প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  আজকাল আমরা খবরে প্রায়ই দেখতে পাই যে ফেসবুকের প্রেমের টানে অনেক বিদেশীনি দেশে এসে এদেশীয় যুবককে বিয়ে করেছে।কিন্তু আমরা কি জানি এসব বিয়ের পরবর্তী চিত্র কি? কিংবা বিদেশিনীর ফাঁদে পরে কে কিভাবে নিঃস্ব হয়েছে?
আজ আপনাদের শুনাব তেমনি এক গল্প।বিবাহিত সোহেল ঢাকায় একটা গার্মেন্টসে চাকরি করত।

 

 

 

 

 

গ্রামে স্ত্রী আর মা থাকত এবং সোহেল একা ঢাকায় থেকে চাকরি করত।অফিস থেকে এসে সময় কাটানোর জন্য সোহেল নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করতে শুরু করে।একদিন ফেসবুকে ডায়ালো ওয়েস্ট এলিজা নামের এক বিদেশিনী ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।বিদেশিনীর সাথে আস্তে আস্তে সোহেলের কথা বাড়তে থাকে এবং প্রতিদিনই কথা হত।বিদেশীনি জানায় যে সে আমেরিকার নাগরিক এবং আমেরিকার সেনাবাহিনীতে চাকরি করে,এখন জাতিসংঘের মিশনে কাজ করার জন্য আফগানিস্তানে চলে এসেছে।

 

 

 

 

 

 

এভাবে টুকটাক কথা হতে হতে একদিন বিদেশিনী জানায় যে তারা আজকে আফগানিস্তানে এক জায়গায় হামলা করার পরে সেখান থেকে অনেকগুলো ডলার পায় এবং তার ভাগের সবগুলো টাকা সে সোহেলকে দিয়ে এদেশে বিনিয়োগ করাতে চায়।সোহেল তো আকাশের চাঁদ হাতে পায়।সে দিন গুনতে থাকে টাকা কবে পাবে তার আশায়।কয়েকদিন পরে মেয়েটি সোহেলকে বলে যে সে একটি ইন্টারন্যাশনাল কুরিয়ার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেছে এবং তাদের কাছে টাকা জমা দিয়েছে সোহেলের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।

 

 

 

 

 

 

মেয়েটি একটা ব্রিফকেসের ছবি সোহেলকে মেসেজে পাঠালে সোহেল তার সৌভাগ্যের কথা ভেবে খুশি হয়।পরদিন সোহেলের কাছে একটা ফোন আসে।ফোনে মেয়েটি বলে যে সে কুরিয়ার কোম্পানী থেকে বলছে এবং সোহেলের নামে বিদেশ থেকে একটি টাকার কুরিয়ার এসেছে।তখন কুরিয়ারটি বাসায় পাঠিয়ে দিতে বললে মেয়েটি বলে যে এই টাকা তুলতে হলে খরচ বাবদ সোহেলকে পঁচাত্তর হাজার টাকা জমা পাঠাতে হবে এবং তারপরেই সোহেলের কাছে পার্সেলটি পৌঁছে যাবে।

 

 

 

 

 

 

সেকথা শুনে সোহেল ধার করে পঁচাত্তর হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয় একটা ব্যাংকের নাম্বারে।কিন্তু এরপরেও মেয়েটি পার্সেলটি পাঠাতে গড়িমসি করতে থাকে এবং একপর্যায়ে বলে যে সোহেলের ব্যাগটি কাস্টমসে আটকে রয়েছে এবং সোহেলকে এই ব্যাগ ছাড়াতে হলে আরো একলাখ পঁচানব্বই হাজার টাকা দিতে হবে।সোহেল প্রথমে এই টাকা দিতে রাজি না হলেও পরে বিদেশীনি তাকে পুরো টাকার ৩০ পারসেন্ট দেবে বললে সে রাজি হয়ে যায় এবং তার মনে ভয় ছিল যে টাকাটা কাস্টমসে আটক থাকলে হয়তো সে আইনী ঝামেলায় পড়বে।

 

 

 

 

 

 

মেয়েটিকে অনুরোধ করে সোহেল একলাখ চল্লিশ হাজার টাকা ধারদেনা করে পাঠানোর পরে ফোন নাম্বারটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদেশিনীর কাছ থেকে মেসেজ আসাও বন্ধ হয়ে যায়।বিদেশিনীর টাকার লোভে পরে এতগুলো টাকা প্রতারকের কাছে হারিয়ে আজ সোহেল নিঃস্ব।