প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:ইরানের পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন এখনো কোনো গুরুতর বিষয় নয় এবং তা সংশোধন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)।

সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের পর ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘেরিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ইরানের সঙ্গে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর উত্তেজনা নিরসন ও দেশগুলোর পরমাণু চুক্তি বহাল রাখার বিষয় প্রাধান্য পায়। খবর বিবিসি’র।

তিনি বলেন, ‘ইরানের পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন এখনো কোনো গুরুতর বিষয় হয়ে ওঠেনি। তাদের এই পদক্ষেপ সংশোধন করাৃৃ সম্ভব। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে এবং চুক্তি লঙ্ঘন হয় এমন পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে আমরা ইরানকে আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে এই চুক্তির পর পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো এখন পর্যন্ত যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তাদের যে সব পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, এগুলোর সবই সংশোধনযোগ্য। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ইরানের এই পদক্ষেপকে এখনো গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছে না। তাই তারা এমন কোনো বিরোধে জরাবে না, যাতে ভবিষ্যতে আরও কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হয়।’

এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রশ্নে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে রবিবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপের তিন ক্ষমতাধর দেশ। তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় তারা এ আহ্বান জানায়। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে ২০১৫ সালে করা চুক্তিটি ফের ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়ায় ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের দেওয়া বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘এটি টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তার বিষয়টি তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে উপায় খুঁজে বের করার জন্য ফের সংলাপের সময় এসেছে।’

এর আগে, চলতি বছরের মে মাস থেকে চুক্তি নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় ইরান। এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এটি পারমাণবিক বোমা উৎপাদনেও ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তি থেকে সরে যাওয়া ও দেশটির উপর নিষেধাজ্ঞা পুনঃবহালের ফল হিসেবেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান।

আর এর ফলে ক্রমাগত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এমনকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে একই মাসের প্রথম দিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানী বলেছিলেন, ‘আমরা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশে বিক্রির পরিবর্তে সংরক্ষণ করবো। এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন শুরু করবো।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তির পর ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর থেকে বিভিন্ন ধরনের অবরোধ উঠিয়ে নিয়ে ইরানকে দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন এবং দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ারও কথা ছিল।

বলা হয়, জ্বালানি তেলসহ ইরানের বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিনা বাধায় বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ২০১৮ সালের মে মাসে ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তারপর ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে দেশটি। এতে চুক্তিটি প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে।