প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:দেড় বছর আগে আগে বিয়ে হয়েছিল চট্টগ্রামের হাটহাজারীর জান্নাতুন নাঈম নিশুর (২০)। ৫ মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে তার। বর্তমানে স্বামী থাকেন বিদেশে। শনিবার (৬ জুলাই) ওই সন্তানকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে নিশু হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মারা গেছে বলে দাবি করেছেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। তবে নিহতের পরিবারের দাবি তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

 

 

এ ঘটনায় পুলিশ আজ শনিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শ্বশুর ফারুক আহমদ (৬০) ও শাশুড়ি স্বর্ণা বেগমকে (৪৫) আটক করেছে।এর আগে বেলা ১টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় নিশুকে হাটহাজারী সদরের আলিফ ক্লিনিকে চিকিৎসা দিতে নিয়ে আসেন শ্বশুর ফারুক আহমদ ও শাশুরি স্বর্ণা বেগম। এক পর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশুকে মৃত ঘোষণা করলে তার আত্মীয়-স্বজনরা শ্বশুর ফারুক আহমদকে হাসপাতাল চত্বরে বেধরক পিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে পুলিশ রক্তাক্ত ফারুককে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

 

 

নিশুর স্বাশুরী স্বর্ণা বেগম নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বৌমা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমরা তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসি। তবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান স্থানে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

 

 

নিহত গৃহবধূ নিশু রাউজান উপজেলাধীন চিকদাইর ইউনিয়নের আমিনুল খলিফা বাড়ির দুবাই প্রবাসী মো. সোলাইমানের কন্যা ও হাটহাজারী পৌর এলাকার মেহেদী পাড়া রাজ মেহেদী বাড়ির ফারুক আহমদের দুবাই প্রবাসী ছেলে ফোরকান মেহেদীর স্ত্রী। পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

 

জানা গেছে, শনিবার নিশুর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে সঙ্গে আসা নিশুর স্বজনরা ফারুক আহমদের ওপর চড়াও হয়। এলোপাথারি পিটুনি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গৃহবধূ নিশুর শ্বশুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ প্রহরায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

 

নিহত নিশুর নানা মো. শফিউল্লাহ বলেন, প্রায় ১ বছর ৩ মাস পূর্বে নিশুর বিয়ে হয়। বর্তমানে ৫ মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। শ্বশুর ফোরকান ও শ্বশুরি স্বর্ণা বেগম নিশুকে একাধিকবার মারধর করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্বশেষ গত রমজানের পূর্বে মারধর করলে নিশুকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা। স্বামীর অনুরোধে গত ঈদের পূর্বে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয় নিশুকে।

 

 

তিনি বলেন, নির্যাতন করেই তার নাতনীকে হত্যা করেছে ফোরকান ও তার স্ত্রী স্বর্ণা বেগম। এ ঘটনায় পরিবাবের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

 

 

আলিফ হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক চৌধুরী মো. ইমতিয়াজ সুলতান উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে আনার পর গৃহবধূ নিশুর হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি। আগেই তিনি মারা গিয়েছেন। প্রশ্নের জনাবে ডা. ইমতিয়াজ সাংবাদিকদের জানান, দৃশ্যমানস্থানে গৃহবধূ নিশুর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

 

 

ঘটনাস্থলে হাটহাজারী সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।