প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:রাজধানীর আজিমপুর মেয়র হানিফ জামে মসজিদের প্রধান খাদেম হানিফ শেখকে হত্যা করে আসরের নামাজ পড়তে যায় ওই মসজিদের আরেক খাদেম সাইফুল ইসলাম। সাইফুলের পরিকল্পনা ছিল, হানিফের বস্তাবন্দী লাশ আজিমপুর পুরনো কবরে পুঁতে রাখবে। ব্যর্থ হয়ে সে শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের খুলশীতে গিয়ে গা ঢাকা দেয়। সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করতে সাইফুল দাড়ি কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করেন।

 

 

হানিফ শেখ হত্যার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য দিয়েছে সাইফুল। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থানার বেপারীকান্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকান্ডে র কথা স্বীকার করেছে।

 

 

এর আগে, গত ৩ জুলাই রাতে আজিমপুর মেয়র হানিফ জামে মসজিদের দোতলার একটি কক্ষ থেকে প্রধান খাদেম হানিফ শেখের (৪৫) বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ওই মসজিদেরই আরেক খাদেম সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন হানিফের শ্বশুর জাকির শেখ। গতকাল দুপুরে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, হানিফকে মসজিদের প্রধান খাদেমের দায়িত্ব দেওয়ায় সাইফুল ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকা ঘটান।

 

 

সাইফুল ভেবেছিল, হানিফ মারা গেলে প্রধান খাদেমের দায়িত্ব তিনিই পাবেন। ওই মসজিদের আরেক খাদেম ফরিদ আহমেদ, ঝাড়ুদার বাহাউদ্দিন এবং নিউমার্কেট জামে মসজিদের খাদেম আবুল কালাম আজাদ এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। পিবিআই প্রধান বলেন, গত বছরের নভেম্বরে মসজিদটি উদ্বোধনের পর থেকে সাইফুল ছিলেন প্রধান খাদেম। তার সহযোগী খাদেম ছিলেন ফরিদ ও হানিফ। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সাইফুলের কাজকর্মে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাকে সরিয়ে হানিফকে দায়িত্ব দেয়। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

 

 

হানিফের মৃতদেহ ৩ জুলাই রাতে উদ্ধার হলেও তাকে হত্যা করা হয় ২ জুলাই বিকালে। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল বলেন, তারা তিন খাদেম ও একজন ক্লিনার একটি কক্ষে ঘুমাতেন। ঘটনার দিন বিকাল ৪টার দিকে কক্ষের মেঝেতে হানিফকে একা ঘুমন্ত পেয়ে সাইফুল রান্নাঘর থেকে চাকু এনে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে তার বুকে, পেটে ও গলায় আঘাত করে। হানিফ মারা গেলে তার মৃতদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে বেলকনিতে রেখে দেয়।

 

 

এরপর রক্তমাখা ফ্লোর ও তোশকের রক্ত পরিষ্কার করে সাইফুল আসরের নামাজ পড়তে যায়। রাত ১০টার দিকে সাইফুল বাইরে থেকে খেয়ে রুমে ফিরে আসে। পরে ওই কক্ষের বাকি দুই বাসিন্দা হানিফের খোঁজ করলে সাইফুল বলেন, হানিফ বাইরে গেছে। সাইফুলের পরিকল্পনা ছিল, ফরিদ ও বাহাউদ্দিন ঘুমিয়ে পড়লে বস্তাটি পুরনো কবরে পুঁতে রাখবে। কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত তারা জেগে থাকায় ব্যর্থ হয়ে বাবার মৃত্যুর কথা বলে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে বের হয় সাইফুল। প্রথমে নিজের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে যান, সেখান থেকে শ্বশুরবাড়ি চট্টগ্রামের খুলশীতে যায়। সেখানে গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করতে সাইফুল দাড়ি কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করেন।