প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:যারা অনেক দিন ধরে ধূমপান করছেন তাদের জন্য ধূমপান ছাড়া কিছুটা কঠিন কাজ। কাজটা অসম্ভব নয়। ধূমপানের কারণে সামাজিক এবং পারিবারিক কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা অনুধাবন করা এবং চারপাশের সমর্থন নিয়ে ধূমপান ছাড়া যায়।

কীভাবে ধূমপানের এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন

* প্রথমে ধূমপান কেন ছাড়বেন তা খুঁজে বের করুন। প্রতিটি মানুষই ভিন্ন, তাই গুরুত্বপূর্ণ কারণটি-ই বেছে নিন ধূমপান ছাড়ার জন্য। এটা হতে পারে আপনার সন্তান এবং পরিবারের ক্ষতির কথা মাথায় রেখে অথবা ধূমপান ছাড়ার শারীরিক সুফলের কথা মাথায় রেখে। পরিষ্কার লক্ষ্য ধূমপান ছাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।

* যেদিন ধূমপান ছাড়বেন তার তারিখ নির্ধারণ করুন, এটা ১ সপ্তাহের বেশি যেন না হয় কারণ বেশি দিন হলে আপনি হয়ত বারবার তারিখ পরিবর্তন করবেন। এই ৭ দিনে ধীরে ধীরে ধূমপানের পরিমাণ কমিয়ে দিন। যদি আপনি এই কয়দিন এই ভেবে বেশি ধূমপান করেন যে আর তো কখনও করব না তাহলে যেদিন ধূমপান ছাড়বেন সেইদিন আপনার মন বেঁকে বসবে।

* যেদিন ধূমপান ছাড়বেন, সেদিন আপনার রুটিন পরিবর্তন করুন। সেই হবে একটা নতুন দিন যা আপনাকে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে শেখাবে, তাই নিজেকে দাঁড় করান পূর্বের ভুলত্রুটি শুধরিয়ে। যদি আপনার পূর্বের রুটিন থাকে এরকম, আপনি হাঁটতে বের হবেন, আপনার কুকুরকে নিয়ে হাঁটবেন এবং সকালের নাস্তার আগে একটা সিগারেট খাবেন, তাহলে এই রুটিন পরিবর্তন করুন। ঠিক করুন এভাবে, আপনি আপনার কুকুরকে নিয়ে হাঁটবেন এবং বাসায় ফিরেই গোসল করে নেবেন গরমের ভাবটা দূর করার জন্য।

* লিখে রাখুন বা মনে রাখুন কখন আপনি ধূমপান করেন। হতে পারে সেটা খাওয়ার পর অথবা কাজের বিরতির সময়ে। আপনি যখন মনে রাখবেন আপনার ধূমপান করার সময় কখন, তখন আপনি সেই সময় আসার আগেই নিজের মনকে মোটিভেট করতে পারবেন অন্য কোনো কাজের জন্য।

* আপনি যে ধূমপান ছাড়বেন সেটা সবার সঙ্গে শেয়ার করুন। পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে শেয়ার করলে আপনার দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং তাদের কাছে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পাবেন যে আপনি তাদের কাছ থেকে কি চান, সাধারণত হয়ত চাইবেন কেউ যেন আপনার সামনে ধূমপান না করে। কোনো বন্ধুকে আপনার সঙ্গেই ধূমপান ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করুন। সবার সাপোর্ট ধূমপান ছাড়তে অনেকখানি সহায়তা করে।

* নতুন কিছু করুন এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। এমন কিছু যা আপনাকে শারীরিকভাবে ধূমপান থেকে বিরত রাখে। কিছু উদাহরণ হতে পারে সাঁতার কাটা, ইয়োগা করা ও সামাজিক কাজকর্ম করা।

* নিজেকে প্রতিদিন পুরস্কৃত করুন ধূমপান না করার জন্য। একটি জার বা মাটির ব্যাংকে টাকা জমান প্রতিদিন যে টাকা আপনি ধূমপানের জন্য ব্যয় করতেন। কিছুদিন পর দেখবেন এত বেশি টাকা জমে গেছে যেটা দিয়ে আপনি হয়ত খেলাধুলার কিছু কিনতে পারছেন অথবা নিজের শারীরিক আরামের জন্য কোনো কিছু কিনতে পারছেন।

লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসাল্টেশান সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা

mohammadrahmandr@gmail.com