প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দেশ কুয়েতের নাম প্রায়ই উচ্চারিত হয়।
তাই আজকে চলুন জেনে নিই এই কুয়েত সম্পর্কে।দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায় পারস্য উপসাগরের তীরে ইরান ও সৌদি আরবের মাঝে অবস্থিত কুয়েতের পুরো নাম দৌলত আল কুয়েত।এটি একটি রাজতান্ত্রিক দেশ।১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার আগপর্যন্ত কুয়েত ছিল তাদের অধীনে।

 

 

 

 

 

যুক্তরাজ্য থেকে মুক্ত হলেও কুয়েতের আইন বা শাসনব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে ফ্রান্সের অনুকরণে।কুয়েতের সবচেয়ে বড় শহর হচ্ছে সেদেশের রাজধানী কুয়েত সিটি।আলোঝলমলে এই কুয়েত শহরের আয়তন মাত্র সতের হাজার একশবিশ বর্গকিলোমিটার আর লোকসংখ্যা মাত্র বিয়াল্লিশ লক্ষ পঞ্চাশহাজার তিনশ ছাব্বিশ জন।

 

 

 

 

 

এই জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের একভাগ হচ্ছে বিদেশী নাগরিক যারা প্রধানত তেলের খনিতে কাজ করে।আয়তন আর জনসংখ্যায় তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র দেশ হলেও কুয়েতে আছে পৃথিবীর ষষ্ঠ বৃহত্তম তেলের রিজার্ভার।কুয়েত পুরো এশিয়ায় এই তেল বিক্রি করে এবং তাদের দেশের মোট আয়ের ৯০ভাগ আসে তেল বিক্রি থেকে।তেলের বদৌলতে কুয়েতের মানুষের মাথাপিছু আয় ঊনত্রিশহাজার পাঁচশত ছেষট্টি ডলার প্রায় এবং কুয়েত বিশ্বের নবম ধনী দেশ।

 

 

 

 

 

এক কুয়েতি দিনারের মূল্যমান প্রায় তিন ডলারের বেশি।এত অর্থসম্পদের কারণে কুয়েত বিশ্বের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন শহরে পরিণত হয়েছে।এদেশে কোন রেললাইন কিংবা নদী-ঝর্না না থাকলেও টাকার জোরে পার্শ্ববর্তী সমুদ্রের পানিতে ফিল্টার করে তারা সবখানে সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে এবং নিজেরদের দেশে ২০০৫ সালে স্থাপন করেছে সুবৃহৎ গলফকোর্ট।২০০৬ সালে উটের দৌড়ের প্রতিযোগিতায় রিমোট কন্ট্রোল চালিত রোবটের ব্যবহার করা হয় এদেশে যা ছিল বিশ্বে সর্বপ্রথম।

 

 

 

 

 

কুয়েতের তাপমাত্রা প্রায় ৫৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস হওয়ার কারণে এরা নিজেদের দেশের স্বাধীনতা দিবস ১৯শে জুনের পরিবর্তে পালন করে ২৫শে ফেব্রুয়ারি।মুসলিমপ্রধান দেশ কুয়েতে রাষ্ট্রীয় সংগীতে কোন শব্দ নেই এবং রমজান মাসে উচ্চশব্দে গান-বাজনার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে।অদ্ভুত হলেও কুয়েতে নিয়ম রয়েছে যে কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে উপহার দিতে চায় তবে সে সেই উপহার দিবে মেয়েটির মাকে।কুয়েত সম্পর্কে এসব মজার মজার তথ্য জেনে কেমন লাগল তা আমাদের জানাতে ভুলবেননা।