প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের দেশে বাড়ছে বিভিন্নরকম অপরাধের পরিমাণ।পড়ালেখা এবং চাকরির উদ্দ্যেশে বাড়ি থেকে শহরে আসার পরে অভিভাবকহীনভাবে থাকে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে নানারকম ফাঁদে।হাসান এবং মিলি উভয়েই ঢাকা শহরে থাকে।হাসান পড়ালেখা শেষ করে এখনো বেকার রয়েছে আর মিলি একটা বেসরকারী মেডিকেলে এমবিবিএস ডিগ্রী নিয়ে পড়ালেখা করছে।

 

 

 

 

 

ফেসবুকে পরিচয়ের সুবাদে মিলি আর হাসানের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ হয়।প্রেমের একপর্যায়ে হাসান বলে যে সে মিলিকে ছাড়া একা থাকতে পারছেনা তাই মিলিকে তার সাথে থাকতে হবে।মিলি প্রথমে বিয়ে ছাড়া একসাথে থাকতে রাজি না হলেও হাসানের জোরাজুরিতে সে লিভ টুগেদারের সিদ্ধান্ত নেয়।স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঘর ভাড়া নিয়ে একসাথে দিনকাল ভালোই চলছিল হাসান এবং মিলির।

 

 

 

 

 

হাসান চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার কথা বলে মিলির কাছ থেকে মাঝেমাঝেই টাকা নিলেও কোন দিন চাকরি পাওয়ার খবর মিলি শুনতনা।এরমধ্যে হাসানের পকেটে মিলি ফেন্সিডিলের বোতল পায় এবং হাসানকে জিজ্ঞেস করলে সে প্রথমে কফ সিরাপ বলে হেসে উড়িয়ে দিলেও পরে রাগারাগি শুরু করে মিলির সাথে।মিলি সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য এ বিষয়ে হাসানকে আর কিছু বলেনা।এরমধ্যে একদিন মিলি হাসানকে বলে যে সে যেন মিলিকে তার সিভি আর সার্টিফিকেটগুলো দেয়,মিলির কয়েকজন পরিচিত লোক আছে তাদেরকে দিয়ে সে একটা চাকরির ব্যবস্থা করবে।

 

 

 

 

 

 

একথায় হাসান রেগে যায় এবং বলে যে সে চাকরি করবেনা বরং ব্যবসা করবে।ব্যবসা করতে অনেক টাকার দরকার এটা বললে হাসান বলে তার কিছু সঞ্চয় আছে সেগুলো ব্যবহার করবে আর বাকি টাকা মিলি দেবে।মিলি ছাত্রাবস্থায় এত টাকা কোথা থেকে পাবে বললে হাসান মিলিকে যেখান থেকে পারে টাকা এনে দিতে হবে বলে শাসায়।

 

 

 

 

 

এদিকে মিলির ফাইনাল পরীক্ষার ফি হিসেবে তার বাবা ৫০ হাজার টাকা পাঠায়।কিন্তু সে টাকা মিলি নির্দিষ্ট জায়গায় খুঁজে না পেলে পরে খুঁজতে খুঁজতে সে হাসানের কিছু কাগজপত্র পায় যেখান থেকে সে জানতে পারে যে হাসান তার কাছে ভুয়া পরিচয় দিয়েছে।হাসান বাসায় আসলে মিলি তাকে তার পঞ্চাশ হাজার টাকা চুরির কথা জিজ্ঞেস করে এবং হাসানকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

 

 

 

 

 

 

কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসান মিলিকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে এবং বাড়িওয়ালার অভিযোগে পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়।এভাবে অচেনা এক ছেলেকে ভালোবেসে লিভ টুগেদারের ভুলের খেসারত মিলিকে জীবন দিয়ে দিতে হল।