি অনেক ফিচার। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যানার, ম্যালওয়্যার স্ক্যানার, অ্যান্টি-থেফট ফিচার, কল ব্লক প্রভৃতি। এতে বাড়তি একটি টাস্ক ম্যানেজারও বিল্ট-ইন রয়েছে। এর সবগুলো ফিচারই দক্ষতার সাথে কাজ করতে সক্ষম। আর এর ইন্টারফেসটিও পরিচ্ছন্ন। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের চাইতে অবশ্য এটি ট্যাবলেট পিসির জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। ফলে অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটে এটি বেশি মানিয়ে যায়। টাকা খরচ করেও ব্যবহার করা যায় এটি। তবে এর বিনামূল্যের সংস্করণই বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য ভাইরাস ঠেকাতে কাজে দেবে।

 

 

অ্যাভাস্ট মোবাইল সিকিউরিটি
পিসির অ্যান্টিভাইরাস হিসেবে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে অ্যাভাস্ট। তবে মোবাইল ডিভাইসের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয় তারা। অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিম্যালওয়্যার ছাড়াও এর অ্যান্টি-থেফট ফিচার অত্যন্ত কার্যকরী। এই মোবাইল অ্যাপসটিতে রয়েছে বাড়তি অনেক ফিচার। নেটওয়ার্ক মনিটর, এসএমএস অ্যান্ড কল ফিল্টারিং, ব্যাকআপের মতো সব নজরকাড়া ফিচার রয়েছে এতে। বিনামূল্যের সংস্করণেও এর সব সুবিধাই পাওয়া যাবে। তবে টাকা খরচ করলে ব্যাকআপে যুক্ত করা যাবে অডিও-ভিডিও ফাইল।

 

 

এভিজি অ্যান্টিভাইরাস
পিসিতে জনপ্রিয়তা পাওয়া এভিজি অ্যান্টিভাইরাসের মোবাইল সংস্করণও ব্যবহার করছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী। অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে এর কার্যকারিতা তাই সহজেই বুঝা যায়। ভাইরাস আর ম্যালওয়্যার প্রটেকশনের পাশাপাশি এতে ওয়েব সিকিউরিটি, গুগল ম্যাপের সহায়তায় অ্যান্টি-থেফট, টাস্ক ম্যানেজার, ব্যাটারি মনিটর প্রভৃতি ফিচারও রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড সিকিউরিটির জন্য তাই এভিজি থাকতে পারে অনেকেরই পছন্দের শীর্ষে।

 

 

ইসেট মোবাইল সিকিউরিটি
নোড ৩২ নামে পিসির জন্য অ্যান্টিভাইরাস বাজারজাত করে থাকে ইসেট। মোবাইল সংস্করণের জন্য ইসেট এর নাম দিয়েছে মোবাইল সিকিউরিটি অ্যান্ড অ্যান্টিভাইরাস। এর ইন্টারফেসে পাওয়া যাবে ইসেট লাইভ গ্রিড। এর মাধ্যমেই লাইভ সব আপডেট পাওয়া যাবে প্রতিনিয়তই। অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাসের সব সুবিধাই পাওয়া যাবে এতে। ফলে অ্যান্ড্রয়েডেও ইসেট একটি নির্ভরযোগ্য সিকিউরিটি অ্যাপস।

 

 

ট্রাস্টগো অ্যান্টিভাইরাস
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য আরেকটি নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাসের নাম ট্রাস্টগো অ্যান্টিভাইরাস অ্যান্ড মোবাইল সিকিউরিটি। এই অ্যাপসটি পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এর কোনো পেইড সংস্করণ নেই। গুগল প্লে স্টোরে বিনামূল্যের সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে এর রেটিং সবচেয়ে ভালো। মোবাইল সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে এটি বেশকিছু পুরস্কারও পেয়েছে। ডাটা ব্যাকআপ, অ্যান্টি-থেফটের মতো সব ফিচারও রয়েছে এতে। এই অ্যাপসটি ইন্সটল করা থাকলে ৩বার ডিভাইসে ভুল পাসওয়ার্ড প্রবেশ করালেই যে করাচ্ছে তার ছবি তুলে ইমেইল করে দেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই। ফলে ফোনের নিরাপত্তার জন্যও এটি ব্যবহার করতে পারেন নিশ্চিন্তে।

 

 

ড. ওয়েব অ্যান্টিভাইরাস
গুগল প্লে স্টোরে সবচেয়ে বেশি রেটিং পাওয়া সিকিউরিটি অ্যাপ্লিকেশন হলো ড. ওয়েব অ্যান্টিভাইরাস। এর বিশেষত্ব হলো এটি খুব কম মেমোরি ব্যবহার করে। কম কনফিগারেশনের ফোন এবং সীমিত ডাটা প্ল্যান ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি অত্যন্ত উপযোগী। আর অ্যান্টিভাইরাস কিংবা অ্যান্টিম্যালওয়্যার স্ক্যান করে দূর করতে এর জুড়ি নেই। এর ইন্টারফেসও ঝামেলা তৈরি করবে না। ফলে অ্যান্ড্রয়েডে সেরা অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপস হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারেন।