প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   যৌ*ন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এবারের উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের (আলিম) পরীক্ষায় মাত্র দুটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। কোরআন মাজিদ ও হাদিস বিষয়ের পরীক্ষায় নুসরাত ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে না পারায় তাকে অনুত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

 

 

 

 

 

তবে নুসরাতকে অনুত্তীর্ণ মানতে নারাজ তার স্বজনরা। নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দাবি, ‘আমার বোন ফেল করিনি। দুই বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পেরেছে, দুই বিষয়ে পাশ করেছে। আমি মনে করি আমার বোন আলিম পাশ।’

 

 

 

 

 

কোরআন ও হাদীস পরীক্ষা ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলে হাদিস পরীক্ষায় নুসরাত জাহান রাফি ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। এ গ্রেডের প্রাপ্ত নম্বর থাকে ৭০-৮০ এরমধ্যে।

 

 

 

 

 

জানা যায়, ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তৃতীয় দিন আরবি প্রথম পত্র (৬ এপ্রিল) নুসরাত রাফির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় খুনিরা। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। ফলে কোরআন ও হাদিস বিষয়ের পরীক্ষা বাদে বাকি পরীক্ষাগুলো দেওয়া হয়নি তার।

 

 

 

 

 

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে। নুসরাতসহ ২৭ অকৃতকার্য হয়। এ মাদ্রাসায় এবার পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

 

 

 

 

 

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন বলেন, ‘নুসরাত সবগুলো পরীক্ষা দিতে পারলে ভালো ফল করত। লেখাপড়ার প্রতি মেয়েটার কতটা আগ্রহ থাকলে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমি মনে করি সে আলিম পরীক্ষা থেকেও বড় পরীক্ষায় পাশ করেছে। খোদ নিজ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।’

 

 

 

 

 

 

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা যৌন নির্যাতন করে। এ ঘটনায় সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলা তুলে না নিতে রাজি না হওয়ায় আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গিয়ে গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অধ্যক্ষের সমর্থকদের দেওয়া আগুনে ঝলসে যায় নুসরাতের শরীর। পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। ফলে কোরআন ও হাদিস বিষয়ের ওই একটি পরীক্ষা বাদে বাকি পরীক্ষাগুলো দেওয়া হয়নি তার।

 

 

 

 

 

 

এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০ জুন থেকে এ মামলার বিচার শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আট জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।