প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   ঢাকার কল্যাণপুরের মেয়ে প্রীতি।সৎমায়ের সংসারে প্রীতির সাথে তার বাবার প্রায়ই কথা কাটাকাটি হত।একদিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রীতির বাবা প্রীতিকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বললে প্রীতি রেগে গিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।বাসা থেকে বের হয়ে প্রীতি তার ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবীকে ফোন দেয়,তখন বান্ধবীর স্বামী প্রীতিকে বলে যে সে যদি চাকরি করতে চায় তবে সিলেটে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।

 

 

 

 

সিলেটে পৌছে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে প্রীতির সাথে শহিদুল নামে একটা ছেলের পরিচয় হয়।একই গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে প্রীতির সাথে শহীদুলের ফোনে কথা বলা শুরু হয়।ধীরে ধীরে ছেলেটি প্রীতির সাথে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে প্রীতিকে বলে তার ফোন দিয়ে বাসায় যোগাযোগ করতে।ছেলেটির জোরাজুরিতে প্রীতি বাসায় ফোন দেয় ছেলেটির নাম্বার থেকে।এভাবে আস্তে আস্তে প্রীতি ছেলেটিকে পছন্দ করা শুরু করে।

 

 

 

 

 

পরে ছেলেটি প্রীতিকে বিয়ের জন্য তাগাদা দিতে শুরু করে এবং একদিন তারা বিয়ে করে একসাথে থাকা শুরু করে।শহীদুলের নিষেধে প্রীতি তাদের বিয়ের কথা পরিবারের সবার কাছে এবং কর্মস্থলেও গোপন রাখে।গার্মেন্টসের মালিক একদিন প্রীতি এবং শহীদুলকে আলাদাভাবে ডেকে তাদের বিয়ে হয়েছে কিনা জানতে চায় এবং প্রীতি ও শহীদুল দুজনেই অস্বীকার করলে মালিক প্রীতিকে অচেনা কার সাথে সম্পর্কে জড়াতেও নিষেধ করে দেন।

 

 

 

 

 

একসাথে থাকতে থাকতে প্রীতি দুইবার গর্ভবতী হয় এবং প্রত্যেকবারই শহীদুল প্রীতিকে বাচ্চা ফেলে দিতে বাধ্য করে।শহীদুল প্রীতিকে আগের চাকরি ছেড়ে নতুন একটা কোম্পানিতে চাকরি খুঁজে দেয় বেশি বেতনের কথা বলে।স্বামী-স্ত্রী দুজনে চাকরী করলেও ভবিষ্যতের জন্য ব্যাংকে বেতনের টাকা জমা রাখছে বলে শহীদুল কোন টাকা সংসারের জন্য দিত না আর প্রীতির সব টাকাই সংসারে খরচ করতে হত।

 

 

 

 

 

প্রায়ই গভীররাতে শহীদুলের কাছে ফোন আসত এবং শহীদুল বাইরে গিয়ে ফোনে কথা বলত কিন্তু সংসারে অশান্তি হবে ভেবে প্রীতি কখনো শহীদুলকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করতনা। এদিকে প্রীতির সাথে তার বড় বোনের এবং বান্ধবীর যোগাযোগ হলে প্রীতি তাদেরকে বিয়ের কথা জানায় এবং তাদের কাছ থেকে জেনে প্রীতির ভাই প্রীতিকে ফোন করে।

 

 

 

 

 

 

ফোনে প্রীতির বড়ভাই সবকিছু ভুলে প্রীতিকে বাসায় ফিরে আসতে বলে এবং শহীদুলকে মুরব্বি নিয়ে এসে পারিবারিকভাবে প্রীতিকে বিয়ে করতে বলে।পরে কয়েকদিন পরে আসবে জানিয়ে শহীদুল প্রীতিকে ঢাকায় নিজের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।কিন্তু এরপরে শহীদুল বারবার আসবে বলে আসেনা এবং একদিন সবধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

 

 

 

 

 

 

 

শহীদুলের পরিবার সম্পর্কে প্রীতি কিছুই জানতনা আর বিয়ের কাবিননামা থেকে শুরু করে ফোনের মেমরিকার্ড পর্যন্ত শহীদুলের কাছে থাকায় প্রীতির কাছে শহীদুলের সাথে বিয়ের কোন প্রমাণই ছিলনা।তাই সব হারিয়ে প্রীতি আজও শহীদুলের ফেরার অপেক্ষায় আছে।