প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:ইসলামিক স্টেটের সাথে সংশ্লিষ্ট বোমা হামলাকারীরা ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলগুলোতে হামলা চালানোর পর জাতীয়তাবাদীরা নিজেদের দোষমুক্ত বলে অনুভব করেন। শ্রীলঙ্কার সর্ববৃহৎ জাতীয়তাবাদী গ্রুপ বোদু বল সেনার (বৌদ্ধ শক্তি সেনা) সিনিয়র প্রশাসক দিলান্থে উইথানেজ বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলাম যে মুসলিম উ*গ্রপন্থীরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক হু*মকি। তিনি বলেন, ইসলামী উ*গ্রপন্থাকে উপেক্ষা করায় সরকারের হাতে রক্ত লেগেছে।

 

কয়েক বছরের মধ্যপন্থী জোট শাসনের কারণে শ্রীলঙ্কায় ধর্ম ও উপজাতিবাদের একত্রীকরণের একটি সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এ আন্দোলনের অগ্রভাগে রয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গোটাবায়া রাজাপক্ষে। তিনি চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নেতৃস্থানীয় প্রার্থী। রাজাপক্ষে দেশে সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতার ধারায় ধর্মকে সুরক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যা সংখ্যালঘু তামিল জাতিগোষ্ঠীর সাথে প্রায় তিন দশকের গৃহযুদ্ধ চলাকালে নির্মাণ করা
হয়েছিল।

 

২০০৬ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা গোটাবায়া রাজাপক্ষের ভাই মহিন্দা রাজাপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিনি ছিলেন খোলাখুলি জাতীয়তাবাদী ধারার। তিনি দেশেরগৃহযুদ্ধ অবসানে নিষ্ঠুরতার পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন এবং নিজেকে দেশের আধ্যাত্মিক রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন।

 

শ্রীলঙ্কার মন্দিরগুলোর দেয়াল রাজাপক্ষে ভাইদের ছবি দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উৎসাহ প্রদানকারী উগ্রপন্থী বৌদ্ধগ্রুপগুলোর জন্য টাকা ঢালা হয়েছে যেগুলোতে মুসলিমরা নিহত হয়েছে। বোদু বল সেনার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাকে রাজধানী কলম্বোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি বহুতল বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দেয়া হয়েছে। জাতীয় টেলিকম সার্ভিস বদু বল সেনার থিম সংকে তাদের রিং টোনোর সঙ্গীত সংগ্রহে যুক্ত করেছে।

 

গত বছর বদু বল সেনার নেতা গালাগোদা আথথি জ্ঞানসারা থেরোকে ৬ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে গত মে মাসে তিনি প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রাপ্ত হন। রবিবার তিনি হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুর এক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এর অর্থ আসছে নির্বাচনে বদু বল সেনার রাজনৈতিক উপস্থিতির কথা জাহির করা।

 

গত বছর কারাদন্ডিত হওয়ার আগে জ্ঞানসারা থেরো তার আন্দোলনকে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করেন। দ্য টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আড়াই হাজার বছর ধরে আমরা বৌদ্ধধর্মের অভিভাবক। এখন মিয়ানমারের বৌদ্ধদের মত আমাদেরও কর্তব্য আমাদের শান্তিপূর্ণ দেশটিকে ইসলাম থেকে রক্ষার জন্য লড়াই করা।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের প্রতি সশস্ত্র লড়াইয়ের আহ্বান। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের মত জাতিগোষ্ঠীগত নির্মূলের আহ্বান। এভাবে শান্তির ধর্ম হিসেবে পরিচিত বৌদ্ধধর্ম জাতীয়তাবাদের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।