প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  জামালপুরের ছেলে ফারুক।বাবা রেলে ছোটখাট চাকরি করলেও অনেক ভাইবোন থাকায় পরিবারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো।তাই ফারুক ডিসের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি একটা জুতার দোকানে কাজ করে পরিবারে অর্থ জোগান দিত।একদিন কোন এক কাজে রেলস্টেশনে যাওয়ার সময় সেখানে এক মেয়েকে দেখতে পায় ফারুক, মেয়েটি টিকেটের জন্য ছুটাছুটি করছিল দেখে ফারুক অনেক কষ্টে মেয়েটিকে একটা টিকেট ম্যানেজ করে দেয়।এরপরে মেয়েটি ফারুকের ফোন নম্বর নিলেও কোনদিন ফোন করেনি।

 

 

 

 

হঠাত করে পাঁচবছর পরে একদিন মেয়েটি ফোন করে ফারুকের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে জানতে চায় যে তাদের এলাকায় তো অনেক ভালো ভালো কবিরাজ আছে বলে সে শুনেছে।তার এক বড় ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য কবিরাজ লাগবে ফারুকের পরিচিত কেউ আছে কিনা।তখন ফারুক বলে যে তার নিজের এক তালই সাহেব আছে পরিচিত,উনি অনেক ভালো কবিরাজ।

 

 

 

 

 

পরে নির্দিষ্ট দিনে মেয়েটি জামালপুরে এসে হাজির হলে ফারুক তাকে তালইয়ের কাছে নিয়ে যায়।দোকানে কাজ থাকায় তালইয়ের সাথে মেয়েটিকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ফারুক চলে আসে দোকানে।কয়েকঘন্টা পরে মেয়েটি ফারুককে ফোন করে বলে যে তার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে আর ফারুককে অনুরোধ করে তাকে ট্রেনে তুলে দিতে।

 

 

 

মেয়েটি চলে যাওয়ার পরে ফারুকের তালই তাকে ডেকে বাসায় নিয়ে যায় এবং তাকে বলে যে মেয়েটি স্থানীয় এক পত্রিকায় সাংবাদিকের চাকরি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতন পায় আর গাজীপুরেও নাকি নিজের বাড়ি আছে,তুমি এই মেয়েকে বিয়ে করে ফেল।তালই সাহেবের কথায় রাজি না হয়ে ফারুক বলে যে এই মেয়েকে তার পছন্দ না এবং সে পরিবারের কথায় বিয়ে করবে।

 

 

 

 

তখন তালই মেয়েটিকে তার বাসায় এনে রাখে মেয়ের পরিচয় দিয়ে এবং লোকজন জিজ্ঞেস করলে বলে যে ফারুক মেয়েটিকে এনে রেখেছে এবং মেয়েটির কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা আর স্বর্ণের চেইন নিয়ে বিয়ে না করে উধাও হয়েছে।মানুষের কাছে এসব কথা শুনে ফারুক স্থানীয় মুরব্বীদের নিয়ে গিয়ে মেয়েটির সাথে কথা বলতে গেলে তালই আর মেয়েটি দুজনেই ফারুকের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং মেয়েটি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ফারুককে জেলের ভাত খাওয়াবে বলে শাসায়।

 

 

 

 

 

এরপরে ফারুকের নামে মামলা করা হয় এবং ফারুককে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় থানায়।পরে থানা থেকে ফিরে এসে ফারুকের পরিবারের লোকজন ফারুককে মেয়েটির সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় আড়াই লাখ টাকা দেনমোহরে।কিন্তু বিয়ের দিন থেকেই মেয়েটি ফারুকের আর ফারুকের পরিবারে সাথে আরো খারাপ ব্যবহার শুরু করে এবং ফারুককে বলে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য।

 

 

 

 

 

ফারুক ডিভোর্সে রাজি না হলে মেয়েটি ফারুককে গাজীপুরে চলে আসতে বলে এবং নাহলে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি দেয়।স্থানীয় লোকের কাছে ফারুক জানতে পারে যে মেয়েটির এক স্বামী এবং বাচ্চা-কাচ্চা রয়েছে আর সে এর আগে আরেকটি ছেলেকে এভাবে ফাঁসিয়েছে।

 

 

 

 

 

এরপরে মেয়েটির আগের দায়ের করা মামলার হাজিরা দিতে ফারুক কোর্টে গেলে মেয়েটির সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার ব্যাগ পেয়ে যায় এবং সেখান থেকে জানতে পারে যে তার সাথে বিবাহকালীন অবস্থায় সে অন্য আরেকজনেরও স্ত্রী ছিল।কিন্তু এতকিছু জানার পরেও ফারুক আজ উদ্দ্যেশ্যহীনভাবে মান-সম্মান আর প্রানের ভয়ে জীবন কাটাচ্ছে মেয়েটির কারণে।সামান্য একটু উপকারের খেসারত আজ তাকে এভাবে দিতে হচ্ছে।